খেলাপিদের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিশেষ ঋণ সুবিধা বহাল

আপডেট : ০৯ জুলাই ২০১৯, ০০:২৯

খেলাপিদের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিশেষ ঋণ সুবিধা বহাল রয়েছে। একইসঙ্গে এ সংক্রান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের জারিকৃত প্রজ্ঞাপনের ওপর হাইকোর্টের দেয়া স্থিতাবস্থার আদেশ আরো দুই মাসের জন্য স্থগিত করেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। আদালত বলেছে, উল্লেখিত এই সময়ের মধ্যে যারা বিশেষ সুবিধা গ্রহণ করবে তারা অন্য ব্যাংক থেকে নতুন কোনো ঋণ নিতে পারবে না। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চ গতকাল সোমবার এই আদেশ দেন।

ঋণখেলাপিদের বিশেষ সুবিধা দিয়ে গত ১৬ মে প্রজ্ঞাপন জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ঐ প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ঋণখেলাপিরা মাত্র দুই শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়েই ঋণ পুনঃতফসিল করতে পারবেন। পুনঃতফসিল হওয়া ঋণ পরিশোধে তারা সময় পাবেন দশ বছর। এক্ষেত্রে প্রথম একবছর কোনো কিস্তি দিতে হবে না। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই প্রজ্ঞাপনের কার্যকারিতা স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পীস ফর বাংলাদেশের পক্ষে আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। গত ২১ মে হাইকোর্ট ঐ প্রজ্ঞাপনের ওপর স্থিতাবস্থা জারি করে।

হাইকোর্ট বলেন, ঐ প্রজ্ঞাপন ‘দুষ্টের পালন, শিষ্টের দমন’ এর মতো। হাজার হাজার কোটি টাকা লোন নিয়ে যারা ব্যাংক লুট করে ফেলল তাদেরকেই যেন আবার দুধ-কলা দিয়ে পোষা হচ্ছে। এই সুবিধা দেওয়ার মাধ্যমে ব্যাংক থেকে আরো এক লাখ কোটি টাকা নিয়ে যাবে। হাইকোর্টের এই স্থিতাবস্থার আদেশ স্থগিত চেয়ে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করে আবেদনটি শুনানির জন্য প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন।

গতকাল স্থগিত আবেদনের পক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও রিটকারীর পক্ষে মনজিল মোরসেদ শুনানি করেন। শুনানির এক পর্যায়ে আদালত বলেন, ক্ষুদ্র ঋণ গ্রহীতাদের বিরুদ্ধে সবসময় সঠিকভাবে মামলা চলে। কিন্তু বড়ো বড়ো ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কী আইনি ব্যবস্থা নেয়া হয়? বেসিক ব্যাংক, ফারমার্স ব্যাংকের মতো ভবিষ্যতে কোনো ব্যাংকের পরিস্থিতি যেন দেখতে না হয়। শুনানি শেষে আপিল বিভাগ উপরোক্ত আদেশ দেয়। পরে অ্যাটর্নি জেনারেল সাংবাদিকদের বলেন, খেলাপিদের সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের বিষয়। জাতীয় স্বার্থে সরকার এই সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মনজিল মোরসেদ বলেন, দুই শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে দিলে ব্যাংকে টাকা ফেরত আসবে। কিন্তু ব্যাংক থেকে তারা নতুন করে ঋণ নিতে পারবে না। এর মধ্য দিয়ে আমরা আশা করছি, জনগণের রক্ষিত টাকা রক্ষা করা সম্ভব হবে।

রুল শুনানি অন্য বেঞ্চে

ঋণখেলাপিদের বিশেষ সুবিধা সংক্রান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপন কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিলো বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। একইসঙ্গে ঐ প্রজ্ঞাপনের কার্যকারিতার ওপর স্থিতাবস্থাও জারি করে আদালত। কিন্তু আপিল বিভাগ এই মামলার রুল শুনানির জন্য বিচারপতি জে বি এম হাসানের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চকে নির্ধারণ করে দিয়েছেন। আপিল বিভাগের এ আদেশের বিষয়টি জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের আইনজীবী মো. মনিরুজ্জামান।