ফিরোজ রশীদের ছেলের প্রাক্তন স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীন

আপডেট : ০৮ জুলাই ২০১৯, ২২:৩৭

ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদের জ্যেষ্ঠ ছেলে কাজী শোয়েব রশীদের প্রাক্তন স্ত্রী মেরিনা রশীদ দীর্ঘদিন ধরেই মানসিক ভারসাম্যহীন। বিশেষ করে ছোটো বোনের অকালমৃত্যুর পর থেকেই মানসিক রোগে ভুগছিলেন মেরিনা। তার নিয়মিত চিকিত্সাও চলছিল। এই অবস্থায় রবিবার রাতে নিজ ঘরে নিজেই নিজের পেটে গুলি চালান। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে চিকিত্সকেরা অপারেশন করে গুলি বের করেন। গতকাল সোমবার সকালে তার জ্ঞান ফেরে। বর্তমানে তিনি স্বাভাবিক কথাবার্তা বলছেন বলে তার পরিবারের লোকজন জানিয়েছেন।

গতকাল ঘটনাস্থল কাজী ফিরোজ রশীদের ধানমন্ডির বাড়িতে গিয়ে মেরিনার বাবার সঙ্গেও কথা হয়। মেয়ের এই কাজে বাবা নিজেই লজ্জিত। এ সময় ফিরোজ রশীদ কাগজপত্র                 দেখিয়ে জানান, বহু আগেই মেরিনার সঙ্গে শোয়েবের ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে। তবে মেরিনা নিজের বাবার বাসায় সত্-মায়ের সঙ্গে থাকতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছিলেন না। দুই সন্তানের সঙ্গেই থাকার আকুতি জানান মেরিনা। ফিরোজ রশীদ বলেন, ‘তালাক হয়ে যাওয়ার পরও শুধুমাত্র দুই নাতি-নাতনির কথা ভেবে আমাদের পাশের ফ্ল্যাটেই মেরিনার থাকার ব্যবস্থা করি। তবে শোয়েবের সঙ্গে তার কোনো ধরনের সম্পর্ক ছিল না।’

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ফিরোজ রশীদ বলেন, ‘রবিবার বিকালে আমি সংসদের অধিবেশনে ছিলাম। সন্ধ্যার পর আমার স্ত্রী ফোন করে ঘটনার কথা জানায়। আমি দ্রুত বাসায় ফিরে মেরিনাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই। শোয়েবের ড্রয়ার থেকে লাইসেন্সকৃত পিস্তল নিয়ে মেরিনা যখন নিজ ঘরে নিজের পেটে গুলি চালায়, তখন সেই ঘরে শুধু আমার নাতনি ছিল, তা-ও নাতনি ছিল বাথরুমে। হাসপাতালে নেওয়ার পর মেরিনার বাবাও ছুটে আসে।’ তিনি জানান, মেরিনার চিকিত্সা চললেও তিনি ঠিকমতো ওষুধ সেবন করতেন না।

ফিরোজ রশীদের পুত্র শোয়েব রশীদ জানান, মানসিক সমস্যার কারণে তার সাবেক স্ত্রী মেরিনাকে কয়েকবার হাসপাতালেও ভর্তি করা হয়েছিল। তিনি বিশিষ্ট মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মোহিত কামালের নিয়মিত রোগী। এক প্রশ্নের জবাবে শোয়েব জানান, রবিবার সকালে তিনি বাসা থেকে বেরিয়ে অফিসে যান। রাতে বাসায় ফিরে ঘটনা জানতে পারেন। শোয়েব-মেরিনার কন্যা কাজী নাফিসা জানায়, সে-ও তার মাকে ওষুধ খেতে বলত, তবে মা কথা শুনতেন না। রবিবারের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে নাফিসা জানায়, ঐ সময় বাসায় তার দাদি (ফিরোজ রশীদের স্ত্রী) ও কয়েকজন গৃহপরিচারিকা ছাড়া আর কেউ ছিলেন না।