শক্তিশালী পুঁজিবাজার গঠনে কাজ করে যাচ্ছে সরকার :প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ০৯ জুলাই ২০১৯, ০০:২৯

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তাঁর সরকার দেশব্যাপী প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ শিক্ষা এবং বিনিয়োগকারীদের সম্ভাব্য সব ধরনের নিরাপত্তা প্রদানের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী ও স্থিতিশীল পুঁজিবাজার গঠনে কাজ করে যাচ্ছে। গতকাল সোমবার সকালে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ‘রিজিওনাল সেমিনার অন ফিন্যান্সিয়াল লিটারেসি এ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট প্রোটেকশন’ শীর্ষক ৪ দিনের এক সেমিনারের উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করেছে। সেমিনারে ভারত, জাপান, ফিলিপাইন, নেপাল, কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং আইসল্যান্ডের প্রতিনিধিগণ অংশগ্রহণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার শক্তিশালী পুঁজিবাজার গড়ে তোলার জন্য ধারাবাহিকভাবে পলিসি সাপোর্ট, আইনগত সংস্কার, অবকাঠামো নির্মাণসহ নানাবিধ সহযোগিতা দিয়ে আসছে। পুঁজিবাজারের বিভিন্ন পর্যায়ে অনিয়ম দূর করে জবাবদিহিতা ও সুশাসন নিশ্চিত করা হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের পুঁজিবাজার এখনো ব্যক্তি শ্রেণির বিনিয়োগকারীর ওপর নির্ভরশীল। একটি দক্ষ বিনিয়োগ গোষ্ঠী গড়ে তুলতে দেশব্যাপী বিনিয়োগ শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। ইতিমধ্যে ‘বাংলাদেশ একাডেমি ফর সিকিউরিটিজ মার্কেট (বিএএসএম)’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ব্যক্তি শ্রেণির বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ ঝুঁকি হ্রাস করতে বিএসইসি দেশব্যাপী বিনিয়োগ শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।’ পুঁজিবাজারে খেয়াল খুশিমতো বিনিয়োগ করা থেকে বিরত থাকতে তিনি বিনিয়োগকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, মূলত, বিনিয়োগকারীরাই হলো বাজারের মূল চালিকাশক্তি। তাই তাদের সচেতনতার বিষয়টি শক্তিশালী পুঁজিবাজার গড়ার অন্যতম পূর্বশর্ত। জেনে-বুঝে বিনিয়োগ করলে একদিকে যেমন প্রত্যেকের বিনিয়োগ ঝুঁকি মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ে, অন্যদিকে নিশ্চিত হয় বাজারের স্থিতিশীলতা।’

পুঁজিবাজারের সম্প্রসারণে তাঁর সরকারের বহুমুখী পদক্ষেপসমূহ তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি আরো বলেন, ২০১৯-২০ অর্থবছরে বিনিয়োগকারীদের করমুক্ত ডিভিডেন্ড আয়ের সীমা ২৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। নতুন ফিক্সড ইনকাম ফিন্যানসিয়াল প্রোডাক্টসহ বিভিন্ন ধরনের বন্ড প্রচলনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শর্ট সেল এবং রিস্ক বেইস ক্যাপিটাল সংক্রান্ত দুটি বিধি প্রণয়ন করা হয়েছে। তিনি বলেন, দারিদ্র্যের হার কমে এখন ২১ শতাংশ। মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৯০৯ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। পাশাপাশি মুদ্রাস্ফীতির হার ৫ দশমিক ৪ শতাংশে রাখা সম্ভব হয়েছে। গত দশ বছরে দেড় কোটি মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে এবং ৫ কোটির বেশি মানুষ নিম্ন আয় থেকে মধ্যম আয়ের স্তরে উন্নীত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি মহাকাশে নিজস্ব স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ উেক্ষপণসহ যোগাযোগ ও টেলিযোগাযোগ খাতে দেশের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরেন। বর্তমান সরকার ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ সময়কে ‘মুজিব বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করেছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করার মাধ্যমে সকলের সম্মিলিত প্রয়াসে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ‘সোনার বাংলাদেশ’ গড়ে তুলতে সক্ষম হবেন বলেও দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর মনমোহন প্রকাশ এবং বিএসইসি চেয়ারম্যান ড. মো. খায়রুল হোসেন অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন। সেমিনারে দেশের উন্নয়নে পুঁজিবাজারের ভূমিকা শীর্ষক একটি ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়।