ধর্ষকদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে

আপডেট : ০৭ জুলাই ২০১৯, ২১:৫১

উম্মে ফারিয়া মৌমনি

বর্তমানে সবচেয়ে আলোচিত এবং এশিয়াতে বহুল ঘটিত একটি ক্রাইম যার নাম ধর্ষণ। আসলে ধর্ষণ নিয়ে বলতে গেলে কোথায় শুরু করবো আর কোথায় শেষ করবো ঠিক বুঝে উঠতে পারি না।

সালটা এখন ২০১৯, মানুষ এগিয়ে গেছে প্রযুক্তিতে, এগিয়ে গেছে চিন্তায়। কিন্তু আমার মতে- প্রযুক্তিতে এগিয়ে গেলেও এগিয়ে যেতে পারেনি চিন্তায়। যেখানকার মানুষ বছরের শুরুই করে ধর্ষণের মাধ্যমে। উদযাপনের মাধ্যমে।

গত তিন-চার দিনে দৈনিক পত্রিকায় আসা ধর্ষণের সংবাদে দেখা যায় যারা ধর্ষিতা হয়েছে তারা সবাই প্রায় শিশু নয়তো কিশোরী। ৯ মাসের বাচ্চা, ৫ মাসের বাচ্চার ধর্ষণের খবরও এ বছর পড়েছি। নিজেকে মানুষ ভাবতেই ঘৃণা হচ্ছে। আর মেয়ে ভাবতে ভয় হচ্ছে। আসলে আমরা মেয়েরা কোথায় নিরাপদ? কার কাছে? কারও কাছেই না। এমনকি শিক্ষক? ধর্মের রক্ষক? তারও কাছেই না। ধর্ম কখনো ধর্ষণ করতে বলে না।

মূল কথায় আসি। বাঙালি সমাজ আমরা যৌন বিষয়ক কথাবার্তা থেকে সমাজের ভেতর দূরেই থাকি। তাতে কি? আমাদের ইনবক্স চেক করুন। নিজের অশোভন ছবি বিভিন্ন নারীদের দেওয়াসহ নানান রকম নোংরা কথা মেসেজ করি বিভিন্ন নারীকে। কারা ধর্ষক জানেন? এরাই পোটেনশিয়াল ধর্ষক, এরা ভদ্রতার মুখোশ পরে চালিয়ে যায় তাদের ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড। কেউ ধরতে পারে না। ধরবেই বা কি করে? তারা তো যৌনকে যৌন বলতেই লজ্জা পায়। আর দোষ দেয় পোশাকের। একটি বাচ্চার ডায়পার তোমাকে আকৃষ্ট করে । তুমি কুকুরের থেকেও অধম।

বাচ্চারা জানতেও পারে না তাদের সঙ্গে কি হচ্ছে? তার আগেই তারা দেখে ফেলে দুনিয়ার নোংরা রূপ। এই নোংরা কাজগুলো যারা করছে তারা কিন্তু এই সমাজে বসবাস করা আমাদের মতোই মানুষ। আমাদেরই ভাই, বাবা, চাচা, খালু, মামা, দাদা বা নানা। সমাজে বাস করেও এই পশু টাইপ মেন্টালিটির কিছু কারণ পয়েন্টআউট করা যায়, কারণ কোনো মানুষ ধর্ষক হয়ে জন্মায় না।

পর্ণগ্রাফি এমন একটি নিষিদ্ধ জিনিস যেটা এখন পাওয়া যায় প্রায় যুবক, বৃদ্ধ, শিশু অনেকের ফোনেই। যার অধিকাংশই অভিনয় বাস্তবতার সঙ্গে মিল নেই এবং বাস্তবে পরিণত করার চেষ্টা বিপজ্জনক সেগুলোই অনেক কম বয়সে চলে যাচ্ছে তাদের হাতে। যৌন শিক্ষা তারা নিচ্ছে এসব মানহীন অতিরঞ্জিত পর্ণফিল্মে। এটা উদ্বুদ্ধ করছে মানুষকে নোংরা লালসা fantasy বাস্তবায়ন করায়। অনেকে জানছেই না যে, এগুলো অবাস্তব, অসম্ভব, অস্বাভাবিক ।

শিশুদের বিভিন্ন সময় খাবারের, খেলনার প্রলোভন দেখিয়ে, ফুসলিয়ে নিয়ে গিয়ে তাদের সঙ্গে এ জাতীয় নোংরা ব্যবহার তারা করে। তাই সকল অভিভাবক এবং আমাদের সবার উচিত শিশুদেরকে বুঝিয়ে দেওয়া কোন্ স্পর্শ খারাপ এবং কোন্টা ভালো। তাদের শরীরের অঙ্গ সম্পর্কে তাদের সচেতন করা উচিত। এর এই দায়িত্ব পরিবারের বড়দের।

জন্মের পরই এই বিষয়গুলোকে নিষিদ্ধ করে সবার মাথায় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। তাই এই কীটের জন্ম তাদের ঐ নিষিদ্ধ আকাঙ্ক্ষা থেকেই জন্ম নেয়। আমি জানি না আসলে এটা বন্ধ করা যাবে কিনা। তবে আমি চাই সমাজে এটা নিয়ে কথা হোক। সবার সঙ্গে বাচ্চার বাবা-মায়েরা সচেতন হোক তবেই হয়তো একটু হলেও লাঘব করা সম্ভব এই ক্ষতি। এটা কোনো ব্যক্তিবিশেষের ক্ষতি না। ধর্ষণ সমাজের ক্ষতি, সংস্কৃতির ক্ষতি, মূল্যবোধের ক্ষতি, মানবতার ক্ষতি। আর এই ক্ষতি রুখে দাঁড়াতে হবে আমাদের সবাইকে। ব্যক্তিগতভাবে, সাংগঠনিকভাবে। তবেই সম্ভব হবে সমাজ থেকে ধর্ষণ নামক কিটের ধ্বংস।

n লেখক :শিক্ষার্থী, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়