আঠারো বছর বয়স কি দুঃসহ/ স্পর্ধায় নেয় মাথা তোলবার ঝুঁকি। কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য লিখেছিলেন আঠারো বছরের মহিমা। বর্তমান সময়ে এই বয়েসীদের একটা সুন্দর নাম আছে। জেন-জি!
জেন-জি বা জেনারেশন জি হলো বর্তমান সময়ের খুব ট্রেন্ডিং একটা উপমা। বেশ কিছু মিডিয়া ও গবেষকদের মতে, যারা ১৯৯৯ এর পর থেকে ২০০৭ এর মধ্যে জন্ম, তাদের জেন-জি বলা হয়। এদের মিলেনিয়াল ও জেনারেশন আলফা এর বংশধর বিবেচনা করা হয়।
জেন-জিদের আছে আলাদা জীবনধারণ ব্যবস্থা। সাধারণত টেলিভিশন, ইন্টারনেট, মোবাইল-ফোন ইত্যাদির সঙ্গে বেড়ে ওঠা জেনারেশন বলেই তাদের আচার আচরণেও মিলেনিয়ালদের আড়ষ্টতা থাকে না। এরা অনেক এক্সট্রোভার্ট ও স্মার্ট বলেই নিজেদের পরিচয় দেয়। বাধাহীন, দুরন্ত, ভীতি-হীন ব্যক্তিত্বের অধিকার তারা। তবে সবকিছু ছাপিয়ে এই জেন-জি দের রয়েছে নিজস্ব লাইফস্টাইল। এই প্রজন্ম নিজেদের কঠোর পরিশ্রমী, আত্মনির্ভরশীল এবং সৃজনশীল হিসেবে বিবেচনা করে। তাদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক মূল্যবোধ, চিন্তাভাবনা, জীবনযাপন, ভবিষ্যতের লক্ষ্য অন্যদের তুলনায় আলাদা।
জেন-জিদের ফ্যাশন সেন্স
জেন-জির নির্দিষ্ট কোনো ফ্যাশন ট্রেন্ড নেই। আবার পুরনো স্টাইল নতুনভাবে রিক্রিয়েট করতে তাদের আপত্তিও নেই। তাই দেখা যায় মা/নানীর শাড়িকে মানানসই জুয়েলারি আর একসেসরিজ দিয়েই নতুন স্টাইলে পরে নিজেকে আরো স্টাইলিশ প্রমাণ করে এরা। ফ্যাশন নিয়ে বিশেষ আগ্রহ থাকার জন্য তাদের দিনের বড় একটা সময় বিভিন্ন রকমের ম্যাগাজিন, ব্লগ ঘেঁটে ও ফ্যাশন সংক্রান্ত ভ্লগ দেখে কাটায়। বাইকার শর্টস, কম্ফি বা টার্টলনেক ও কিউবান কলার শার্ট রয়েছে তাদের ফ্যাশন তালিকায়। এই প্রজন্মের সবচেয়ে বড় অর্জন লিঙ্গ-নিরপেক্ষ পোশাক। কয়েক দশক আগেও বিষয়টি চিন্তা করা যেত না। এখন তারাই প্রমাণ করেছে, লিঙ্গ-নিরপেক্ষ পোশাক পরা যায়।
পোশাকের রং নির্বাচনেও জেন-জিরা খুব সতর্ক। সাধারণত হালকা প্যাস্টেল রঙ বা ছোটো প্রিন্টেড পোশাক তাদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে। ঢিলেঢালা আরামদায়ক পোশাক পরতে তারা কম্ফোর্ট্যাবল। এই প্রজন্মের প্রভাবে ডিজাইনাররা নতুন নতুন ডিজাইনের পোশাক তৈরি করছে। তাদের পোশাকে রঙের ক্ষেত্রে কোনো নিয়ম মানা হয় না। সব ধরনের রঙের পোশাক তাদের পরতে দেখা যায়। এখন তারা যা পরবে তাই ট্রেন্ডি। ছেলেরা বিভিন্ন নকশার শার্ট ও হাফপ্যান্ট এবং পায়ে কেডস অথবা লোফার পরে হাজির হয়ে যান যেকোনো অনুষ্ঠানে। এছাড়া কালো ট্রাউজার আর ঢিলেঢালা ম্যাচিং টি-শার্ট পরে সাবলীল ভঙ্গিতেই বাইরে বের হয়ে যান। লুজ-ফিটিং জর্জেট ফেব্রিকের টেরাকোটা রঙের শার্ট এবং সাদা রঙের ফুলহাতা ক্রপ টপ সঙ্গে আশি-নব্বইয়ের দশকের হাই ওয়েস্ট মম জিনস বেশ জনপ্রিয়।
মেক আপ ট্রেন্ড
মিনিমাল বা ন্যুড বেস মেকআপ জেন-জি তরুণীদের পছন্দের শীর্ষে। ভালো মানের ফাউন্ডেশন, কনসিলার, মসকারা, লিপ অ্যান্ড ফেস টিন্ট, ন্যুড আইশ্যাডো কালার তাদের বেশি প্রিয়। ভারি মেকআপকে এরা একটু এড়িয়েই চলে। নিজের ব্যক্তিত্ব আর স্মার্টনেস বজায় রাখতে মিনিলাম সাজের প্রতি এরা যথেষ্ট আগ্রহী। তবে একটু ভারি মেকআপের জন্য এরা আইল্যাশ, কন্টাক্ট লেন্স এবং প্লাম্প লিপ পছন্দ করে। প্লাম্প লিপ ঠোঁটের ওপর গাঢ় লিপলাইনার দিয়ে ঠোঁট মার্ক করে এর ওপর হালকা ন্যুড শেড বা টিন্টেড লিপস্টিক দিয়ে করা হয়। এতে ঠোঁট খানিকটা বড় এবং নজরকাড়া দেখায়। এছাড়াও জেন-জিদের মধ্যে বিভিন্ন থিম দেওয়া মেকআপ ট্রেন্ড দেখা যায়। মেকআপ এর মাধ্যমেই প্রকৃতির বিভিন্ন বিষয়, যেমন ফুল, প্রজাপতি, সমুদ্র ইত্যাদি থিমের মেকআপ করতে দেখা যায় জেন-জি মেকআপ আর্টিস্টদের।
প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা
জেন-জিরা প্রকৃতি-প্রেমীও বটে। প্রকৃতি বিষয়ক ব্যাপারে তাদের আগ্রহ অনেক। বিভিন্ন আন্দোলনেও তাদের অবস্থান সম্মুখে। তারা পোষা প্রাণীদের ভালোবাসে। এছাড়াও তাদের মধ্যে জার্নালিং তৈরির মনোভাব দেখা যায়। প্রকৃতপক্ষেই এই জেন-জিরাই প্রতিটা দেশের একটা ভীত হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে।
রেস্টুরেন্টে জেন-জি
জেন-জিরা রেস্টুরেন্ট-প্রেমী। নতুন নতুন রেস্টুরেন্টে গিয়ে খাবার খাওয়া তাদের একটা ট্রেন্ড। বাংলা খাবারের পাশাপাশি বিদেশি খাবারের প্রতি তাদের একটা ঝোঁক কাজ করে। বন্ধুদের মিলে নতুন নতুন রেস্টুরেন্ট এক্সপ্লোর করা তাদের একটা পছন্দের কাজ।
