বিজেপিতে যাচ্ছেন নুসরাত?

আপডেট : ০৭ জুলাই ২০১৯, ২২:২০

বিশ্বপ্রবাহ ডেস্ক

 

সবেমাত্র তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে ভোটে জিতে লোকসভায় গিয়েছেন, আর এর মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের হালের জনপ্রিয় নায়িকা নুসরাত জাহানের বিজেপিতে যোগদানের জল্পনায় সরগরম হয়ে উঠেছে রাজ্যটির রাজনীতি। লোকসভায় শপথ গ্রহণের দিন এই তারকার বেশভুষা নিয়ে বিতর্কের মাঝেই তার রাজনৈতিক ডিগবাজির সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন বসিরহাটের সাবেক এমপি তৃণমূল নেতা ইদ্রিস আলী। ভারতের জনপ্রিয় পত্রিকা ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে তিনি বলেছেন: ‘নুসরাত যেভাবে তার সাজ পরিবর্তন করেছেন তাতে আমার মতো অনেকের সন্দেহ হচ্ছে তিনি নরেন্দ্র মোদির দলে ভিড়তে যাচ্ছেন কি না।’ সদ্য শেষ হওয়া লোকসভা নির্বাচনে অন্য দলগুলোকে হতাশায় ডুবিয়ে বিজেপি যে বিশাল জয় পেয়েছে তাতে তৃণমূল থেকে বিজেপিতে নাম লেখানোর হিড়িক পড়েছে। একই পরিস্থিতি কংগ্রেসসহ অন্যান্য দলেও। এ কারণে টলিউডের এই তারকা সম্পর্কে ইদ্রিসের এমন মন্তব্যে রাজনীতিতে গরম হাওয়া বইছে।

 কেন এমন সন্দেহ ইদ্রিসের: নুসরাতের ‘আচরণ’ নিয়ে দলের অন্দরে ‘বিভ্রান্তি’ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইদ্রিস। সিঁদুর-মঙ্গলসূত্র পরে সংসদে গিয়ে বিতর্কের মুখে পড়েছেন তিনি। পাশাপাশি লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে প্রণাম করা নিয়েও জোর সমালোচনা শুরু হয়েছে। এ কারণে তার বিজেপিতে যোগদান নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে তৃণমূলে। বসিরহাটের সাবেক এই তৃণমূল এমপি বলেন, ‘আমাদের মূল শত্রু বিজেপি। আমাদের দলনেত্রী মমতা ব্যানার্জি বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। সেখানে নুসরাত প্রধানমন্ত্রী মোদির ভাষণের ভূয়সী প্রশংসা করছেন। আমাদের কোনো এমপি কিংবা নেতা প্রধানমন্ত্রীর ভাষণকে সমর্থন করছেন না, সেখানে এই তারকা অভিনেত্রী মোদির ভাষণকে বাহবা দিচ্ছেন। এটা তো একপ্রকার দলের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ। তাই তার দলত্যাগের বিষয় নিয়ে অনেক আলোচনা চলছে।’

ইদ্রিস আরো বলেছেন: ‘তিন তালাক নিয়েও দলের অবস্থানের                    বাইরে গিয়ে মন্তব্য করেছিলেন নুসরাত। বিষয়টি নিয়েও বেশ সমালোচনা হয়েছিল। অরাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের এভাবে হঠাত্ সুযোগ দিলে এমনই হয়’। এই সমালোচনা নিয়ে নুসরাতের অবস্থান পরিষ্কার করতে অনুরোধ করেছেন তৃণমূল নেতা। তার দাবি- স্বামীর অনুরোধেই ভোল পাল্টাচ্ছেন তিনি।

এদিকে তৃণমূল থেকে কড়া সমালোচনার শিকার হলেও এসব বিতর্কে নুসরাতের পাশে দাঁড়িয়েছেন বিজেপির লকেট চট্টোপাধ্যায় এবং শাহানওয়াজ হুসেন। রাজ্য ও জাতীয় স্তরের এই দুই বিজেপি নেতা-নেত্রীর এমন ‘সমর্থন’ তৃণমূলের সন্দেহবাদিদের মনে আরো সন্দেহ দানা বেঁধেছে। যদিও যাকে নিয়ে এমন বিতর্ক তিনি জবাব দেননি এখনো।