খাগড়াছড়ি থেকে পাচারকালে ৬ ‘হিল ময়না’ উদ্ধার

আপডেট : ২৮ জুন ২০২৪, ১৬:২৯

খাগড়াছড়ি থেকে সমতলে পাচার করার সময় ৬টি বিপন্ন প্রজাতির ‘হিল ময়না’ বা পাহাড়ি ময়না উদ্ধার করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৮ জুস) সকাল ১১টার দিকে খাগড়াছড়ি বাস স্টেশন এলাকা থেকে এসব বিপন্ন প্রজাতির পাখি জব্দ করে বনবিভাগ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন খাগড়াছড়ির বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. ফরিদ মিঞা।

তিনি বলেন, একটি চক্র বিপন্ন প্রজাতির হিল বা পাহাড়ি ময়নাগুলো খাগড়াছড়ি থেকে ফেনীতে পাচার করছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা অভিযান চালিয়ে ফেনীগামী একটি যাত্রীবাহী বাস থেকে বাচ্চাসহ ৬টি হিল ময়না জব্দ করি। বন বিভাগের উপস্থিতি টের পেয়ে অপরাধীরা পালিয়ে যায়। ময়নাগুলো উদ্ধার করে বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়েছে।

এ সময় ফরিদ মিঞা আরও বলেন, হিল ময়নাসহ যে কোনো বন্যপ্রানী পাচার রোধে বনবিভাগ কাজ করছে। গত ৪ বছরে খাগড়াছড়ি বনবিভাগ বিপন্ন প্রায় লজ্জ্বাবতী বানর, গয়াল, বনবিড়াল, মায়া হরিণ, তক্ষক, ৩১টি হিল ময়নাসহ বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও অবমুক্ত করেছে।

পাহাড়ি ময়নার বৈজ্ঞানিক নাম গ্রাক্যুলা রিলিজিওসা। রিলিজিওসা শব্দের অর্থ সুন্দরের দ্যোতক। ময়নার গায়ের পালক উজ্জ্বল কালো। রোদের আলোয় কালো রঙ চকচক করে। তার ওপর কিছুটা সবুজ ও বেগুনি আভা। মাথার পেছনের হলুদ আবরণে ঢাকা ত্বক। ডানার বড় পালকের আড়ালে কয়েকটি সাদা পট্টি থাকে। এ ময়নার পা উজ্জ্বল হলুদ।

সাধারণত গাছের উঁচু উঁচু ডালে থাকতে পছন্দ করে লম্বায় ১০ ইঞ্চি এই পাখি। পাহাড়ে ১৯৬৩ সালে প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘের (আইইউসিএন) তালিকায় হিল ময়না আশঙ্কাযুক্ত প্রাণীদের তালিকায় না থাকলেও শিকারিদের কারণে দিন দিন সংখ্যা কমছে। হিল ময়না ২০১২ সালের বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে সংরক্ষিত।

ইত্তেফাক/এসকে