অর্থ মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত সর্বজনীন পেনশন স্কিম-সংক্রান্ত ‘বৈষম্যমূলক প্রজ্ঞাপন’ প্রত্যাহারের দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো সর্বাত্মক কর্মবিরতি পালন করছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
এদিকে ২০১৮ সালে ঘোষিত সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিল ও মেধাভিত্তিক নিয়োগের পরিপত্র বহাল রাখাসহ চার দাবিতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে সর্বাত্মক কর্মবিরতি শুরু করেন শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। পরে দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদ ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষকেরা। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, সশরীরে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে। এমনকি অনলাইনেও ক্লাস নিচ্ছেন না শিক্ষকেরা। পাশাপাশি দাপ্তরিক কাজ বন্ধ রেখেছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারও বন্ধ রাখা হয়। যদিও পরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে গ্রন্থাগার খুলে দিতে বাধ্য হন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল ও বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও কর্মবিরতি পালন করেছেন। তবে জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় সেবা দিচ্ছেন শিক্ষার্থীদের।
শিক্ষকদের দাবিগুলো হলো—অর্থ মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত পেনশনসংক্রান্ত ‘বৈষম্যমূলক প্রজ্ঞাপন’ প্রত্যাহার, প্রতিশ্রুত সুপারগ্রেডে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্তি ও শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতনস্কেল প্রবর্তন করা। এছাড়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবি হলো অর্থ মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত সর্বজনীন পেনশন স্কিম ‘প্রত্যয়’ চালুর প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার করা।
আন্দোলনের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সহসভাপতি অধ্যাপক সোহেল আহমেদ বলেন, ‘একটি স্বার্থান্বেষী মহল সর্বজনীন পেনশন স্কিমের মাধ্যমে বর্তমান সরকারকে বিতর্কিত ও অজনপ্রিয় করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে সরকারের দূরত্ব তৈরি করতে চায়।
এদিকে বেলা সাড়ে ৩টায় সরকারি চাকুরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিল ও মেধাভিত্তিক নিয়োগের পরিপত্র বহাল রাখার দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি সড়ক ঘুরে প্রধান ফটকসংলগ্ন (ডেইরি গেইট) ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে গিয়ে শেষ হয়। এরপর ২০ মিনিট প্রতীকী অবরোধ করে সমাবেশ করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় সড়কের উভয় লেনে যানজটের সৃষ্টি হয়।
