মহুয়া মধ্যম থেকে বৃহত্ আকারের বৃক্ষ। বৈজ্ঞানিক নাম Madhuca longifolia। Sapotaceae পরিবারভুক্ত। বাংলাদেশে মহুয়ার আরেকটি প্রজাতি Madhuca indica আছে। পাতা ডিম্বাকার। বৃন্ত ছোট। ফুলগুলো রসালো এবং স্বাদ অম্লমধুর। ফুলের নির্যাসে মাদকতা আছে। এর ধূসর রঙের ছাল প্রায় আধা ইঞ্চি পুরু। বসন্তের শেষে সুপারির মতো ফল দেখা দেয়। জুন থেকে জুলাই মাসের মধ্যে পরিপক্ব হয়। স্থানভেদে একে মহুলা, মধুকা, মোহা, মোভা, মহুভা ইত্যাদি নামে আখ্যায়িত করা হয়ে থাকে। প্রতিবছর পাতা ঝরে যায়। শালবনে এই গাছ জন্মাতে দেখা যায়। দিনাজপুর ও মধুপুর অঞ্চল ছাড়া দেশের অন্যান্য অংশেও এর চাষ হয়। মহুয়াগাছ খরা প্রতিরোধ করে। মহুয়ার ছবিটি গত পহেলা জুলাই ময়মনসিংহের জয়নুল উদ্যান থেকে তুলেছি।
আবাদি বৃক্ষ হিসেবে মহুয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ গাছ। ২০ মিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে। কাঠের রং লালচে বাদামি। গাছের শাখার শীর্ষদেশে লম্বা বর্শাকৃতির গুচ্ছবদ্ধ পাতা জন্মায়। ফুলগুলি মাংসল, হালকা ধূসর রঙের এবং গাছে যখন সম্পূর্ণ ফুল ফোটে তখন ফুল থেকে মিষ্টি সুগন্ধ বের হয়। মহুয়া ফুলে প্রচুর পরিমাণে শর্করা, খনিজ দ্রব্য, ভিটামিন ও ক্যালসিয়াম রয়েছে। এই ফুল চালের সঙ্গে রান্না করলে এর পুষ্টিমান বৃদ্ধি পায়। আখের পরেই মহুয়া ফুল সিরকা তৈরির গুরুত্বপূর্ণ উত্স। এটা গবাদিপশুর খাবার হিসেবেও ব্যবহার হয়ে থাকে। এর ফুল ও ফল ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষের কাছে ঐতিহ্যবাহী খাবার এবং তারা মাছ মারার জন্য এবং সর্পদংশনের চিকিত্সার জন্য মহুয়া খৈল ব্যবহার করে।
মহুয়ার তেল প্রলেপ, ত্বকের রোগ নিরাময়, বাত, মাথাব্যথা, জোলাপ, অর্শ রোগের ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। বীজ থেকে আঠা পাওয়া যায়। এর তুষ সক্রিয় কার্বন তৈরির কাজে ব্যবহার করা যায়। ভেষজগুণে মহুয়া অত্যন্ত সমৃদ্ধ। মহুয়ার পাতা, বাকল, ফুলের নির্যাস ও তেলের বীজ নানা রোগের চিকিত্সায় বহুকাল থেকে ব্যবহার হয়ে আসছে। মৌসুমি সর্দি-কাশি, অগ্নিমান্দ্য, আন্ত্রিক রোগ, অর্শ, বাত-ব্যথা, মাথাব্যথা এসবের নিরাময়কারী। তাছাড়া পুরনো ক্ষত ও কীট দংশনের ব্যথানাশক। সাঁওতালেরা মশার যন্ত্রণা, কীটপতঙ্গের দংশনের ক্ষেত্রে মহুয়া বীজের তেল ব্যবহার করে থাকে।
