ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ, পুলিশের সঙ্গে বাকবিতন্ডা 

আপডেট : ১৮ জুলাই ২০২৪, ১৬:১০

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারাদেশে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে সারাদেশের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করে কমপ্লিট শাটডাউনের অংশ হিসেবে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ সমাবেশ করছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এসময় পুলিশের সঙ্গে তাদের বাকবিতন্ডা হতে দেখা গেছে। 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) দুপুর আড়াইটায় শিক্ষার্থীদের একটি মিছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে অবস্থান নিয়ে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করে। এসময় প্রধান ফটকের সামনে প্রায় শতাধিক পুলিশ-বিজিবি মোতায়েন করা হয়।

শিক্ষার্থীদের ‘হৈহৈ রৈরৈ ছাত্রলীগ গেলো কই, আমার ভাইয়ের রক্ত কেন?’, ‘প্রশাসন জবাব চাই, কুমিল্লায় হামলা কেন, প্রশাসন জবাব চাই, মুক্তিযুদ্ধের মূলকথা, সুযোগের সমতা’, ‘সারা বাংলায় খবর দে, কোটা প্রথার কবর দে’, ‘আঠারোর হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার’, ‘জেগেছে রে জেগেছে, ছাত্রসমাজ জেগেছে’, ‘কোটা না মেধা, মেধা মেধা’, ‘মুক্তিযুদ্ধের বাংলায়, বৈষম্যের ঠাই নাই’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে দেখা যায়।

এসময় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বলেন, মনে অনেক কষ্ট নিয়ে আজকে রাজপথে দাঁড়িয়েছি। আমাদের ভাই বোনদের মৃত্যু বৃথা হতে কখনোই দেব না। প্রয়োজন হলে আমরাও রাজপথে জীবন দেব। গতকালও আমাদের ওপর পুলিশ টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট ছুড়েছে। আমরা সবাই রাজপথে জীবন দিতে চাই। 

তারা আরও বলেন, সরকার জেনেশুনেই আমাদের সঙ্গে নাটক শুরু করেছে। আগামীকাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে মন্তব্য করেছেন তা আমাদের শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে বক্তব্য। আমাদের যৌক্তিক দাবিকে সরকার ভিন্নখাতে নিয়ে যাচ্ছেন। শিক্ষার্থীরা যৌক্তিক দাবির জন্য রক্ত দিচ্ছে। আমাদের কয়েকজন ভাই ইতিমধ্যে মারা গেছেন। তাদের রক্তের বিনিময়ে হলেও ছাত্রদের দাবি বাস্তবায়ন হবে।

এর আগে, আজ বেলা ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বুদ্ধিজীবী চত্বরে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ এবং দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে চলমান হামলা ও সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেন শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও অভিভাবকেরা। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকীব বলেন, সুবিচারের পক্ষে যারা দাড়ানোর সাহস রাখেন তারা প্রতেকেই এই সময়ের মুক্তিযোদ্ধা। ৭১ এ গিয়ে আর মুক্তিযুদ্ধ করার সুযোগ নেই। তাই এই সময়ে মানুষের অধিকার আদায়ে যারা দাঁড়িয়েছে তারা মুক্তিযোদ্ধা। আর এই সময়ে মানুষের অধিকার হরণের পক্ষে যারা দাড়িয়েছে তারা প্রত্যেকে এই যুগের রাজাকার। আমি সারাজীবন লেখাপড়া ও গবেষণা নিয়ে থাকতে চেয়েছিলাম। কিন্তু দুঃখের বিষয় আমাকে আজ এখানে এসে দাঁড়াতে হয়েছে। শিক্ষার্থীদের উপেক্ষা করে এই রাষ্ট্র চলবে না। শিক্ষার্থীরা সেটি বুঝিয়ে দিয়েছে। আমাদের রাজনীতি সচেতন হওয়া দরকার।

ইত্তেফাক/এআই