ঢাকার বাইরে লোডশেডিং বাড়ছে

আপডেট : ২৮ জুন ২০২৪, ০৬:২০

ঢাকার বাইরে বাড়ছে লোডশেডিং। জেলা শহরগুলোতে লোডশেডিং তুলনামূলক কম হলেও গ্রামাঞ্চলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা থাকছে না বিদ্যুৎ। এতে জনজীবন অতিষ্ট হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্টদের দাবি, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম পাওয়ায় লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।

দিনাজপুর অফিস জানায়, তীব্র গরমের সঙ্গে দিনাজপুরে যুক্ত হয়েছে সীমাহীন লোডশেডিং। শহরে দিন-রাত পাঁচ-ছয় বার বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটলেও গ্রামাঞ্চলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা থাকছে না বিদ্যুৎ। দিনাজপুর শহরের ক্ষেত্রীপাড়া এলাকার বাসিন্দা সত্যেন্দ্রনাথ চ্যাটার্জ্জী জানান, ‘দিনে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটলেও কিছুটা মেনে নেওয়া যায়। কিন্তু তীব্র গরমে রাতে বারবার বিদ্যুৎ চলে গেলে আর কোনোভাবেই ঘরে থাকা যাচ্ছে না। প্রতিদিন রাতে দুই-তিন বার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম বিপাকে পড়তে হচ্ছে।’

গ্রামাঞ্চলের অবস্থা আরও ভয়াবহ। ঘণ্টার পর ঘণ্টা থাকছে না বিদ্যুৎ। দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার পরমেশপুর গ্রামের ভরত চন্দ্র রায় বলেন, ‘আগে বিদ্যুত্সংযোগ ছিল না, তখনই ভালো ছিল। এখন বিদ্যুত্সংযোগ নিয়ে অভ্যাস খারাপ হয়ে গেছে। তীব্র গরমে বিদ্যুৎ ছাড়া থাকাই মুশকিল। এরপর একবার বিদ্যুৎ গেলে ঘণ্টার পর ঘণ্টাও দেখা মিলছে না। এতে দুর্বিষহ অবস্থায় পড়তে হচ্ছে।’

নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) দিনাজপুর-২ অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী স্পন্দন বসাক পায়েল জানান, তার এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা ২৭ মেগাওয়াট, কিন্তু সরবরাহ পাচ্ছেন ১৯ মেগাওয়াট। চাহিদা অনুযায়ী কম সরবরাহ পাওয়ায় বাধ্য হয়েই এলাকাভিত্তিক লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। তবে নেসকোর দিনাজপুর-১ অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফজলুর রহমান জানান ভিন্নকথা। তিনি বলেন, তার এলাকায় চাহিদা বিদ্যুৎ সরবরাহও পাওয়া যাচ্ছে।

দিনাজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী ফেরদৌস আলম জানান, চাহিদার তুলনায় ১৫-১৬ শতাংশ বিদ্যুৎ কম পাওয়া যাচ্ছে। এ জন্য লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। গরম কমে গেলে চাহিদা কমবে এবং তখন সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে বলে জানান তিনি।

দিনাজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর জেনারেল ম্যানেজার বিপুল কৃষ্ণ মণ্ডল জানান, চাহিদার তুলনায় ১০-১৫ মেগাওয়াট কম বিদ্যুৎ সরবরাহও পাওয়া যাচ্ছে।

তালা (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা জানান, একদিকে তাপপ্রবাহ, অন্যদিকে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের নাকাল হয়ে পড়েছে তালা উপজেলাসহ গোটা সাতক্ষীরা জেলার ২৪ লক্ষাধিক মানুষ। সবচেয়ে বিপাকে পড়েছে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। অন্যদিকে লোডশেডিংয়ের কারণে জেলার বিসিক শিল্পনগরীতে উত্পাদন ব্যাহত হচ্ছে।

শিক্ষক হাবিবুর রহমান বলেন, অসহনীয় গরমের মধ্যে ঘন ঘন লোডশেডিং সাধারণ মানুষজন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। গরমের যন্ত্রণায় রাতের ঘুম নষ্ট মানুষজন রাস্তায় রাস্তায় বেরোচ্ছেন। তাছাড়া আগামী ৩০ জুন থেকে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। এখন যদি শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো পড়াশোনা করতে না পারে, তাহলে পরীক্ষাতে ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে তাদের। সাতক্ষীরা বিসিক শিল্পনগরীর উপ ব্যবস্থাপক গৌরব দাশ বলেন,‘ বিসিকে উত্পাদনশীল ৪২টি কারখানা রয়েছে। গত তিন দিন ধরে ঘনঘন লোডশেডিংয়ের কারণে এ শিল্প কারখানাগুলোতে মারাত্মকভাবে উত্পাদন ব্যাহত হচ্ছে।’

সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যৎ সমিতির এজিএম মঞ্জুরুল আকতার জানান, জেলায় বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে ১১০ মেগাওয়াট। সেখানে পাওয়া যাচ্ছে ৬৮ মেগওয়াট। ঘাটতি থাকছে ৪২ মেগাওয়াট। ফলে গ্রাহকের চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান তিনি। অন্যদিকে সাতক্ষীরা পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুনুর রহমান জানান, তার অধীনে বিদ্যুতে চাহিদা রয়েছে ১৯ মেগাওয়াট। সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে ১৫ মেগওয়াট।

বাগমারা (রাজশাহী) সংবাদদাতা জানান, বাগমারায় দিনে-রাতে ১০-১২ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। উপজেলার বালানগর গ্রামের আব্দুল হাকিম, আব্দুর রহিম, আব্দুস সামাদসহ অনেকে বলেন, ‘একবার বিদুৎ গেলে টানা দুই ঘণ্টা থাকছে না। তীব্র গরমে কোনো কাজ করা যাচ্ছে না। রাতে ঘুম হচ্ছে না।’ নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি বাগামারা জোনাল অফিসের ডেপুটি জেলারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) আমিনুর রাশেদ জানান, চাহিদার কম বিদ্যুৎ পাওয়ায় লোডশেডিং হচ্ছে। খরার পরিমাণ বাড়ায় বিদ্যুতের অতিরিক্ত চাহিদাও বেড়েছে। বৃষ্টি নামলে সমস্যা দূর হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ইত্তেফাক/জেডএইচ