আরো দুই বিধায়কের পদত্যাগ

সুতায় ঝুলছে কর্ণাটক সরকারের ভাগ্য

আপডেট : ০৮ জুলাই ২০১৯, ২২:২৯

কর্ণাটক সরকার সুতায় ঝুলছে। যে কোনো সময় পতন ঘটতে পারে কংগ্রেস ও জেডিএস সরকারের। আরো দুই নির্দলীয় বিধায়ক গতকাল পদত্যাগ করেছেন। যদিও দুই দলই সরকার টেকাতে জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী বাদে দুই দলের সব মন্ত্রী গতকাল ইস্তফা দিয়েছেন।

সংকট বেড়েছে

গত শনিবার পদত্যাগ করেছিলেন কংগ্রেস ও জেডিএসের মোট ১৩ জন বিধায়ক। তাঁদের বুঝিয়ে দলে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলাকালীন সোমবার সকালেই ইস্তফা দেন রাজ্যেরই এক মন্ত্রী তথা নির্দলীয় বিধায়ক নাগেশ। কর্ণাটকের সাবেক মন্ত্রী রামলিঙ্গ রেড্ডির মেয়ে কংগ্রেসের সৌমিয়া রেড্ডিও পরে ইস্তফা দেন। পদত্যাগী দুই নির্দলীয় বিধায়কই বিজেপিকে সমর্থনের কথা প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছেন। এর আগে দুই দলের ১৩ জন বিধায়ক পদত্যাগ করেছিলেন। সব মিলিয়ে কর্ণাটকের জেডিএস-কংগ্রেস জোট সরকারের অবস্থা আরো খারাপ হলো। তবে একেবারে হাল ছাড়েননি মুখ্যমন্ত্রী এইচ ডি কুমারস্বামী।

বিক্ষুব্ধ বিধায়কদের মন্ত্রিসভায় জায়গা করে দিয়ে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। সেই লক্ষ্যে কুমারস্বামী ছাড়া জোট সরকারের সব মন্ত্রী সোমবার ইস্তফা দিয়েছেন। তাঁর নেতৃত্বে খুব শিগগিরই নতুন মন্ত্রিসভা গঠিত হবে বলে গতকাল টুইটার বার্তায় জানিয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর। গতকাল সকালে প্রথমে কংগ্রেসের ২১ মন্ত্রী ইস্তফা দেন। সরকার বাঁচাতেই মন্ত্রীদের এই পদত্যাগ বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। ইস্তফা দেওয়া কংগ্রেসের মন্ত্রীদের মধ্যে উপমুখ্যমন্ত্রী জি পরমেশ্বরও আছেন। এরপর ইস্তফা দেন জেডিএসের মন্ত্রীরা।

সরকার রক্ষা করাই দুই দলের প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্রুত সমাধানের জন্য দিল্লিতে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব বৈঠকে বসে গতকাল সন্ধ্যায়। অন্যদিকে সংকট কাটাতে আটঘাট বেঁধে নেমেছেন জেডিএসের শীর্ষ নেতৃত্বও। বর্তমান সংকটে কোনো রকম ঝুঁকি নিতে চাইছেন না কুমারস্বামী। বিজেপি ঘোড়া কেনাবেচা করতে পারে— এমন আশঙ্কায় বিধায়কদের কুর্গে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করছেন তিনি। গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে কংগ্রেস নেতা কে সি বেণুগোপাল বলেন, ‘আশা করব ইস্তফা দেওয়া বিধায়করা দলকে মজবুত করতে ফিরে আসবেন। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে তাঁরা দলের পাশে থাকবেন।’ তিনি বিজেপির ষড়যন্ত্র ঠেকাতে সব মন্ত্রীর পদত্যাগের সিদ্ধান্তকেও স্বাগত জানিয়েছেন। —এনডিটিভি ও আনন্দবাজার পত্রিকা