কোটা আন্দোলন

ছেলেকে নিয়ে ঘুরতে বের হয়ে লাশ হয়ে ফিরলেন বাবা

আপডেট : ২৮ জুলাই ২০২৪, ১৭:০৫

ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার ইয়াকুবপুর ইউনিয়নের সন্তান আবু বকর ছিদ্দিক শিবলু। তিনি রাজধানীর একটি কোম্পানিতে সহকারী হিসাবরক্ষক পদে চাকরির সুবাদে প্রায় চার বছর ধরে উত্তরা ৮ নম্বর সেক্টরে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বসবাস করছিলেন।

২১ জুলাই (রোববার) কোটাবিরোধী আন্দোলনের সহিংসতার কারণে আবদুল্লাহপুর রেলগেট এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন শিবলু। এতে তার দীর্ঘদিনের সাজানো সংসার মুহূর্তেই এলোমেলো হয়ে যায়। চারদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর বুধবার শিবলু মারা যান। তার এমন মৃত্যুতে স্বজন ও প্রতিবেশীরা শোকে স্তব্ধ।

শিবলু ইয়াকুবপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ চাঁনপুর এলাকার মৃত আবুল হাসেমের ছোট ছেলে। পরিবারে তার স্ত্রী সুমাইয়া আক্তর রিমা, ফারহান ছিদ্দিক (৮) এবং নুসাইবা ছিদ্দিক (১০) নামে দুই সন্তান রয়েছে।

শিবলুর ভাই আবদুল হাকিম বাবলু বলেন, ঘটনার দিন ছেলে ফারহানকে নিয়ে ঘুরতে বের হয়েছিলেন শিবলু। আবদুল্লাহপুর রেলগেট এলাকায় বসে ছিলেন তারা দুজন। হঠাৎ গোলযোগ শুরু হয়। পরে ছেলেকে নিয়ে বাসায় ফেরার জন্য উঠে দাঁড়ালে শিবলুর মাথার বাম পাশে গুলি লাগে।

তিনি বলেন, গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর আশপাশের লোকজন শিবলুকে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় একটি প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখান থেকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে আগারগাঁও নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে পাঠান। অবস্থার আরও অবনতি হলে মঙ্গলবার তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। বুধবার রাত আড়াইটার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শিবলুর মরদেহ নিয়ে দাগনভূঞার গ্রামের বাড়ি ফেরেন স্বজনরা। ওইদিন রাতেই তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য জয়নাল আবেদিন গনমাধ্যমকে বলেন, শিবলুর লাশ গ্রামে আনার পরে এক শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে বাড়ির সামনে জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে দাগনভূঞা থানার ওসি আবুল হাসিম বলেন, ঢাকায় কোটা সংস্কার আন্দোলনের সহিংসতায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে জেনেছি। নিহতের মরদেহ নিজ গ্রামে জানাজা শেষে দাফন করা হয়েছে।

ইত্তেফাক/টিএইচ