কোটা আন্দোলন ঘিরে সারা দেশে বিরাজমান পরিস্থিতির কারণে ধস নেমেছে রাঙ্গামাটির পর্যটন ব্যবসায়। ভরা মৌসুমেও খালি পড়ে আছে অধিকাংশ হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট। বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে নেই চিরচেনা সেই ভীড়। ফলে হোটেল-মোটেলের কর্মচারী ও শ্রমিকের বেতন-ভাতা দিতে গিয়ে মালিকপক্ষকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পর্যটন ব্যবসা আবারও আগের মতো হয়ে আসবে বলে তারা আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রতি বছর রাঙ্গামাটিতে বেড়াতে আসেন দেশি-বিদেশি হাজারো পর্যটক। বছরের এ সময়টাতে ঝুলন্ত সেতু, পলওয়েল পার্ক, রাজবন বিহার, সুবলং ঝর্ণা, আরণ্যক রিসোর্ট, আসামবস্তী-কাপ্তাই সড়কে নান্দনিক লাভ পয়েন্ট, কাপ্তাইয়ের পড হাউজসহ বিভিন্ন স্পট থাকে পর্যটকে পরিপূর্ণ। কিন্তু এবার দীর্ঘ সময় ধরে চলা সংঘাত আর অস্থিরতার কারণে প্রায় পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে পুরো রাঙ্গামাটি।
স্থানীয় স্কয়ার আবাসিক হোটেলের স্বত্বাধিকারী নিয়াজ আহম্মেদ বলেন, পর্যটক নেই বললেই চলে। শুক্রবার-শনিবার বন্ধের দিনও কেউ আসছে না। আমাদের বিদ্যুতের খরচও তুলতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বাকি স্টাফের বেতন, ব্যাংকের কিস্তি পরিশোধ করা তো দূরের কথা।
রাঙ্গামাটি পর্যটন ঘাটের ট্যুরিস্ট বোট ইজারাদার রমজান আলী বলেন, পর্যটকরা না আসায় পর্যটন খাত থেকে কোন উপার্জন নেই তাদের। এতে করে বোট মালিক ও চালকরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। পর্যটন ঘাটে প্রায় শতাধিক বোর্ড রয়েছে। পর্যটক না আসার কারণে লোকসান গুনতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের।
রাঙ্গামাটির অন্য পর্যটনস্পটগুলোর মতো একই চিত্র কাপ্তাইয়েও। অধিকাংশ হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট খালি পড়ে আছে। পাশাপাশি বিনোদনকেন্দ্রগুলোতেও সুনসান নীরবতা।
কাপ্তাইয়ের সব চেয়ে বড় পর্যটন কেন্দ্র নিসর্গ পড হাউজ অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের পরিচালক সরোয়ার হোসেন জানান, চলমান সংঘাত পরিস্থিতির ফলে পর্যটনশূন্য কাপ্তাই। সব বুকিং বাতিল করা হয়েছে। ব্যবসায় ধস নেমেছে। পরিস্থিতি ভাল না হলে ব্যবসা একেবারে বন্ধ করে দেয়া ছাড়া আর কোন উপায় নেই।
একই কথা বললেন কাপ্তাই জেটিঘাট বোট ব্যবসায়ী সমিতির ম্যানেজার শীতল সরকারও। তিনি জানান, করোনা মহামারীর মতো আবারো দুর্দিন ফিরে এসেছে তাদের। পর্যটক কমে যাওয়ায় বোট ভাড়া নেই বললেই চলে। বছরের এই সময় দৈনিক ২ থেকে ৩ হাজার টাকা আয় হলেও গত কয়েকদিন যাবৎ একদম আয় বন্ধ। আশা করছি, দ্রুত এই সংকট কাটিয়ে উঠবো।
কাপ্তাই বন বিভাগের প্রশান্তি পার্কের পরিচালক এএসএম মহিউদ্দিন চৌধুরী মিশু জানান, এক সপ্তাহ ধরে একটি টিকিটও বিক্রি হয়নি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পর্যটকরা হয়তো সামনে আসবে বলে মনে করে তিনি।
রাঙ্গামাটি পর্যটন করপোরেশন ব্যবস্থাপক অলোক বিকাশ চাকমা বলেন, পুরো বছর জুরে রাঙ্গামাটি পর্যটন বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে পর্যটকদের আনাগোনা থাকলেও এই কয়েকদিনে দেশে অস্থিরতার কারণে পর্যটক নেই বললেই চলে। মানুষ নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। যা বুকিং ছিল তা সেগুলোও বাতিল করা হয়েছে। এতে পর্যটন ব্যবসার সাথে সংশ্লিষ্টরা মারাত্মক লোকসান গুনতে হচ্ছে।৭
