ব্যর্থতার দায় নিলেন মাশরাফি

আপডেট : ০৭ জুলাই ২০১৯, ২২:৩৮

বিশ্বকাপের মঞ্চ থেকে দেশে ফিরেছে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। বিমানবন্দরে জনা পঞ্চাশেক সংবাদকর্মী ছাড়া আর কেউ নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিত্য সমালোচনার হুল ফোটানো সমর্থকদের আনাগোনাও ছিল না। বিসিবির বড়ো কর্তাদেরও দেখা মেলেনি। বহিরাবরণে বাঘের ডোরাকাটা বস্ত্র নিয়ে হাজির হয়েছিলেন জনৈক সমর্থক। বাংলাদেশের ম্লান বিশ্বকাপের মতোই হাড্ডিসার তার অবস্থা।

গতকাল পড়ন্ত বিকেলে (৫টা ২০ মিনিট) ঢাকায় অবতরণ করা এমিরেটসের ফ্লাইটে চেপে এসেছিলেন ১১ জন ক্রিকেটার। ৯ ম্যাচের তিনটিতে জয়, পাঁচটিতে হার, একটি বৃষ্টিতে পণ্ড। বিশ্বকাপ মিশন শেষে দেশে ফেরা ক্রিকেটারদের মুখশ্রীতে স্পষ্ট ছিল হতাশার ছাপ। সংবাদকর্মীরা সবার সঙ্গেই কথা বলার চেষ্টা করেছেন। মুখ খুলেছিলেন শুধু অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। ব্যর্থতার দায় নিয়েছেন তিনি। স্বীকার করেছেন, বিশ্বকাপে প্রত্যাশার দাবি মেটাতে পারেননি।

সবার আগে বের হয়ে যান তামিম ইকবাল। বিশ্বকাপে ২৩৫ রান করলেও এই ওপেনারের ধীরগতির ব্যাটিং বরাবরই চাপে ফেলেছে গোটা দলকে। তারপর মিঠুন, সৌম্য, রুবেল, সাইফউদ্দিন, মোসাদ্দেক, মুস্তাফিজ বের হন। সবার শেষে বের হয়ে আসেন মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। এদিন দলের সঙ্গে ফিরেছেন হেড কোচ স্টিভ রোডস। কোচিং স্টাফের আর কেউ আসেননি। গতকাল ফেরেননি আরও চার ক্রিকেটার। সাকিব আল হাসান, সাব্বির রহমান, মেহেদী হাসান মিরাজ, লিটন দাস রয়ে গেছেন লন্ডনে।

সংবাদকর্মীদের অনুরোধে দুটি বাক্য ব্যয় করেছেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। ভগ্ন মনরথে ফেরা এই ক্রিকেটার বলেছেন, মন খারাপ ভাই, সবার মন খারাপ। বিশ্বকাপে তিন ম্যাচ খেলা মিঠুনের মুখে হতাশার ছায়া। তিনি বলেছেন, ‘আমি এখন কথা বলতে পারব না ভাই।’ সময়ের সেরা দল নিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে গিয়েও সেমিফাইনালে খেলার স্বপ্ন পূরণ হয়নি বাংলাদেশের। আগের তিন (২০০৭, ২০১১, ২০১৫) আসরের মতোই এবারও তিনটি জয় নিয়ে দেশে ফিরেছে টাইগাররা।

গতকাল বিমানবন্দরে অপেক্ষমাণ গণমাধ্যমকে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল না অধিনায়ক মাশরাফির। ওয়ানডে ফরম্যাটে দেশের সবচেয়ে সফল অধিনায়ক ব্যর্থতার দায়ও নিয়েছেন। মাশরাফি বলেছেন, ‘প্রথমত অধিনায়ক হিসেবে দলকে সেই জায়গায় যখন না নিতে পারব, তখন সমালোচনা আমাকে নিতে হবে এবং পুরো দলের দায়ভার নিতেই হবে। আমার জায়গায় অন্য কেউ থাকলে তাকেও নিতে হতো। আমি অবশ্যই সেই দায়ভার নিচ্ছি। সমালোচনা সারা বিশ্বে টুর্নামেন্টের সময় হয়, বিশ্বকাপে তো আরও বেশি হবে এটাই স্বাভাবিক। বলতে চাই, কিছু জিনিস আমাদের পক্ষে গেলে দল আজ অন্য জায়গায় থাকতে পারত।’

বড়ো কিছুর স্বপ্নটা মাশরাফি নিজেও দেখেছিলেন। বিশ্বকাপে সাকিব, মুশফিক, মুস্তাফিজ, সাইফউদ্দিনদের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেছেন তিনি। যদিও বল হাতে সবচেয়ে বাজে টুর্নামেন্ট কেটেছে ক্যারিয়ারের সায়াহ্নে চলে আসা মাশরাফির। হতাশা লুকাননি অধিনায়ক। তিনি বলেছেন, ‘যে প্রত্যাশা নিয়ে গিয়েছিলাম, সেই জায়গা থেকে অবশ্যই হতাশ। পুরো দলই হতাশ। কিন্তু যদি পুরো বিশ্বকাপ দেখেন, কিছু জায়গায় ভাগ্য যদি আমাদের পক্ষে থাকত, আমরা সেমিফাইনালে যেতে পারতাম। কিন্তু ওভারঅল খেলার ধরন যেমন ছিল, সেটা ইতিবাচক ছিল।’