৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ, সাগরে জেলেরা

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২৪, ০৩:৩০

দেশের উপকূলীয় জেলার সাগরে ৬৫ দিন মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়েছে মঙ্গলবার রাত ১২টায়। নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সাগরে মাছ শিকারের জন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করছেন উপকূলের জেলেরা। ৬৫ দিনের সমুদ্রে মৎস্য অবরোধের কারণে বেকার বসে থেকে ধারদেনা করে চলতে হয়েছে জেলেদের। মৎস্য বন্দরখ্যাত সাগর পাড়ের আলীপুর-মহিপুর-কুয়াকাটা জেলেপল্লিতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গভীর সমুদ্রে মাছ শিকার ছাড়া এসব জেলের আর কোনো পেশার অভিজ্ঞতা নেই। 

জেলেরা জানান, মাঝারি কিংবা বড় সাইজের ট্রলার নিয়ে সাগরে নামতে খরচ হয়ে থাকে দেড় থেকে ২ লাখ টাকা। এবার ৬৫ দিন বেকার থাকায় পুঁজি শেষ করে ধারদেনায় জর্জরিত তারা। পাশাপাশি আড়তদার কিংবা দাদনদাররাও খুব একটা ঝুঁকি নিতে রাজি নন বলে জানান। বরফকল মালিকরাও জানিয়েছেন বছরের পুরোটাই তাদের টেকনিশিয়ানসহ শ্রমিকদের বেকার বসিয়ে টাকা গুনতে হয়।

মৎস্য অধিদপ্তরের বিভাগীয় উপপরিচালক নৃপেন্দ্র নাথ বিশ্বাস জানান, চলমান ভরা মৌসুমে প্রায় ৩ লাখ জেলে সাগর ও নদীতে ইলিশ শিকারে নামতে যাচ্ছে। তিনি বলেন, বর্ষা মৌসুমে নদীতে পানি বৃদ্ধি পেলে ইলিশ সাগর ছেড়ে নদীর দিকে ছুটে। তখন বেশি ইলিশ ধরা পড়ে জেলেদের জালে। এবার অমাবস্যার প্রভাবে উপকূলের নদনদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। নদী ও সাগর মোহনায় বেশি ইলিশ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এ সময়ে।

জানা গেছে, ২০১৫ সালে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত মাছ আহরণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলেও তা কেবল চট্টগ্রামের ২৫৫টি ফিশিং বোটের জন্য বলবত ছিল। পরে ২০১৯ সাল থেকে সাগরে মাছ আহরণের জন্য ব্যবহৃত যান্ত্রিক ও অযান্ত্রিক নৌযান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে জেলেরা আন্দোলন করলেও নিষেধাজ্ঞা বলবত থাকে। এতে চরম বিপাকে পড়েন এ পেশার সঙ্গে জড়িত জেলে পরিবার, ট্রলার মালিক-শ্রমিক, আড়তদার, দাদনদার, বরফকলের সঙ্গে সম্পৃক্তসহ জাল প্রস্তুতকারী, তেল সরবরাহকারী, খাবার সরবরাহকারী লাখ লাখ পরিবার।

ইত্তেফাক/এমএএম