ঐক্যফ্রন্ট থেকে বেরিয়ে গেলেন কাদের সিদ্দিকী

আপডেট : ০৮ জুলাই ২০১৯, ২২:৩৬

গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে বেরিয়ে গেল বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ। গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে ঐক্যফ্রন্ট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কৌশলী ঘোষণা দিয়ে কাদের সিদ্দিকী বলেছেন, ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নামে যে জোট গড়া হয়েছিল, নির্বাচনের পর গত সাত মাসে এর কোনো অস্তিত্ব এখন খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। জাতীয় কোনো সমস্যাকে ঐক্যফ্রন্ট জনগণের সামনে তুলে ধরতে পারছে না। এ রকম একটি জোট যে আছে, তা দেশের মানুষ জানেই না। তাই জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অস্তিত্ব বা ঠিকানা খোঁজার চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে আমরা জনগণের সব সমস্যায় তাদের পাশে থাকার অঙ্গীকারে নতুন উদ্যমে পথ চলা শুরু করছি।’

প্রসঙ্গত, একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপিকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যফ্রন্ট গঠন করেন ড. কামাল। ঐক্যফ্রন্ট গঠনের প্রায় এক মাস পর গত ৫ নভেম্বর ফ্রন্টে যোগ দেন কাদের সিদ্দিকী। আট মাসের মাথায় তিনি ফ্রন্ট ছেড়ে গেলেন।

সংবাদ সম্মেলনে দলের পক্ষ থেকে পাঠ করা লিখিত বক্তব্যে সরাসরি উল্লেখ না থাকায় সাংবাদিকেরা প্রশ্ন করেন, ‘আপনার দল কি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ছেড়ে দিল?’ এর উত্তরে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘আমার মনে হয় না যে এখানে কোনো অস্পষ্টতা আছে। সত্য কথা বলতে, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এখন খুঁজে পাওয়া যায় না। তার কোনো কর্মকাণ্ড নেই। সে জন্য সেখান থেকে আমরা চলে আসছি।’

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ‘অকার্যকর’ অবস্থার জন্য কে দায়ী প্রশ্ন করা হলে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘আমিসহ, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগসহ যারা ঐক্যফ্রন্ট গঠন করেছিলেন, কম-বেশি সকলেই দায়ী।’ নতুন কোনো জোটে যাচ্ছেন কি না, জানতে চাইলে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘রাজনীতি একটা প্রবহমান নদীর মতো, এটা স্রোতধারার মতো। গণতন্ত্রকামী প্রতিটি মানুষের সাথে আমাদের কাজ করা উচিত। সে ক্ষেত্রে ঐক্যফ্রন্টে যারা ছিলেন, তাদের সাথে ভবিষ্যতে কাজ করব না এমন কোনো শর্ত নেই। নির্ভেজাল গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় আমরা কাজ করব।’ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের জোটে না যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের পরপর আমি বলেছিলাম, আর কিছু হোক বা না হোক, বর্তমান সরকারি দল ভবিষ্যতে কোনো দিন একটি সুষ্ঠু নির্বাচনে জয়লাভ করতে পারবে না, সেই রাস্তাটা তারা নিশ্চিত করেছে। আমরা সমমনা গণতন্ত্রপ্রেমী এই দেশের প্রতিটি দলের সাথে কাজ করার চেষ্টা করব।’

একাদশ সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে কাদের সিদ্দিকী বলেন, নির্বাচন হয়েছে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ফ্রন্টের ব্যানারে। কিন্তু জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মনোনয়ন ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে দেওয়া হয়নি, ফ্রন্টের যে অফিস ছিল, সেখান থেকেও দেওয়া হয়নি। এটা দেওয়া হয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গুলশানের কার্যালয় থেকে। মূলত নেতৃত্ব করেছে বিএনপি। এই জিনিসটা খুবই গুরুতর অন্যায় হয়েছে এবং ঐক্য গঠনের নীতিমালার পরিপন্থি। পূর্ব অবস্থান থেকে সরে ঐক্যফ্রন্টের বিজয়ী এমপিদের শপথ নিয়ে সংসদে যোগদানেরও সমালোচনা করেন কাদের সিদ্দিকী। সংবাদ সম্মেলনে কাদের সিদ্দিকীর স্ত্রী নাসরিন সিদ্দিকী, মেয়ে কুঁড়ি সিদ্দিকী, দলের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান তালুকদার, সাংগঠনিক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুল্লাহ ও আমিনুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।