কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ভুল চিকিত্সার শিকার হয়ে জুয়েল নামে এক যুবক নিহতের প্রতিবাদে ও অভিযুক্তদের বিচারের দাবিতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে স্থানীয়রা। গতকাল রবিবার সকালে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের উদ্যোগে মেঘনা ফেরিঘাট এলাকা থেকে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শহরের ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের দুর্জয় মোড়ে অবস্থান নেয় তারা। ফলে সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। এসময় তারা ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে ঘণ্টাব্যাপী প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে।
পরে মানববন্ধনে একাত্মতা ঘোষণা করেন পৌর মেয়র অ্যাডভোকেট ফখরুল আলম আক্কাছ। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আল মামুন, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতিক আহমেদ সৌরভ ও যুবলীগ সভাপতি ইমরান হোসেন ইমন। এসময় বক্তারা ভুল চিকিত্সায় জুয়েল নিহতের ঘটনায় অভিযুক্ত চিকিত্সক কামরুজ্জামানের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিসহ অবিলম্বে মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতারের দাবি জানান। তারা বলেন, ভুল চিকিত্সায় এবং দায়িত্বে অবহেলার কারণে আর যেন কোনো জুয়েলের অকালে মৃত্যু না হয়। শহরে ব্যাঙের ছাতার মতো একের পর এক প্রাইভেট হাসপাতাল গড়ে ওঠেছে। এসব জায়গায় চিকিত্সার নামে অপচিকিত্সা চলছে। ফলে একের পর এক প্রাণহানির মতো ঘটনা ঘটছে। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন টেস্টের নামে তারা অসহায় মানুষের কাছ থেকে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। তাই, তাদের লাগাম টেনে ধরতে হবে।
জানা গেছে, শহরের চন্ডিবের গ্রামের দক্ষিণ পাড়ার বাসিন্দা জুয়েল। বছর দুয়েক আগে দুর্ঘটনায় জুয়েলের এক হাতের হাড় ভেঙে যায়। অপারেশনের সময় তার হাতের ভেতরে রড ঢুকানো হয়। গত বৃহস্পতিবার সেই রড খুলতে শহরের ট্রমা জেনারেল (প্রাইভেট) হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়। সেখানে তাকে হাসপাতালের ওটিতে (অপারেশন থিয়েটার) নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু, ঘণ্টার পর ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও জুয়েলের জ্ঞান ফেরেনি। এতে স্বজনদের সন্দেহ হলে ওটিতে গিয়ে জুয়েলকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান তারা। এ যুবকের বড়ো ভাই কামাল মিয়া বাদী হয়ে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ এনে চিকিত্সক কামরুজ্জামান আজাদকে প্রধান অভিযুক্ত করে ৪ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। কামরুজ্জামানকে আটক করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। গ্রেফতার এড়াতে অন্য আসামিরা গা-ঢাকা দিয়েছেন।
