খাদ্যে ভেজাল :সকলের সচেতনতাই বড়ো প্রতিরোধ

আপডেট : ০৭ জুলাই ২০১৯, ২১:৪৯

খাদ্যনিরাপত্তার কথা আমরা সকলেই বলিয়া থাকি। কিন্তু তাহা কি কেবল কথার কথা? এত হইচই, এত নজরদারির পরও কেন সবকিছুতেই ভেজালের অস্তিত্ব পাওয়া যায়? পরিবেশ দূষণের ন্যায় খাদ্যদূষণ ব্যাপক আকার ধারণ করিয়াছে। গোটা দেশকে এই ভেজাল হইতে মুক্ত করিবার উপায় কী?

এত এত হাসপাতাল, এত এত ডাক্তার, এত এত ক্লিনিক, এত এত মূল্যবান ঔষধ প্রয়োজন হইতেছে কেন—তাহা আমাদেরই ভাবিয়া দেখিতে হইবে। প্রতিদিন যে খাদ্য আমরা গ্রহণ করি তাহার মধ্যে প্রায় ৩০-৪০ ভাগ শাকসবজি, ফলমূল, কিংবা মাছ-মাংস রহিয়াছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত শুধু ফলমূল, মাছ-মাংসের সঙ্গে নীরব ঘাতক হিসাবে ধীর গতিসম্পন্ন বিষও খাইয়া থাকি, যাহা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রথমে কিডনি, পরে লিভারের উপর আঘাত হানিয়া থাকে। অতঃপর ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া সর্বশরীরে ছড়াইয়া পড়ে। আমরা জানি, মাছ, সবজি, ফলমূলে কেমিক্যাল প্রয়োগ করিয়া ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটগুলি যতটুকু আর্থিক লাভবান হয়, তাহার চাইতে অনেক বেশি ক্ষতি হয় জনগোষ্ঠী—সর্বোপরি জনস্বাস্থ্যের। শুধু দেশের অভ্যন্তরের নয়, দেশের বাহির হইতে আসা বেশিরভাগ ফল ঘরে রাখিলে সহজে নষ্ট হয় না বা পচে না, অনেক দিন একই রকম থাকে। ইহাও কেমিক্যালের গুণে। জানা যায়, আঙুর, আপেল, নাশপাতি, কমলালেবু ইত্যাদি আমদানি করা ফলের মধ্যে মিশানো হয় ফরমালিন, কারবাইড জাতীয় কেমিক্যাল। কার্বাইডে পাকানোর ফলে আসল স্বাদ যেমন পাওয়া যায় না, তেমনি উপকারের বদলে উলটা দেখা দেয় রোগব্যাধি। সেজন্য ভোক্তাকেই স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য অধিক সচেতন হইতে হবে।

অতীব দুঃখের বিষয়, মাঝে-মাঝে পত্রপত্রিকা ও টেলিভিশনে দেখা যায় যে, সরকারি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বিভিন্ন দোকানে যাইয়া জরিমানা এবং দোকান সিলগালা করিতেছেন। কিন্তু এই ভেজাল-প্রবণতা কোনোক্রমেই দমন করা যাইতেছে না। এর অবসান কীভাবে হইবে সেই প্রশ্ন থাকিয়াই যাইতেছে।

জনস্বার্থ রক্ষার স্বার্থে এইসব দুষ্কর্ম বন্ধ করিতে হইবে।  কিন্তু শুধু অভিযান চালাইয়া কি এত বড়ো দেশের  এই অধিক মুনাফার লোভ দমন করা  যাইবে? আমরা তাহা মনে করি না।  ইহার জন্য সর্বাগ্রে প্রয়োজন নিজেদের সচেতনতা। গ্রাহকরা যদি কেমিক্যাল মিশাইয়া বিক্রি করা খাদ্যদ্রব্য ক্রয় পরিত্যাগ করিতে পারে, তাহা হইলে দ্রুত কেমিক্যাল মিশাইবার প্রবণতা বন্ধ হইতে বাধ্য। এইজন্য সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে আগাইয়া আসিতে হইবে এবং অঙ্গীকার ও প্রত্যয় ব্যক্ত করিতে হইবে যে, আমরা বিষমুক্ত, ভেজালমুক্ত খাদ্য খাইব এবং জনস্বার্থের ব্যাপারে সচেতন হইব।  মোদ্দা কথা, যে কোনো মূল্যেই হউক আমাদের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করিতে হইবে। এই প্রবণতা বন্ধ হইলে নূতন প্রজন্মও সুস্বাস্থ্য লইয়া বাড়িয়া উঠিতে পারিবে।