রাজশাহীর বাঘায় পৌর মেয়র আক্কাছ আলীর হামলায় নিহত আওয়ামী লীগ নেতা আশরাফুল ইসলাম বাবুলের ছেলে প্রধানমন্ত্রীর কাছে বাবা হত্যার বিচার চেয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন।
মেয়র আক্কাছ এবং ইউপি চেয়ারম্যান মেরাজের ফাঁসি চেয়ে তিনি ফেসবুকে লিখেন, আমার আর্তচিৎকার, আহাজারি, হৃদয়ের রক্তক্ষরণ কে দেখবে। বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।
বাবুলের দাফনের পর তার ছেলে আশিক জাবেদ লাবু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেন, আপন হারানোর ব্যথা অন্য কেউ বোঝে না। কথার কৌশল আর অপরাধীদের শক্ত খুঁটিই কি তাহলে এই বিচারের বাধা হচ্ছে। তবে কি বঙ্গবন্ধুর স্বাধীন দেশে এই নির্মমতার বিচার ঘুরপাক খেতে থাকবে। লজ্জা ও ঘৃণার সাথে ধিক্কার জানাই সেইসব মানুষদের, যারা এই নৃশংস ঘটনার বিচার বন্ধ করতে বার বার বলছে, দু’পক্ষের সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন বাঘা উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক। কিন্তু একবারও বলছে না আক্কাস খুনি, মেরাজ খুনি।
বাঘা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম বাবুল হত্যার মূলহোতা বাঘা পৌর মেয়র আক্কাছ আলী। বাবুল হত্যার আগে থেকেই এলাকায় মূর্তিমান আতঙ্ক হয়ে ওঠেন আক্কাছ। আধিপত্য বিস্তারে রয়েছে তার সুসংগঠিত বাহিনী। বালু মহাল থেকে শুরু করে টেন্ডারবাজি, মদ খেয়ে মাতলামি, প্রধানমন্ত্রীকে কালো পতাকা দেখানো, নারী নির্যাতন, চাঁদাবাজি, ধর্ষণ, বলাৎকার, দাঙ্গা-হাঙ্গামা, সরকারি কর্মকর্তাকে মারপিটসহ নানা অপকর্মে জড়িয়ে আছে তার নাম। মেয়র আক্কাছের নামে বাঘা থানা ও আদালত মিলে বিভিন্ন সময় রেকর্ড হয়েছে ২৩টি মামলা ও ১৭টি জিডি। এসব অপকর্মের জন্য তাকে একাধিকবার দল থেকে বহিষ্কারও করা হয়েছে।
সর্বশেষ গত ২২ জুন সকালে আক্কাছের একাধিক অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে উপজেলা আওয়ামী লীগের ব্যানারে মানববন্ধন করতে গেলে বর্বরোচিত হামলা চালান তিনি। এতে গুরুতর আহত হয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন দলের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম বাবুল। এর দু’দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় আইসিউতে মারা যান তিনি। তবে এখনো পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়নি এ হত্যার প্রধান আসামি মেয়র আক্কাছ আলী।
