শুভ কামনা বাংলাদেশ ক্রিকেট দল

আপডেট : ০৭ জুলাই ২০১৯, ২১:৪৯

মানুষের আশার ফানুস নাকি অসীম আকাশকেও ছাপাইয়া যায়। বলা হয়, মানুষ তাহার স্বপ্নের সমান বড়ো। কিন্তু যে কোনো আশা বা স্বপ্নেরও একটি পটভূমি থাকে, নেপথ্য সমীকরণ থাকে। বাংলাদেশের এইবারের ক্রিকেট বিশ্বকাপও তাহার ব্যতিক্রম নহে। আমাদের আশা ছিল বাংলাদেশ দল অন্ততপক্ষে সেমিফাইনাল অবধি পৌঁছাইবে। এমনকি শুরুটাও বেশ চমত্কার করিয়াছিল বাংলাদেশ। শক্তিশালী দক্ষিণ আফ্রিকা এবং এককালের ক্রিকেট পরাশক্তি ওয়েস্ট ইন্ডিজকে বাংলাদেশ হারাইয়া দেয় বেশ সহজেই। অস্ট্রেলিয়ার সহিতও রানের পাহাড়ে চাপা পড়িয়া দুর্দান্ত ক্রীড়ানৈপুণ্য দেখাইয়াছে টাইগাররা। তবে শেষাবধি আশার তরি সন্নিকটে আসিয়াও আর কূল খুঁজিয়া পায় নাই। বলা যায়, অল্পের জন্য সেমিফাইনালের স্বপ্ন ভাঙিয়া যায় বাংলাদেশের। তবে তাহাতে হতাশা বা ব্যথিত কিংবা দুঃখভারাক্রান্ত হইবার কোনো কারণ নাই।

মাত্র দুই যুগের অভিজ্ঞতায় বাংলাদেশ ক্রিকেট দল বিগত কয়েক বত্সরে যেই সমীহযোগ্য উচ্চতায় পৌঁছাইয়াছে, তাহা কম গুরুত্বপূর্ণ নহে। এককালে বাংলাদেশ বড়ো দলগুলির সহিত খেলিবার আগেই হারিয়া বসিয়া থাকিত। টাইগাররা এখন সেই হীন মানসিকতাকে পিছনে ফেলিয়াছে যোজনপথ দূরে। বরং বিশ্বের প্রতিষ্ঠিত সকল বড়ো দলকেই নিয়মিত হারাইয়াছে বাংলাদেশ। ইতঃপূর্বে হোম সিরিজে নিউজিল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, জিম্বাবুয়েকে হোয়াইট ওয়াশ করিয়াছে। অন্যান্য বড়ো দলগুলিকেও একাধিকবার হারাইয়াছে বাংলাদেশ। সুতরাং বিশ্বকাপের মতো বড়ো আসরে বাংলাদেশ দলের সেমিফাইনালের টার্গেট খুব অস্বাভাবিক ছিল না। টুর্নামেন্টের একেবারে শেষ অবধি পাঁচ নম্বর স্থানটি ধরিয়াও রাখিয়াছিল বাংলাদেশ। আশা ছিল যে, ভারত ও পাকিস্তানকে হারাইয়া সেমিফাইনালে উত্তীর্ণ হইবার পথটি প্রশস্ত করিতে পারিবেন টাইগাররা। সেই আশা পূর্ণ হয় নাই। তবে ইহাকে বড়ো কোনো ব্যর্থতা বলিয়া বিবেচনা করিবারও কোনো কারণ নাই। বরং বলা যায়, অন্যান্য বড়ো দলের তুলনায় আমরা যথেষ্টই নবীন। তবে নবিশ নহি। বিশ্বকাপে সবচাইতে বেশি রান তাড়া করিয়া জিতিবার রেকর্ডটি এখন বাংলাদেশের। ব্যক্তিগত রেকর্ডের ক্ষেত্রে সাকিবের কর্তৃত্বকে শুধু ‘অসাধারণ’ বলিলেও যেন কম বলা হয়। এই বিশ্বকাপের মাধ্যমে ওয়ানডেতে ইতিহাসের চতুর্থ খেলোয়াড় হিসাবে ৫ হাজার রান, ২৫০ উইকেট ও ৫০ ক্যাচ নেওয়ার বিরল কৃতিত্ব একমাত্র সাকিবের। সব মিলাইয়া এইবারের বিশ্বকাপটি হইয়া উঠিয়াছিল সাকিবময়। তাহা ছাড়া, মোস্তাফিজুর রহমান পরপর দুই ম্যাচে পাঁচ উইকেট যেমন লইয়াছেন তেমনি ওয়ানডেতে চতুর্থ দ্রুততম বোলার হিসাবে ১০০ উইকেটের মাইলফলক ছুঁইয়াছেন। ইহা ছাড়াও মুশফিকুর রহিম, তামিম, মাহমুদুল্লাহর মতো সিনিয়র ক্রিকেটারদের পাশাপাশি সাইফুদ্দিন, মিরাজ, মোসাদ্দেক, লিটন দাসের মতো তরুণ ক্রিকেটাররা তাহাদের প্রতিভা বিচ্ছুরণ ছুঁটাইয়াছেন। সুতরাং বাংলাদেশের ক্রিকেটের অগ্রযাত্রার পথে এইবারের বিশ্বকাপটি অনেক বড়ো পাথেয় হইয়া থাকিবে।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট-অঙ্গনে সমানতালে ছন্দ মিলাইবার জন্য যাহা দরকার, যেইরূপ অবকাঠামো—বোলিং, ব্যাটিং, ফিল্ডিং কোচ, মনোবিদের সহায়তা দরকার—তাহা বাংলাদেশ দলের আছে। জয় যেমন উচ্চাশা বাড়াইয়া দেয়, পরাজয়ও তেমনি অনেক বড়ো শিক্ষা দেয়। জয় মানেই শিরাসন, পরাজয় মানেই একপেশে গালিবর্ষণ—এই ধারা হইতেও বাহির হইতে হইবে ক্রিকেট অনুরাগীদের।  অভিনন্দন ও শুভ কামনা রইল বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের জন্য।