বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশকে নিয়েই সবচেয়ে বেশি ভয় চেপেছিল, শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু প্রথম পর্বের খেলায় মান রেখেছেন নাজমুল হোসেন শান্তরা। অধিনায়ক নিজে রান না পেলেও দলকে যোগ্য নেতৃত্ব দিয়ে সামনে রেখেছেন। প্রথম পর্ব শেষে সেরা আটের লড়াই নিয়ে এখন ব্যস্ত টাইগার বাহিনী। এই পর্বে কী হতে পারে, কী হতে পারে না, এসব নিয়ে ভাবছেন না কোচ চণ্ডিকা হাথুরুসিংহে। শ্রীলঙ্কান এই কোচ বাংলাদেশের সেরা আট নিয়েই খুশি। তবে এই পর্বেও তিনি শান্ত বাহিনীর ওপরে বিশ্বাস রেখেছেন। প্রতিপক্ষকে চ্যালেঞ্জও জানিয়েছেন। আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, যদি সবকিছু ঠিক থাকে বাকি ম্যাচগুলোতে বাংলাদেশ আরও ভালো করবে।
আইসিসির সঙ্গে এক সাক্ষাত্কারে চণ্ডিকা হাথুরুসিংহে বলেছেন, ‘আমরা যখন এই টুর্নামেন্ট (বিশ্বকাপ) খেলতে আসি তখন আমাদের প্রথম লক্ষ্য ছিল সেরা আটে খেলা। আমরা সেটি অর্জন করতে পেরেছি। বোলাররা আমাদের টিকিয়ে রেখেছে। কন্ডিশনের সঙ্গে ভালোভাবে মানিয়ে নিয়েছে এবং নিজেদের পক্ষে কন্ডিশন কাজে লাগাতে পেরেছে। আমরা এভাবেই এগিয়ে যেতে চাই। এই পর্বে আসতে পেরে আমরা ভীষণ খুশি। আর এখান থেকে যা কিছু পাব, সেটাই আমাদের জন্য বোনাস। সেজন্য আমরা এখন অনেক স্বাধীনতা নিয়ে খেলব। আমাদের যতটুকু সামর্থ্য আছে, সেটি নিয়েই প্রতিপক্ষকে চ্যালেঞ্জ জানাই।’
পরিকল্পনা নিয়ে তিনি বলেছেন, ‘সব দলের বিপক্ষেই ব্যাটিং কিংবা বোলিংয়ে শক্তিশালীভাবে শুরু করতে চাই, পরিকল্পনা এমনই থাকে। তবে অনেক জায়গাতেই উইকেট এমন ছিল যে, সেটি ব্যাটারদের জন্য চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠেছে। আর উইকেটের চরিত্র বোঝাও খুব কঠিন। আমরা ভেবেছিলাম সেন্ট ভিনসেন্টের উইকেট ভালো হবে। কিন্তু সেটাই খুব কঠিন হয়ে সামনে এলো। বোলিংবান্ধব হয়ে উঠল। সেটি শুধু পেস কিংবা স্পিন নয়, উভয় জায়গা থেকে ব্যাটারদের জন্য কঠিন হয়ে উঠল। সুতরাং ব্যাটিং বা বোলিং যাই হোক, আমাদের পরিকল্পনা থাকবে শুরুটা ভালো করা।’
সেরা আট নিয়ে কোচ হাথুরু বলেছেন, ‘বেশি দিন নয়, আমি ১২ মাস ধরে ক্রিকেটারদের সঙ্গে আছি। তবে আমি তাদের অনেককেই চিনতাম। তারা খুব ভালো ক্রিকেটার। তারা নিজেদের খেলার ধরন নিয়ে বেশ আত্মবিশ্বসী। তাদের শক্তি এবং দুর্বলতা সম্পর্কে আমি জানি। এজন্য আমার কাজ করতেও সুবিধা হয়। কিন্তু এই মুহূর্তে কন্ডিশনটাই বড় ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। সুতরাং আমাদের