শুক্রবার, ১৪ জুন ২০২৪, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

শাল্লায় সরকারি জমিতে মার্কেট নির্মাণ, ভাড়া আদায়ের অভিযোগ

আপডেট : ০৯ জুন ২০২৪, ২২:৩৩

সুনামগঞ্জের শাল্লায় বাহাড়া ইউনিয়নের প্রতাপপুর বাজারে সরকারি জমিতে মার্কেট  নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে একটি সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া দোকানঘরে ব্যবসায়ীদের বসিয়ে ভাড়া আদায় করছেন তারা। কেউ ভাড়া দিতে অস্বীকৃতি জানালে ঘরছাড়া করার হুমকিও দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। 

জানা গেছে, এই সিন্ডিকেটের মূলহোতা প্রতাপপুর গ্রামের ফুলচাঁন দাস, নিত্যানন্দ দাস নিতাই, প্রভাংশু দাস ও রবীন্দ্র দাস।

সূত্রে জানা যায়, সরকারের বন্দোবস্ত ছাড়াই সরকারি জমিতে দোকান কোটা তৈরি করে এই সিন্ডিকেট চক্রটি বেশ কয়েক বছর যাবত ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ভাড়া আদায় করছেন। সরকারি জায়গা হতে ভাড়া আদায় করলেও সরকারকে কোনো রাজস্ব দিচ্ছে না। এর মধ্যে ফুলচাঁন দাস ১১টি, নিত্যানন্দ দাস নিতাই ৩টি, প্রভাংশু দাস ১টি ও রবীন্দ্র দাস ৪টি দোকান থেকে লাখ লাখ টাকা ভাড়া আদায় করছেন।

সরজমিনে প্রতাপপুর বাজারের ব্যবসায়ী কিশোর দাসের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, আমি পাঁচ বছর ধরে এ দোকানে ব্যবসা করছি। ফুলচাঁন দাসকে প্রতিমাসে দুই হাজার টাকা দোকান ভাড়া দিয়ে আসছি। ত্রিশ হাজার টাকা জামানত হিসেবে অগ্রিমও দিয়েছি।

বাজারের ব্যবসায়ী রানু চন্দ্র দাস বলেন, উনার ব্যবসা পরিচালনার বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলায় অবৈধ দখলদার প্রভাংশু দাস ব্যবসায়ী রানুকে একদিনের মধ্যে দোকানের মালামাল সরাতে হুমকি দিয়ে আসছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী জানান, প্রতাপপুর বাজারটি সরকারিভাবে পেরীফেরি না হওয়ায় অনেকটা বাধ্য হয়েই ওইসব লোকদের মাসিক ভাড়া দিয়েই তাদের ব্যবসা করতে হচ্ছে।

ব্যবসায়ী প্রসেনজিৎ দাস জানান, তিনিও ফুলচাঁন দাসকে মাসিক ভাড়া দিয়েই ব্যবসা করে আসছেন।

ফার্মেসি ব্যবসায়ী ক্ষিতিন্দ্র দাস জানান, তিনিও নিত্যানন্দ দাস নিতাইকে মাসিক ভাড়া দিয়েই ব্যবসা করছেন।

এসব বিষয়ে অবৈধ দখলদার ফুলচাঁন দাসের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, আমি ঢাকায় একজন রোগী নিয়ে ব্যস্ত আছি। সপ্তাহ খানেক পরে এসে আপনার সঙ্গে দেখা করব। তবে প্রতাপপুর বাজারের সরকারি জমিতে আপনার ১১টি দোকান ঘর থাকার বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা সরকারি জমি না। তার ব্যক্তিমালিকানা জমিতে দোকান কোটা তৈরি করেছেন বলে জানান তিনি।

তবে প্রভাংশু দাস হুমকির বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আমি সরকারি জায়গায়ই দোকান করেছি। তাই ভাড়া নিচ্ছি। 

নিত্যানন্দ দাস নিতাইয়ের সঙ্গে কথা বলতে তার মুঠোফোনে বার বার কল করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন বলেন, বিষয়টি যেহেতু জানলাম, আমি আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/পিও