এরিকসন মবিলিটি রিপোর্ট

২০২৯ নাগাদ ফাইভজির গ্রাহক সাড়ে ৫শ’ কোটি ছাড়াবে

আপডেট : ০২ জুলাই ২০২৪, ০২:১৫

আগামী পাঁচ বছরে অর্থাত্ ২০২৯ সাল নাগাদ বিশ্বে ফাইভজি ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৫৬০ কোটি ছাড়িয়ে যাবে। এছাড়া চীনে ফাইভজি কভারেজ ৪০-৮০ শতাংশে উন্নীত হবে। সম্প্রতি এরিকসনের হালনাগাদ মবিলিটি রিপোর্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বে তিন শতাধিকের বেশি কমিউনিকেশন সার্ভিস প্রভাইডার (সিএসপি) ফাইভজি সংযোগ সরবরাহ করছে। এদের মধ্যে ৫০টির বেশি প্রতিষ্ঠান ফাইভজি এসএ চালু করেছে। বিশ্বজুড়ে প্রতিনিয়ত ফাইভজি নেটওয়ার্কের পরিধি ও ব্যবহারকারী বাড়ছে। সে হিসাবে ২০২৯ সালের শেষ নাগাদ মোট মোবাইল ব্যবহারকারীর ৬০ শতাংশই ফাইভজি নেটওয়ার্কে যুক্ত থাকবে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

এরিকসন মবিলিটি রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৪ সালের প্রথম তিন মাসে বিশ্বে নতুন করে ১৬ কোটি ফাইভজি ব্যবহারকারী যুক্ত হয়েছেন এবং মোট ব্যবহারকারী ১৭০ কোটি ছাড়িয়ে গেছে। বাজার বিশ্লেষক ও সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা চলতি বছর আরো ৬০ কোটি ব্যবহারকারী ফাইভজিতে যুক্ত হবেন।

গত বছরের মার্চ থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত মোবাইল নেটওয়ার্ক ডাটা ট্রাফিক ২৫ শতাংশ বেড়েছে। পরবর্তী প্রজন্মের নেটওয়ার্ক ব্যবহারে আগ্রহী হয়ে ওঠার পাশাপাশি ভিডিও পরিষেবা ট্রাফিক বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে। মবিলিটি রিপোর্টের তথ্যানুযায়ী, ২০২৯ সালের শেষ নাগাদ মোবাইল ডাটা ট্রাফিক বার্ষিক ২০ শতাংশ হারে বাড়বে।

প্রযুক্তিবিদদের মতে, প্রতিবেদনে যে সময়সীমা উল্লেখ করা হয়েছে তার আগেই মোবাইল নেটওয়ার্ক সাবস্ক্রিপশন ও প্রযুক্তির দিক থেকে ফাইভজি শীর্ষে চলে আসবে। সেইসঙ্গে এ নেটওয়ার্কের আওতায় থাকা জনসংখ্যাও বাড়ছে। চীন ছাড়া বিশ্বের মাত্র ২৫ শতাংশ অঞ্চলে ফাইভজি মিড-ব্যান্ড চালু করা হয়েছে। এটি সক্ষমতা কভারেজ ও ব্যবহারিক অভিজ্ঞতার উন্নয়নেও বেশ এগিয়ে। ফাইভজি বিস্তারের পাশাপাশি স্পেক্ট্রাম সরবরাহকারীরা অন্যান্য কানেক্টিভিটি অফারের উন্নয়নে কাজ করবে।

বিশ্বজুড়ে ফাইভজি ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১৮০ কোটি ছাড়িয়েছে। অনেক অপারেটর ইতিমধ্যেই ফাইভজির প্রথম ধাপের সুফলও পেয়েছেন। ফাইভজি আমেরিকাসের প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, ফিক্সড ওয়্যারলেস অ্যাকসেস ব্রডব্যান্ড চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। যে কারণে খাতসংশ্লিষ্টরা প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে এবং বিশ্বজুড়ে ফাইভজি সংযোগ বাড়াতে কাজ করছে।

এতে বলা হয়, ফাইভজি গ্রহণ ও ব্যবহারের দিক থেকে উত্তর আমেরিকা এগিয়ে। ২০২২-এর তুলনায় ২০২৩ সালে দেশটিতে এ নেটওয়ার্ক সংযোগ ৬৪ শতাংশ বেড়েছে। সে হিসাবে দেশটিতে ১৯ কোটি ৭০ লাখ ফাইভজি সংযোগ রয়েছে, যা ওই অঞ্চলের মোট সংযোগের ২৯ শতাংশ। লাতিন আমেরিকাও এগিয়েছে। ২০২৩ সালের শেষদিকে অঞ্চলটিতে ফোরজি লং-টার্ম ইভোলিউশন (এলটিই) সংযোগ ৫৮ কোটি ২০ লাখ ও ফাইভজি ৩ কোটি ৯০ লাখ ছাড়িয়েছে। ফাইভজি নেটওয়ার্ক প্রবেশ করলেও অঞ্চলটিতে এখনো ফোরজি এলটিইর ব্যবহার বেশি।

এদিকে বাজার বিশ্লেষক ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওমডিয়া টেলিযোগাযোগ খাতে আরো ভালো সময় পার করার পূর্বাভাস দিয়েছে। সংস্থাটির তথ্যানুযায়ী, ২০২৮ সাল নাগাদ ফাইভজি নেটওয়ার্কের বৈশ্বিক সংযোগ ৭৯০ কোটি ছাড়িয়ে যাবে।

 

ইত্তেফাক/এমএএম

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন