অণুরূপকথা

বাদুড় কেন নিশাচর

আপডেট : ০৯ জুলাই ২০১৯, ১৭:৫৪

 

একসময় বাদুড় ছিল বেশ দাপুটে প্রাণী। নিজেকে নিয়ে অনেক অহংকারও ছিল তার। একদিন সে উড়ে উড়ে এক জঙ্গলে চলে এল। বাহ, দারুণ জায়গা তো। সেই বনটা খুবই পছন্দ হলো বাদুড়ের। নতুন, চমত্কার একটা পরিবেশে মনটা তার খুবই খুশি। আপনমনে জোরে জোরে বলছে সে, কী সুন্দর জায়গা। আহ, সব আমি পষ্ট দেখতে পাচ্ছি। এই বন হবে শুধুই আমার। এখানকার সব জীবজন্তুকে আমি মেরে ফেলব। তারপর গোটা বনটাই হবে আমার একলার। কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী থাকবে না তখন।

কথাটা শুনে ফেলল সজারু। শুনে ভীষণ ভয় পেয়ে গেল। একছুটে চলে গেল হাতির কাছে। খবরটা জানাল হাতিকে। শুনে হাতিও চিন্তিত। ভয়ও পেল বেশ। দুজনে মিলে গেল সিংহের গুহায়। তাকে পুরো বিষয়টি জানানো হলো। শুনে সিংহের কপাল কুঁচকে যায়। ভাবে সে, সর্বনাশ। এই দৈত্যকে উচিত শিক্ষা দিতে হয়। নাহলে বনের আরাম-শান্তি নষ্ট হয়ে যাবে চিরদিনের মতো। কিছু একটা করতে হয়। যা করতে হবে, খুব তাড়াতাড়ি। দেরি করলে বিপদ বাড়বে।

পরের দিন সব জীবজন্তু এক সভায় বসল। সবাই ভীষণ উদ্বিগ্ন। বিরাট সমস্যা হয়েছে। ভিনদেশি শয়তান বাদুড়টাকে কিভাবে ঠেকানো যায়, তার একটা বিহিত করা লাগে। শেয়াল এক বুদ্ধি দেয়। বলে, ঐ দস্যিটার চোখজোড়া ফুটো করে দিতে হবে। যেন সে ভালোমতো দেখতে না পায়। এক কাজ করো দেখি। ভোজের একটা আয়োজন করো। ঐ বদমাশ বাদুড়কে সেখানে দাওয়াত দাও। যা করবার সজারু করবে। ওর গায়ে ধারালো কাঁটা আছে। সেটাই অস্ত্র।  কী সজারু, এই কাজটা করতে পারবে না?

সজারু মাথা নাড়ে। পারবে সে। পারতেই হবে।

তাই করা হলো। মজার মজার খানাদানার আয়োজন করা হয়েছে। অতিথি হিসেবে এসেছে বাদুড়। যখন সে খানাপিনায় ব্যস্ত, হঠাত্ই সজারু হামলা করল তার ওপর। দুই চোখে ধারালো কাঁটা বিঁধিয়ে দিল। বাদুড় পড়িমরি করে ছুটে গেল। পালিয়ে বাঁচল। এর মধ্যে তার চোখের বেশ ভালোরকমের ক্ষতি হয়ে গেছে।

পুরো অন্ধ সে হয়নি। কবিরাজ লতাপাতা বেটে ওষুধ দিল। ওষুধ কিছুটা কাজ করেছে। বাদুড় এখন আর আগের মতো পষ্ট দেখতে পায় না।  সহ্য করতে পারে না দিনের আলো। রাতের অন্ধকারে আবছা আবছা দেখতে পায়।

দিনের বেলায় বাদুড় আর বের হয় না। বনের জীবজন্তুরা হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছে।

রূপান্তর: হাসান হাফিজ