সেমিফাইনালে যাওয়ার দৌড়ে গেল পরশু ভারতের বিপক্ষে জয় পেতে ১৯৭ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেছিল বাংলাদেশ। তবে তাদের ব্যাটিং ইনিংসের শুরু থেকেই আচার-আচরণ দেখে বোঝা যাচ্ছিল এ ম্যাচে জয়ের জন্য নামেননি শান্তরা। স্রেফ ২০ ওভার কোনো মতে টিকে থেকে হারের ব্যবধান কমানোর লড়াই সবাই মিলে চালিয়েছে। শুধু এই ম্যাচেই নয় বরাবরই ১৭০ রানের বেশি লক্ষ্য তাড়া করতে গেলেই লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের এমন অবস্থাই দেখা যায়। কেন বড় রান তাড়ায় দলের এমন বেহাল দশা হয় সেটা অবশ্য শনিবার ম্যাচ শেষে দেশ সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান জানিয়ে দিয়েছেন।
ভারতের বিপক্ষে ৫০ রানের ব্যবধানে হারের পর দলের প্রতিনিধি হিসেবে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন সাকিব। সে সময় বড় রান তাড়ায় পিছিয়ে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে নেন তিনি। বলেন, ‘যখন ফ্ল্যাট উইকেট হয়, ১৮০-২০০ রানের খেলাগুলো হয় তখন আমরা পিছিয়ে যাই আসলে। আমরা ১৩০-১৪০-১৫০ রানের খেলাটায় পারদর্শী। কারণ আমরা ঐ ধরনের খেলাটা খেলেই সবসময় অভ্যস্ত। স্বাভাবিকভাবেই ঐটার সঙ্গে আমাদের কাছে পরিচিত। তবে যখনই ১৮০-১৯০-২০০ রানের যায়....আমাদের চিন্তা আসলে ঐ লেভেলে আসে না। টুর্নামেন্টগুলো যখন আমরা খেলি সেখানে আমরা যেখানে খেলি সেটা থেকে বেড় হয়ে আসাটা আসলে মুশকিল। কিন্তু এইরকম যখন বড় জায়গায় খেলা হয় যে ১৮০ রান তাড়া করতে হবে, কোনো দিন বোলিং ইউনিট খারাপ করতেই পারে এটা স্বাভাবিক সেদিন আপনার বেটিং ইউনিটকে দাঁড়াতে হবে যেখানে আমরা ব্যর্থ হয়েছি। যেটা বললাম যে ১৪০-১৫০ রানের খেলাটা আমরা খুব ভালো বুঝি। এখন আমাদের হয়তো উন্নতি করতে হবে যে ১৭০-১৮০ রান কীভাবে তাড়া করতে হয় কীভাবে খেলতে হয় খুব বেশি ম্যাচ হয়নি যে আমরা এমন রান তাড়া করেছি।’
চলমান বিশ্বকাপের শুরু থেকে বাংলাদেশের মূল ভাবনার কারণ নিজেদের ব্যাটিং লাইন আপ। বোলাররা নিয়মিত ভালো করলেও ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থতার বৃত্তে আটকা পড়েছে দলের ব্যাটাররা। দলের ভরসার নাম মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ থেকে শুরু করে অভিজ্ঞ সাকিব অধিনায়ক শান্তসহ সবাই ব্যর্থ এবারের বিশ্বকাপে। একমাত্র তাওহীদ হৃদয় খানিকটা রান পাচ্ছে। আর ব্যাটারদের এমন ব্যর্থতা নিয়ে গোটা আসর জুড়েই আলোচনা চলছে দল নিয়ে। এ নিয়ে সাকিব বলেন, ‘এটা হতাশাজনক। এটার একটা বড় কারণ হতে পারে ব্যাটাররা আসলে রান খরায় ভুগছিল তো ঐ আত্মবিশ্বাসটা ছিল না যে এভাবে রানে ফেরা দরকার বিশেষ করে এই মাঠে (স্যার ভিভিয়ান রিচার্ডস স্টেডিয়াম) যেই দুইটা ম্যাচ খেললাম। এ ম্যাচগুলোতে আমি অনুভব করেছি যে ১৭৫-১৮৫ রান এখানে মোটামোটি একটা স্কোর। মানে লড়াই করার মতো সংগ্রহ হয়। তো এটার নিচে হলে ম্যাচে লড়াই করা কঠিন। তো এখান থেকে আমরা অনেক পিছিয়ে ছিলাম। আমরা এই ম্যাচে ১৪৮ করেছি এর আগের ম্যাচে ১৪০ করেছি। আগের ম্যাচের থেকে এই ম্যাচে আমাদের অবশ্যই ভালো একটা সংগ্রহ করা উচিত ছিল যেহেতু আমরা জানি যে কি হচ্ছে কোন লক্ষ্য নিয়ে আমরা ব্যাটিং করছি। আমার কাছে মনে হয়েছে আমরা শুরু থেকেই ঐ অবস্থাতেই যাইনি যেখান থেকে চেষ্টা করছি এটা সমর্থকদের বোঝাব।’
এদিকে সুপার এইটে পরপর দুই ম্যাচে হেরে সেমিতে যাওয়া দৌড়ে খানিকটা বিপাকে থাকলেও সাকিব এবারের বিশ্বকাপে দলের প্রাপ্তি দেখছেন। এ নিয়ে তিনি বলেন, ‘এবারের বিশ্বকাপে ফলাফলের দিক থেকে আমরা মোটামুটি একটা অবস্থানে আছি। ছয়টা ম্যাচ খেলেছি, তিনটা জিতেছি, তিনটা হেরেছি। ৫০ শতাংশ যদি ইয়ে ধরেন সেদিক থেকে খুব একটা খারাপ না। তবে আমি যেটা অনুভব করি, আমরা যখনই কোনো বড় দলের সঙ্গে যেভাবে লড়াই করেছি, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে যেভাবে লড়াই করেছি, এই দুটি ম্যাচে যদি ওভাবে লড়াই করতে পারতাম, আমাদের জন্য ভালো ও সফল একটা বিশ্বকাপ হতো বলে আমার মনে হয়। ঐ জায়গাটাতে আমাদের একটু ঘাটতি আছে বিশেষ করে সুপার এইটের দুটি ম্যাচেই আমরা যেভাবে প্রথম থেকে পিছিয়ে ছিলাম এবং ঐ জায়গা থেকে আমাদের জন্য এটি বিব্রতকর।’
