টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের উড়াল দেওয়ার আগে আফগান অধিনায়ক রশিদ খান বলেছিলেন, ‘আমরা ট্রফি জেতার জন্য খেলব।’ অনেকেই তখন রশিদ খানের সেই মন্তব্য নিয়ে মেতেছেন হাস্যরসে। তবে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী নিউজিল্যান্ডকে ৮৪ রানের বিশাল ব্যবধানে হারায় আফগানরা। নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দেখিয়ে জায়গা করে নেয় শেষ আটে। সুপার এইটে প্রথম ম্যাচে ভারতের কাছে হারলেও দ্বিতীয় ম্যাচে বিশ্বকাপের অন্যতম দাবিদার ২০২১ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়াকে ২১ রানে হারিয়ে রীতিমতো ক্রিকেট বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেয় রশিদ-নবি ও গুলবাজরা।
এই নিয়ে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে মোট দুই বার মুখোমুখি হয়েছে অস্ট্রেলিয়া ও আফগানিস্তান। প্রথম বার এই দুই দল মুখোমুখি হয় ২০২১ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। সেই ম্যাচে আফগানদের বিপক্ষে মাত্র চার রানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে সেই আসরের স্বাগতিক দেশ ও চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া । এরপর এই দুই দল মুখোমুখি হয় গেল ভারতের মাটিতে অনুষ্ঠিত হওয়া ওয়ানডে বিশ্বকাপে। সেই ম্যাচের জয়ের নাটাই ছিল আফগানদের হাতে। তবে ঐ ম্যাচে অজি ব্যাটার গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের ৫৫ বল অপরাজিত ২০১ রানের দানবীয় ইনিংসের কাছে হারে আফগানিস্তান। আর গতকাল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইটের আফগানিস্তান ও অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচ এখনো ‘হট টপিক’।
তবে যেই আফগানদের কাছে হেরে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এবারের আসর থেকে ছিটকে যাওয়ার শঙ্কায় অস্ট্রেলিয়া। সেই আফগানিস্তানের সঙ্গে এখন পর্যন্ত কোনো দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলেনি ওয়ানডে বিশ্বকাপে ‘হেক্সা মিশন’ সম্পূর্ণ করা অজিরা। একাধিকবার আফগানিস্তানের সঙ্গে সিরিজ খেলার জন্য অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট বোর্ডের কাছে আমন্ত্রণ জানিয়েছে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। তবে নানান অজুহাত দিয়ে শেষ মুহূর্তে রশিদ-নবিদের বিপক্ষে সিরিজ খেলতে অনআগ্রহ প্রকাশ করে অজিরা। এইতো চলতি বছরে আফগানিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি ও একটি টেস্ট ম্যাচ খেলার কথা ছিল অস্ট্রেলিয়ার। তবে আফগানিস্তানের নারী অধিকার ইস্যুতে আফগানিস্তান আফগানদের বিপক্ষে সিরিজ স্থগিত করে অস্ট্রেলিয়া। একই কারণে স্থগিত করেছে টেস্ট ম্যাচও।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এমন জয়ের পর সংবাদ সম্মেলনে আফগান অধিনায়ক রশিদ খানকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘আমরা ক্রীড়াবিদরা শুধু ক্রিকেট নিয়েই চিন্তা করি। সবাই বলে খেলাধুলা জাতি এবং সবাইকে একত্রিত করে। তাই আমরা যে কোনো দলের বিপক্ষে খেলতে পেরে সমসময় খুশি। এটিই একমাত্র উপায় যা আমাদের ক্রিকেটকে দিন দিন উন্নতি করতে পারে। তবে কিছু জিনিস আছে যার উপরে ক্রিকেটের কারো নিয়ন্ত্রণ নেই। আমরা চাইলেও কিছু করতে পারি না। যদি এই বিষয়গুলোর সমাধান হয়, তাহলে আমরা খুশি হতাম। কিন্তু আমি জানি না এটার সমাধান কি।’