লক্ষ্য থাকে কীভাবে এই কন্ডিশনকে কাজে লাগানো যায়, সেটিই আমাদের আলোচনার প্রধান বিষয় থাকে। তাছাড়া এই দলটি বেশ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। আমাদের বেশ কয়েক জন অভিজ্ঞ ব্যাটার রয়েছে, আর কন্ডিশনকে কেন্দ্র করে আমাদের ভালো পরিকল্পনা রয়েছে। কীভাবে প্রতিপক্ষককে বোলিং ও ব্যাটিং দিয়ে ঘায়েল করা যায়, সেটি সেখানে রয়েছে। এই ধরনের পরিকল্পনা ক্রিকেটারদের বিশ্বাস করতে সহায়তা করবে যে, সাহসী হও, তুমিও পারবে তাদের মোকাবিলা করতে।’
হাথুরুসিংহে দ্বিতীয় বারের মতো বাংলাদেশের ড্রেসিংরুম সামলানোর দায়িত্বে রয়েছেন। তার অধীনে ক্রিকেটারদের স্বাধীনতা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন উঠতে দেখা যায়। এই বিষয়ে তিনি বলেছেন, ‘আমরা এই খেলাটি শুরু করেছি কেন? উপভোগ করার জন্য। তাই উপভোগের সুযোগটি আমরা ক্রিকেটারদের থেকে ছিনিয়ে নিতে চাই না। তবে এর মানে এমন না যে, তাদের যা খুশি করার লাইসেন্স আছে। প্রত্যেকেরই নির্দিষ্ট দায়িত্ব আছে দলের প্রতি। ভালো কিছু করার জন্য তাদের সবসময় স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। তারা নিজেদের মতো করে এগিয়ে যাচ্ছে, সেটি জাতীয় দল, ক্লাব ক্রিকেট কিংবা যেখানেই হোক তারা আনন্দের সঙ্গে খেলছে। সুতরাং, আমরা তাদের স্বাধীনতার বিষয়টি আগে রাখি। এখানে তাদের উপভোগের একটা বিষয় থাকে।’
বিশ্বকাপে শান্ত রান পাচ্ছেন না। তাকে নিয়ে কোচ বলেছেন, ‘কেবল শান্ত নয়, বেশির ভাগ দলের টপ অর্ডারই এবার সংগ্রাম করছে। কারণ এখানের উইকেটে নতুন বল মোকাবিলা করা ব্যাটারদের জন্য কিছুটা কঠিন। মূল বিষয় হলো, বেশির ভাগ দলই ম্যাচ খেলতে নামছে কত রান ভালো স্কোর হবে, তা না জেনেই। আর শান্তর কথা অবশ্যই বলতে হবে। সে যখন রান পেয়েছে তখন সেটি ম্যাচ জয়ে ভূমিকা রেখেছে। কারণ সে আমাদের গুরুত্বপূর্ণ একজন খেলোয়াড়। আমি নিশ্চিত, কন্ডিশন ভালো হলে সেও যে কোনো ম্যাচে ভালো করবে। আর সব টপ অর্ডারের জন্যই এই কন্ডিশন চ্যালেঞ্জিং।’
ব্যাটারদের নিয়ে হাথুরু বলেছেন, ‘ব্যাটারদের সঙ্গে সবসময় কথা হয়। আমরা বলে থাকি ২০ ওভার যেন ওপরের সাত ব্যাটার মিলে শেষ করে আসতে পারে, পরিকল্পনা এমনই থাকে। কিন্তু বিষয়টি শুধু আমাদের জন্যই কঠিন নয়, সকলেই ভুগছে। আর উইকেট চ্যালেঞ্জিং থাকার কারণে আমাদের বোলাররা সেই সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে এবং খেলায় টিকিয়ে রেখেছে। তারা ভালোভাবে সবকিছু এগিয়ে নিচ্ছে। আর কন্ডিশন ভালো হলে ব্যাটাররাও রান তাড়ায় ভালো করবে।’
