গত ১ জুলাই পার্লামেন্ট ভবনে ভাঙচুরের ঘটনার পর রবিবার প্রথমবারের মতো হংকংয়ের রাস্তায় বিক্ষোভ করেছে হাজার হাজার আন্দোলনকারী। চীনা পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় একটি অঞ্চলে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। এ বিক্ষোভ থেকে বিতর্কিত প্রত্যাবাসন বিল নিয়ে নিজেদের উদ্বেগ জানান আন্দোলনকারীরা। দিনের শেষ ভাগে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়।
রবিবার কুউলোন শহরের মধ্য দিয়ে মিছিল নিয়ে বিক্ষোভকারীরা পশ্চিম কুউলোনের ট্রেন স্টেশন পর্যন্ত যায়। এই স্টেশনের মাধ্যমে দ্রুতগতির রেল নেটওয়ার্ক দিয়ে চীনের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে হংকং। মূল ভূখণ্ডের পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে রবিবারের বিক্ষোভে চীনের জাতীয় সংগীত এবং চীনা ভাষায় লিখিত ব্যানার বহন করা হয়। এডিসন এনজে নামে ১৮ বছর বয়সি এক বিক্ষোভকারী বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘আমরা পর্যটক এবং মূল ভূখণ্ডের বাসিন্দাদের হংকংয়ে যা ঘটছে তা দেখাতে চাই। আর আশা করি, তারা এই ধারণা চীনে নিয়ে যাবে।’
বিক্ষোভ আয়োজকরা বলছে, রবিবার বিক্ষোভে দুই লাখ ৩০ হাজার মানুষ অংশ নেয়। তবে পুলিশের দাবি এদিন বিক্ষোভে যোগ দেয় ৫৬ হাজার মানুষ। ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, পুলিশি হামলা ঠেকাতে বিক্ষোভকারীরা ছাতা ব্যবহার করেছে। এরপরও বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে হংকংয়ের পুলিশ।
গত মাসে হংকং সরকার বিতর্কিত একটি প্রত্যর্পণ বিল পাশের উদ্যোগ নিলে বিক্ষোভে নামে অঞ্চলটির সাধারণ মানুষ। তাদের আশঙ্কা এ বিল পাষ হলে হংকংয়ের রাজনীতিতে চীনের প্রভাব বাড়বে। আন্দোলনের মুখে বিল পাশের কার্যক্রম স্থগিত রাখে কর্তৃপক্ষ। তবে আন্দোলনকারীরা চাইছে বিলটি পুরোপুরিভাবে বাতিল করা হোক। গত ১ জুলাই সরকারবিরোধী আন্দোলনের এক পর্যায়ে রাজপথে অবস্থান নেয় হাজার হাজার গণতন্ত্রকামী মানুষ। পার্লামেন্ট ভবনে ঢুকে পড়ে বিক্ষোভকারীরা সেখানে ভাঙচুর করে এবং ভবনের দেওয়ালে নানারকম স্লোগান লেখেন।
