শুক্রবার, ২১ জুন ২০২৪, ৬ আষাঢ় ১৪৩১
The Daily Ittefaq

কড়া সমালোচনায় রুশ উপমন্ত্রী

‘সমকামিতা দিয়ে নৈতিক-সাংস্কৃতিক-ধর্মীয় ভিত্তিকে লক্ষ্যবস্তু করছে পশ্চিমারা’

আপডেট : ০৮ জুন ২০২৪, ১৩:০৪

পশ্চিমারা দীর্ঘদিন ধরে সম্মিলিতভাবে ‘এলজিবিটি’ তথা ‘সমকামী জাতীয়তাবাদী’ আন্দোলন দিয়ে রাশিয়ার নৈতিক ও সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় ভিত্তি, বিবাহ ও পরিবারের প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে বলে জানিয়েছেন দেশটির উপ-বিচারমন্ত্রী ওলেগ সভিরিদেনকো। তিনি বলেন, এই কারণেই রাশিয়ায় ‘এলজিবিটি আন্দোলন’ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর মতাদর্শ ঐতিহ্যগত মূল্যবোধকে বিপন্ন করে। খবর আরটি'র

স্থানীয় সময় শুক্রবার (৭ জুন) সেন্ট পিটার্সবার্গ ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিক ফোরামে (এসপিআইইএফ) তিনি এ কথা বলেন।

ওলেগ সভিরিদেনকো বলেন, ‘এলজিবিটি আন্দোলন’ একটি ধ্বংসাত্মক মতাদর্শের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে, যা রাশিয়ার সংস্কৃতি ও জনসংখ্যার জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে। এটি শেষ পর্যন্ত লিঙ্গ যুদ্ধের সূত্রপাত করতে পারে।

২০২৩ সালে রাশিয়ায় সমকামী ধাঁচের আন্দোলন নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের বিষয়ে ওই কর্মকর্তা জানান, তার মন্ত্রণালয় দীর্ঘদিন ধরে এই গোষ্ঠীর সাথে যুক্ত ব্যক্তিদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেছে। ১৯৮৪ সাল থেকে রাশিয়ায় এই কার্যক্রম পশ্চিমাদের দ্বারা পরিচালিত হয়েছে, যা পরিবার ও বিবাহের ঐতিহ্যগত মূল্যবোধ ভেঙে ফেলার ধ্বংসাত্মক মতাদর্শ ছড়িয়ে দিচ্ছে। এটি রাশিয়ার জনসংখ্যার পরিস্থিতির জন্য হুমকি তৈরি করছে।

সভিরিডেঙ্কো দাবি করেছেন, সমকামী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্তরা বিভিন্ন সংস্থা ও এনজিওগুলোর কাছ থেকে তহবিলের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, নেদারল্যান্ডস ও সুইডেনের মতো দেশ থেকে নানা অনুদান পেয়েছে। সংগৃহীত প্রমাণের ভিত্তিতে রাশিয়ান কর্তৃপক্ষ অবশেষে এই আন্দোলন নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কারণ আন্তর্জাতিক এলজিবিটি সম্প্রদায়কে একত্রিত করার ভিত্তি এমন একটি মতাদর্শ, যা রাশিয়ান সমাজের নৈতিক ভিত্তি ধ্বংস করে।

তিনি বলেন, এলজিবিটি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা, তারা সহজেই চরমপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে। সংশ্লিষ্ট মতাদর্শিক পরিকল্পনা ও বিভিন্ন ধরনের চরমপন্থী প্রকাশের বাহক হয়ে ওঠে। লিঙ্গ চরমপন্থা এবং সমকামী জাতীয়তাবাদের আকারে তাদের কর্মকাণ্ডে 'সর্বাত্মক লিঙ্গ যুদ্ধের' আহ্বান রয়েছে।

রাশিয়া ২০১০ এর দশকের গোড়ার দিক থেকে ‘এলজিবিটি আন্দোলন’ সম্পর্কিত আইন কঠোর করছে। প্রথমে অপ্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে এর প্রচার নিষিদ্ধ এবং ২০২২ সালে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে নিষেধাজ্ঞা এসেছে।

গত বছরের জুলাইয়ে রুশ সরকার ‘জন্মগত অস্বাভাবিকতার চিকিৎসার জন্য হস্তক্ষেপের প্রয়োজন’ ব্যতীত সমস্ত বয়সের লোকদের জন্য লিঙ্গ পুনঃনির্ধারণ নিষিদ্ধ করে। এছাড়া নভেম্বরে রাশিয়ান সুপ্রিম কোর্ট ‘আন্তর্জাতিক এলজিবিটি গণ আন্দোলনকে’ একটি ‘চরমপন্থী সংগঠন’ হিসাবে ঘোষণা করেছে এবং দেশে এর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে।

রাশিয়ায় করা এই আইনগুলো পশ্চিমা কর্মকর্তা এবং মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলোর কাছে অনেক সমালোচিত হয়েছে। কাউন্সিল অব ইউরোপের মানবাধিকার কমিশনার দুনজা মিজাতোভিচ বলেছেন, এই আন্দোলনকে চরমপন্থী হিসেবে আখ্যায়িত করা ‘মৌলিক মানবাধিকার মানদণ্ডের লঙ্ঘন’। এর আগে ইউরোপিয়ান কোর্ট অব হিউম্যান রাইটস দাবি করেছিল, ‘এলজিবিটি প্রোপাগান্ডা’ নিষিদ্ধ করার আইনটি গণতান্ত্রিক সমাজের মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন চলতি বছরের শুরুতে বলেছিলেন, রুশ কর্তৃপক্ষ এলজিবিটি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের তাদের ‘ব্যক্তিগত পছন্দের’ জন্য কঠোর ব্যবস্থা নেবে না। আইনগুলো কেবল তাদেরকেই লক্ষ্য করে করা হয়েছে, যারা জনসমক্ষে তাদের ‘এলজিবিটি জাহির’ করে বা শিশুদের এর সঙ্গে জড়িত করে।

ইত্তেফাক/এসকে