মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ীতে আঁখ চুরির অপবাদে ১২ বছরের এক শিশুকেই গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন করেছেন জমির মালিক। গতকাল সোমবার উপজেলার আড়িয়ল ইউনিয়নের পূর্ব নিতীরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।
নির্যাতনের শিকার সিয়াম সোনারং গ্রামের টুকু সরদারের ছেলে। সে নিতীরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র। বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর মায়ের আবার বিয়ে হওয়ায় সে নানা মন্নান শেখের কাছে থাকতো।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ওই এলাকায় করিম মাদবরের ক্ষেত থেকে আঁখ চুরি করে খায় স্থানীয় শিশু-কিশোররা। তবে এ ঘটনায় একই এলাকার সিয়ামকে সন্দেহ করেন তিনি। সেই জেরেই গতকাল বিকেল ৪টার দিকে শিশুটিকে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করেন করিম মাদবর।
সিয়ামের চাচা ডা. আলমগীর সর্দার জানান, যারা আঁখ চুরি করেছে তাদের না ধরে এতটুকু শিশুকে গাছের সঙ্গে বেঁধে অমানবিক নির্যাতন করেছে, যা আইন বহির্ভূত। আমরা শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করব এবং সংবাদ সম্মেলন করব। তবে এ বিষয়ে করিম মাদবরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।
ওয়ার্ড মেম্বার তোফাজ্জল হোসেন বলেন, বাচ্চাটি নির্দোষ, একটি অমানবিক কাজ করেছে করিম মাদবর। এ বিষয়ে বাচ্চার পরিবার ব্যবস্থা নিতে পারে। আর আড়িয়ল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দুলাল হালদার বলেন, আপনার মাধ্যমে জানলাম, আমার কাছে এখনও কোনো অভিযোগ আসেনি।
আড়িয়লে শিশু নির্যাতনের ঘটনায় কোনো অভিযোগ হয়েছে কি না জানতে চাইলে টঙ্গীবাড়ী থানার ওসি মোল্লা শোয়েব আলী বলেন, এখনও এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ এলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

