যশোরের চৌগাছার পাশাপোল ইউনিয়নের রানিয়ালি গ্রামে অদৃশ্য সাপ আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে অর্ধশতাধিক নারী-পুরুষকে কথিত 'জিনসাপে' দংশন করেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।
জানা গেছে, গত ১ জুলাই গ্রামের আব্দুল হকের স্ত্রী রাবেয়া বেগমকে (৪০) রাতে ঘুমের মধ্যে বিষধর সাপে দংশন করে। সে সময় বাড়ির লোকজন তাকে প্রথমে পার্শ্ববর্তী কালিয়াকুন্ডি গ্রামের এক কবিরাজের কাছে নিয়ে যান। তার অবস্থার অবনতি হলে পরের দিন সকালে যশোর সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় কবিরাজের উপরে উত্তেজিত হন এলাকাবাসী। এ সময় কবিরাজ জানান, রাবেয়াকে জিনসাপে দংশন করেছে। যে কারণে চিকিৎসা দেয়ার পরেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। এরপর থেকে গ্রামে কথিত জিনসাপ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ পর্যন্ত স্কুলের শিক্ষার্থীসহ অর্ধশতাধিক নারী-পুরষকে 'অদৃশ্য' সাপে দংশন করেছে বলে শোনা যাচ্ছে।
সাপের দংশনে চিকিৎসা নেওয়া গৌরচন্দ্র মণ্ডল জানায়, আমি মাঠ থেকে বাড়ি ফিরছিলাম। এ সময় হঠাৎ মনে হলো পায়ে কিসে কামড় দিয়েছে। পরে শরীরে জ্বালাপোড়া শুরু হলে গ্রামের এক কবিরাজের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছি।
গ্রামে কথিত জিনসাপের দংশনে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ফেরদৌসি বেগম (৪৫), রিতনা বেগম (৪০), ৯ম শ্রেণির ছাত্রী পল্লবী মণ্ডল (১৫), নারায়ণ চন্দ্র (৪৫), তমা মণ্ডল (১৫), অনিতা মণ্ডল (২০), রমা মণ্ডল (২৫), মৌসুমি মণ্ডল (২০), কেয়া মণ্ডলসহ (১৬) প্রায় অর্ধশতাধিক নারী-পুরুষ।
সাবেক ইউপি সদস্য ও গ্রাম্য চিকিৎসক রিজাউল ইসলাম বলেন, জিনসাপের আতঙ্কে গ্রামের মানুষ রাতে ঘুমাতেও পারছেনা। কখন কাকে দংশন করে কে জানে! সবাই এখন এই আতঙ্কে আছি।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও কবিরাজ আব্দুল মজিদের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, দংশনের পর সবাই আমার কাছে চিকিৎসা নিতে আসছে। আমি তাদেরকে হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি।
যশোর সদর হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. হারুন অর রশিদ জানান, সাপে কাটার নামে চৌগাছার ১১ জন নারী-পুরুষ বর্তমানে ভর্তি রয়েছেন। তাদের শরীরে সাপে কাটার কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তারা সকলেই সাপ আতঙ্কে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
