বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

সুযোগ পেয়েও টাকার অভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারছেন না আমেনা

আপডেট : ০৮ জুন ২০২৪, ২২:০০

ভর্তি পরীক্ষায় মেধাতালিকায় জায়গা হলেও অর্থের অভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারছেন না সাতক্ষীরার তালা উপজেলার মাগুরা গ্রামের মেধাবী ছাত্রী আমেনা খাতুন। 

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে মেধা তালিকায় ১৮১৩ ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০৯৩তম মেধা তালিকায় এসেছে আমেনা খাতুনের নাম। এ ছাড়া গুচ্ছে ৭২৫তম স্থানে রয়েছে। তবে মেধা তালিকায় স্থান পেলেও তার ভর্তিতে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।

আমেনা খাতুনের পিতা কুদ্দুস আলী সরদার একজন দিনমজুর। অন্যের জমিতে কাজ করে তার সংসার চলে। শারীরিক কিছুটা অসুস্থ কুদ্দুস আলী স্ত্রী ও তিন সন্তান নিয়ে সংসারে ঘানি টানতে বাধ্য হয়েই দিন মজুর এবং শ্রমিকের কাজ করতে হয়। তার মা মর্জিনা বেগম মাগুরা বাজারে রাইচ মিলে শ্রমিকের কাজ করে।

কুদ্দুস আলী সরদার বলেন, সম্পদ বলতে ১২ শতক ভিটেবাড়ি ছাড়া আমার আর কিছু নেই। সংসার জীবনে আমার এক ছেলে ও দুই মেয়ে। আমেনা খাতুন সবার ছোট।  বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে গেলে অনেক টাকার প্রয়োজন। যা আমাদের পক্ষে যোগাড় করা সম্ভব নয়। আর ভর্তি হতে না পারলে আমেনার জীবনের সব স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে যাবে। যদি কোনো সহৃদয়বান ব্যক্তি আমেনার সুন্দর ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে আসেন তাহলে এই মেধাবী আমেনা কৃতজ্ঞতাপাশে আবদ্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে দারিদ্রকে জয় করে বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাওয়া আমেনা খাতুন জানান, আমি এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় পরীক্ষায় ‘এ প্লাস’ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিও সুযোগ পেয়েও বাবার পক্ষে ভর্তির এতগুলো টাকা জোগাড় করা সম্ভব নয়। খুশি হয়েছিলাম চান্স পেয়ে। কিন্তু ভর্তি বা টাকার চিন্তায় সব কিছু এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়ার স্বপ্ন মনে হয় আমার পূরণ হবে না।

আমেনা খাতুন আরও জানান, আমি গুচ্ছে ৭২৫তম স্থানে আছি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৮১৩ ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০৯৩তম স্থান পেয়েছি। কিন্তু অর্থের অভাবে ভর্তি হতে পারছি না। যদি কোনো সহৃদয় ব্যক্তি আমার ভর্তির সুযোগ করে দেন তাহলে আমি আমার ভবিষ্যৎ গড়তে পারব। এজন্য তিনি ০১৮২৫৬০১৬৮৮ মোবাইল নন্বরে যোগাযোগ করতে অনুরোধ করেছেন।

মাগুরা আইডিয়াল মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ রামপ্রসাদ দাশ জানান, আমেনা খুব মেধাবী ছাত্রী। আমাদের কলেজ থেকে সে জিপিএ ৫ পেয়ে এইচএসসি পাস করেছে। তার মেধা আজ এই পর্যন্ত নিয়ে আসছে। আমরা আমেনার সফলতা কামনা করছি।

ইত্তেফাক/পিও