আমি প্রতি বছরই গণমাধ্যম আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখি যে, তাসকিন বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলার প্রস্তাব পেয়েছে, কিন্তু বোর্ড অনুমতি দেয়নি। আমার কাছে মনে হয়, ক্রিকেটারদের সেই সুযোগ দেওয়া উচিত যদি সত্যি প্রস্তাব আসে। এটাও ঠিক, আমাদের খুব বেশি ক্রিকেটার কিন্তু বিদেশি লিগে খেলার সুযোগ পায় না। মোস্তাফিজ আর সাকিব নিয়মিত খেলে। আর দুই-একজন ইদানীং সুযোগ পাচ্ছে।
আবার এটাও শুনতে পাচ্ছি তাওহীদ হৃদয়, শরিফুল, রিশাদ হোসেনরা গ্লোবাল টি টোয়েন্টি আর লঙ্কান প্রিমিয়ার লিগে দল পেয়েছেন। এ কারণে আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ খেলতে চায় না বিসিবি। এই সিদ্ধান্তর সঙ্গে আমি একমত না। বোর্ড প্রায়ই বলে, তাদের পাইপলাইনে প্রচুর খেলোয়াড় আছে। তাহলে চার-পাঁচ জনের জন্য কেনো সিরিজ বাতিল হবে? বিশ্বকাপের আগে দেখেছি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকা একেবারে নতুন টিম খেলিয়েছে। যারা জাতীয় দলের বাইরে আছে কিংবা পাইপলাইনে আছে তাদের পরখ করে নেওয়ার একটা সুযোগ ছিল।
বিশ্বকাপের আগে দেখেছি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ বাতিল করেছে। কেন এটা করল আমার বোধগম্য নয়। যারা টি-টোয়েন্টি স্কোয়াডের বাইরে আছে তাদের দিয়ে টেস্ট সিরিজ খেলানো যেত। মুমিনুল, মুশফিক, জাকির হাসান, তাইজুল, খালেদ, জয়, নাহিদ রানা কত ক্রিকেটারই তো আছে। সাথে ঘরোয়া ক্রিকেটে পারফর্ম করছে এমন কিছু ক্রিকেটারকে যোগ করে ভালো স্কোয়াড হতো। টেস্ট ক্রিকেটাররাও খেলার মধ্যে থাকতে পারত। বোর্ড হয়তো চিন্তা করেছে, জিম্বাবুয়ের সঙ্গে টেস্ট খেলে কী হবে! আর্থিকভাবে খুব একটা লাভবানও হবে না। এটাই দুর্বল চিন্তা-ভাবনার বহিঃপ্রকাশ। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট পারফর্মারদের সুযোগ দিয়ে দেখা যেত। দল হারলে হারতো। এই হারের ভয়ে স্কটল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, নেপালের মতো দলকে আমরা খেলতে ডাকি না। অথচ এদের বিপক্ষে খেললে ক্রিকেটারদের সাহসটা তৈরি হতো।
যারা ম্যানেজমেন্টে আছেন, তারাও ভয়ে ভয়ে কাজ করেন। এ কারণে হোম সিরিজগুলোতে স্পোর্টিং উইকেটে খেলার সাহস পায় না। সবসময় রেজাল্ট চিন্তা করেন। অবশ্যই হোম সিরিজ জিতলে আত্মবিশ্বাস বাড়ে তবে আইসিসির ইভেন্টে কিংবা বিদেশে দ্বিপাক্ষিক সিরিজগুলোতে গিয়ে ভুগতে হয়। কারণ ক্রিকেটাররা জানে না স্পোর্টিং উইকেটে কীভাবে পারফর্ম করতে হয়।
বার্ডের মানসিকতাও সংকীর্ণ। মোস্তাফিজকে আইপিএলের মাঝপথে উড়িয়ে আনল। ও যদি শেষ পর্যন্ত খেলত তাহলে দেশেরই সুনাম হতো। একে তো ক্রিকেটাররা টি-টোয়েন্টিতে ভালো পারফর্ম করতে পারছে না, তার ওপর বোর্ডের এ ধরনের মানসিকতার জন্য বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে ডাকে না।
আমাদের দেশি কোচদেরও মূল্যায়ন করতে হবে। আমাদের দুই-একজন ভালো মানের কোচ আছে। তাদের ভালোমতো ব্যবহার করতে হবে। বোর্ড বিদেশি কোচদের দিবে ১০-১৫ হাজার ডলার আর দেশিদের ২-৩ লাখ টাকা প্রস্তাব করবে তা তো হতে পারে না। আরও কিছু ভালো মানের কোচ কিন্তু তৈরি হচ্ছে। রাজিন সালেহ, তালহা জুবায়ের, নাজমুল হোসেন ওদের যত্ন নেওয়া উচিত, আরও বিনিয়োগ করা উচিত। বাংলাদেশে ২০০৯ সালে সবশেষ লেভেল-থ্রি কোচিং হয়েছিল। এরপর আর হয় নি।
যে কারণে সুজন ভাই, সালাউদ্দিন ভাই, ওয়াহিদুল গণি স্যার, ইমরান স্যারসহ কয়েক জন ছাড়া আমরা আর লেভেল-থ্রি কোচ পাই নাই। আমি কিছু দিন আগে নিজ উদ্যোগে আইসিসির আন্ডার লেভেল-থ্রি কোচিং কোর্স করেছি। বিসিবির উচিত তাদের পেছনে বিনিয়োগ করে কোচ তৈরি করা। অনেকে কোচিং করান কিন্তু তাদের কোনো সার্টিফিকেট নাই। বোর্ড যদি তাদের পাঠায় কোর্সের জন্য তাহলে বাংলাদেশ অনেক সার্টিফাইড কোচ পাবে। দেশের ক্রিকেটকে উন্নতি করতে হলে বেশি বেশি কোচ দরকার এবং জুনিয়র লেভেলে ভালো মানের কোচ বেশি প্রয়োজন।
অনুলিখনঃ আশরিক রুদ্র

