বরিশাল ব্রজমোহন (বিএম) কলেজে কোটা সংস্কারের দাবিতে চলা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে হামলা চালিয়েছে ছাত্রলীগ। এ সময় অন্তত ১০ জন আহত হন।
মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) দুপুর ১২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত চলে এ সংঘর্ষ। আহতদের মধ্যে ৬ জনকে উদ্ধার করে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আহতরা হলেন, বিএম কলেজ স্নাতক তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী অদ্রিপ (২১), দ্বিতীয় বর্ষের মো. ইয়ামিন (২১), তৃতীয় বর্ষের মো. আসাদুজ্জামান (২১), দ্বিতীয় বর্ষের তরিকুল ইসলাম (২১), তৃতীয় বর্ষের লিমন (২১) এবং মো. রাকিব (২১) ।
আন্দোলনরত একাধিক শিক্ষার্থীরা জানান, কোটা সংস্কারের যৌক্তিক দাবি আদায় নিয়ে আমরা প্রথমে ক্যাম্পাসে আন্দোলন শুরু করি। হটাৎ আমাদের ওপর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এতে আমাদের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। তাদের উদ্ধার করে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়বো না।
এদিকে সড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করলে সড়কের দুইপাশে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন পড়ে যায়। ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীসহ সাধারণ মানুষ। অনেকে পায়ে হেঁটে গন্তব্যে রওনা দেন। তবে রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি সেবার যানবাহন চলাচলে কোন বাঁধা দিতে দেখা যায়নি শিক্ষার্থীদের।
অন্যদিকে বিকাল ৫টার দিকে আন্দোলনকারীরা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় তাদের কর্মসূচী চালালে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা আবারও হামলা চালায়। এতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় আন্দোলনকারী, ছাত্রলীগ ও পুলিশের মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কমপক্ষে ১০ রাউন্ড টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে বলে প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়।
তবে মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার আলী আশরাফ ভূঁইয়া জানিয়েছেন, ৫ থেকে ৬ রাউন্ড টিয়ার শেল ছোড়া হয়েছে। থেমে থেমে চলা হামলা-পাল্টা হামলায় বরিশাল নগরীতে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সড়কে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
অন্যদিকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানান, মহাসড়কে তাদের অবরোধ কর্মসূচী কমপক্ষে রাত ১০টা পর্যন্ত চলবে।
