শিক্ষার্থীদের বের করতে জাবির হলে পুলিশের অভিযান

আপডেট : ১৮ জুলাই ২০২৪, ১৬:৫৪

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) শিক্ষার্থীদের বের করতে আবাসিক হলগুলোতে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। এ সময় কয়েকজন শিক্ষার্থীদের হল থেকে বের করে দেন তারা।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) দুপুর একটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মশাররফ হোসেন হল থেকে অভিযান শুরু করে পুলিশ সদস্যরা।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, প্রাধ্যক্ষ ও হলের অন্য শিক্ষকদের উপস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে গেছে পুলিশ। তবে যেসব হলের প্রাধ্যক্ষরা নিশ্চিত করেছেন যে, ভেতরে শিক্ষার্থীরা অবস্থান করছে না। সেসব হলের ভেতরে পুলিশ প্রবেশ করেনি। তবে যেসব হলে শিক্ষার্থীরা অবস্থান করছিলো, সেই হলগুলোর ভেতরে ঢুকে তাদের বের করে দেয় পুলিশ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাধ্যক্ষ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মুহাম্মদ ছায়েদুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থী নির্দেশনা মেনে চলে গেছে। তবুও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে হল ভ্যাকেন্টের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। যদিও মেয়েদের হলগুলোতে যায়নি পুলিশ।

হলে শিক্ষার্থী না থাকার পরেও পুলিশের অভিযান চালানোর বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমগীর কবীর বলেন, রাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত ছিলো, সবগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের হল ভ্যাকেন্ট কার্যকর করতে হবে। তাই পুলিশ অভিযান চালিয়েছে। এখানে আমার কিছু করার ছিলো না। তবুও যেসব হলের প্রাধ্যক্ষরা শিক্ষার্থী না থাকার বিষয় নিশ্চিত করেছেন, সেসব হলে ঢুকেনি পুলিশ।

এদিকে সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান নেয় পুলিশ। তখন ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস ও ট্রাফিক, উত্তর বিভাগ) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী বলেন, বহিরাগত কেউ যাতে ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল না করতে পারে, সেজন্য আমরা সকাল থেকে সতর্ক অবস্থানে রয়েছি। পাশাপাশি হলগুলোতে যাতে কেউ না থাকে, সেটা নিশ্চিত করতে চাই।

এর আগে, গতকাল বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের জরুরি সভা শেষে শিক্ষা কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণার পাশাপাশি হল ছাড়ার নির্দেশনা দেওয়ার পরপরই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ক্যাম্পাস। বন্ধের ঘোষণা প্রত্যাহারের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন সংলগ্ন মুরাদ চত্বরে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। এতে প্রশাসনিক ভবনে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. নূরুল আলমসহ অন্য সিন্ডিকেট সদস্য এবং শিক্ষকরা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।

এদিকে উপাচার্যের অবরুদ্ধের খবরে ক্যাম্পাসে এপিসিকারসহ পুলিশ প্রবেশ করে। তখন পুলিশ সদস্যদের সামনে ও পেছনে সড়ক আটকে অবস্থান নেয় শিক্ষার্থীরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশের পক্ষ থেকে জাবির মূল ফটকে ৬ প্লাটুন বিজিবি, অতিরিক্ত পুলিশ ও র‍্যাব মোতায়েন করা হয়। পরে বিকালে শিক্ষার্থীদের উপর হামলা চালায় পুলিশ। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়।

ইত্তেফাক/এআই