শনিবার, ২২ জুন ২০২৪, ৮ আষাঢ় ১৪৩১
The Daily Ittefaq

কোরবানিতে দুই শতাধিক পরিবারের পাশে স্কুলছাত্রী শিফা

আপডেট : ১১ জুন ২০২৪, ২২:৩২

ঈদুল আজহা মুসলিমদের সবচেয়ে আনন্দময় দিনের একটি। এদিনে সাধ্য অনুযায়ী পশু কোরবানি করে মুসলিমরা। বিশেষ করে শিশুরা এই উৎসবকে ঘিরে আনন্দে মেতে থাকে। কিন্তু যারা আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় কোরবানি করতে পারে না, তাদের জন্য এ দিনটি থাকে সবচেয়ে বেশি বিষাদময়। 

এমনও পরিবার আছে যাদের ভাগ্যে কোরবানির ঈদের দিনও মাংস জুটে না। এমন অসহায় মানুষদের নিজ উদ্যোগে খুঁজে বের করে তাদের কাছে মাংস পৌঁছে দেন ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী, খুদে লেখক, গবেষক ও প্রোগ্রামার আরাবী বিনতে শফিক শিফা। অসহায় মানুষদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করার জন্যই মূলত তিনি প্রতিবছরই এই অসাধারণ কাজ করে আসছেন। 
 
অবশ্য এই অসাধারণ কাজের সূচনা হয় শিফার বয়স যখন মাত্র ৫ বছর। সেই থেকেই অসহায় মানুষদের জন্য কোরবানি করেন শিফা। এ বছরও শিফার উদ্যোগে দুই শতাধিক পরিবার পাবে কোরবানির মাংস। এই দুই শতাধিক পরিবারের মানুষজনের কাছে শিফা শুধু কোরবানির মাংসই পৌঁছে দেন না, বরং পৌঁছে দেন ঈদের আনন্দ। 
 
কোরবানির মাংস উপহার পাওয়া সেই দুই শতাধিক পরিবারের একজনের অনুভূতি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এই মাংস আমগোর পরিবারের জন্য রাইখাও আত্মীয়দের দিতাম পারি। সারাবছর এই ঈদের মাংসের জন্য অপেক্ষায় থাকি প্রতি বছরই আমগো ঈদের উপহার হিসেবে এই মাংস পাই। এক্কেবারে গরু কিনা থেইক্কা শুরু কইরা সব খুশি হইয়া করি আমডা। শুধু যে মাংস পাই এইডা না লগে কলিজা ভুরি এডিও পাই, আমগোর পুলাপাইনগুলাও ঈদের দিন সকালে কুরবানির পশু দেখা থেইক্কা শুরু কইরা গরু গোসল করানো, মাংস কাটা তারপর মাংস নিয়া বাড়ি আসা পর্যন্ত খুশি হইয়া থাকে।’

একজন মেধাবী লেখক গবেষক হিসেবে শিফা সাহিত্যে রেখেছেন অবদান। প্রোগ্রামার হিসেবে আইসিটি খাতকে আরও সমৃদ্ধ করেছেন তাছাড়া নিজের অর্জন করা জাতীয় পুরষ্কারের অর্থ দিয়েও পাশে দাঁড়িয়েছেন অসহায় মানুষের। শিফার অনুভূতি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মানুষের জন্য কিছু করা সবচেয়ে আনন্দের। আমি যদি আমার এই ক্ষুদ্র জীবনে কারোর আনন্দের কারণ হতে পারি তাহলে এটাই আমার জন্য সবচেয়ে বড় সাফল্য। মূলত ঈদের আনন্দ সবার পরিবারে পৌঁছে দিতে এমন উদ্যোগ নিয়েছি আমি।

শিফা তৃতীয় শ্রেণিতে পড়াকালীন নির্মাণ করেছিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জীবননির্ভর অ্যাপ ‘এক পলকে শেখ হাসিনা’। তারপর মাত্র ৯ বছর বয়সে অর্জন করে জাতীয় পুরস্কারসহ আরও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার। কোভিড-১৯ এর সময় যে শিশুরা ডিভাইসের অভাবে অনলাইন ক্লাস করতে পারেনি শিফা তার পুরস্কারের প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে তাদের মাঝে ডিভাইস বিতরণ করে।

পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার সময় আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের নির্দেশে নির্মাণ করে অদম্য শেখ রাসেল অ্যাপ। অ্যাপটি শেখ রাসেলকে নিয়ে নির্মিত প্রথম অ্যাপ। এটি এখন আইসিটি ডিভিশনের অ্যাকাউন্টে গুগল প্লে স্টোরে রয়েছে। ইতোমধ্যে অ্যাপটি ১০ হাজার+ ডাউনলোডের মাইলফলক স্পর্শ করেছে। মাত্র দশ বছর বয়সে প্রকাশিত হয় শিশু শিফার লেখা প্রথম বই এক পলকে শেখ হাসিনা Sheikh Hasina at a glance। বইটি তার নির্মাণ করা এক পলকে শেখ হাসিনা অ্যাপের আলোকে লেখা। শিফার লেখা প্রথম বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। শিফা বইটি হাওর অঞ্চল এবং পথশিশুসহ প্রায় সারা দেশে পৌঁছে দিয়েছে নিজ অর্থে। 

শেখ রাসেল দিবস-২০২২ উপলক্ষে অদম্য শেখ রাসেল অ্যাপের আলোকে প্রকাশিত হয়েছে শিফার লেখা দ্বিতীয় বই অদম্য শেখ রাসেল Indomitable Sheikh Russel। অদম্য শেখ রাসেল বইটি যৌথভাবে মোড়ক উন্মোচন করেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এবং প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন। তাছাড়াও ২০২৩ সালের আগস্টে প্রকাশিত হয়েছে শিফার লেখা নতুন বই দুর্দম্য সুলতানা কামাল খুকী। এই বইটি বঙ্গবন্ধুর পুত্রবধূ, কিংবদন্তী নারী ক্রীড়াবিদ সুলতানা কামাল খুকীকে নিয়ে লেখা প্রথম বই। ২৯ আগস্ট ২০২৩ সন্ধ্যা ৭টায় বাংলা একাডেমিতে সম্মিলিতভাবে দুর্দম্য সুলতানা কামাল খুকী বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন, শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আরমা দত্ত এমপি এবং বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি মুহাম্মদ নূরুল হুদা। 

পৃথিবীর যে কোনো প্রান্ত থেকে শিফার লেখা বইগুলো পড়া যাচ্ছে বিনামূল্যে shifa.net.bd ওয়েবসাইটে। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি এই ওয়েবসাইটের শুভ উদ্বোধন করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি ও প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন। 

তাছাড়া শিফার পৈত্রিক নিবাস ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর উপজেলার আহরন্দ-মহিউদ্দিননগর গ্রামে।

ইত্তেফাক/পিও