অনেক অনেক গল্প জমেছে। মেঘ, পাহাড় আর নীল জলের গল্প। ইচ্ছে ঘুড়ির গল্প। ইচ্ছে ঘুড়ি! এ যে অবাধ এক কল্পনার নাম, স্বাধীনভাবে উড়ে বেড়ানোর নাম। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনটাই এক অন্যরকম জীবন। ইচ্ছে হলেই ছুটে যাওয়া যায় তেপান্তরে। এ জীবনের অন্যতম এক হারিয়ে যাওয়ার রাস্তা হলো ফাইনাল ট্যুর। যেখানে এমন সব মানুষকে সঙ্গী হিসেবে পাওয়া যায়, যাদের কি না ফিরে আসার পর হারাচ্ছিলাম। বলছিলাম নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি বিভাগের তৃতীয় ব্যাচের সমাপনী ট্যুরের কথা। কিছু মুহূর্ত বরাবরই স্মৃতিতে সুন্দর। এই যে ট্যুর আসি আসি করে বিদায়ও নিয়ে গেল। চোখের পলকে সাতটা দিন কেটে গেল টেরই পেলাম না কেউ।
‘ইচ্ছে হলে ছাড়ব সুতো যাবো বহুদূর, পাহাড় নীলের গল্পজুড়ে ছুটব অচিনপুর’— হারানোর জন্য সমুদ্র কিংবা পাহাড়ের চেয়ে আর ভালো কী হতে পারে। আঁকাবাঁকা পাহাড়ি রাস্তা, সারি সারি পাহাড় আর মেঘদলকে সঙ্গী করে আমাদের যাত্রা শুরু হয়েছিল সাজেকের উদ্দেশে। স্বপ্নের মতো সুন্দর ছোটো ছোটো কাঠের বাড়িগুলো, শান্ত পাহাড়ি রাস্তা, মাথার ওপর বিশাল আকাশগঙ্গা, আদিবাসীদের আতিথেয়তা, সকালের সূর্যদোয় কী ছিল না সেখানে। সেসব মুগ্ধতার রেশ কাটানোর আগেই আমাদের বেরিয়ে পড়তে হয়েছে বান্দরবানের উদ্দেশে। সেখানে আমাদের স্থায়িত্ব কাল ছিল মাত্র এক দিন।
সূর্য তার তেজ ঢালছে বেশ আচ্ছা মতো। যদিও সাগরপাড়ের মিষ্টি হাওয়ায় সেটা গায়ে লাগছে না। কটেজে উঠেই ফ্রেশ হয়ে বেরিয়ে পড়লাম সেন্ট মার্টিনের নীল সমুদ্র দেখতে। বিশাল নীল জলরাশির অপার সৌন্দর্য চোখ জুড়ে যায়, তবু মন ভরে না। তিনটা দিন স্বপ্নের মতো ছিল। সাগরপাড়ে ফুটবল খেলা, সন্ধ্যা হলেই দলবেঁধে বেরিয়ে পড়া, নানা রকম মাছের স্বাদ নেওয়া, বিকেলে সাইকেল চালানো, কখনো কখনো বেখেয়ালি মনে হাঁটতে হাঁটতে ঝিনুক কুড়ানো, রাতভর আড্ডা আর জোছনাবিলাস।
এর সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ভেজা বালুতে হাঁটা, হাতে হাত ধরে গাওয়া— ‘আয় আরেকটি বার আয়রে সখা প্রাণের মাঝে আয়, মোরা সুখের দুঃখের কথা কবো প্রাণ জুড়াবে তাই’। অশ্রুজল শুকিয়েছে বাতাসে, আর এখন হারিয়ে ফেলার বৃষ্টি ঝরছে।
