৯০ মিনিট স্কুলিং

ব্যতিক্রমধর্মী কৃষিসেবা

আপডেট : ০৯ জুলাই ২০১৯, ১৮:০৬

 

বর্তমানে শহরাঞ্চলে সবজি, ফুল ও ফলের ছাদবাগান কেবল শৌখিনতা বা পারিবারিক প্রয়োজনীয়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। অনেক দেশে পরিবেশ রক্ষা ও নগরীর উচ্চ তাপমাত্রা হ্রাস করার লক্ষ্যে বাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুটপাত, পার্ক, সরকারি খাসজমি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার প্রতিটি পর্যায়ে কৃষি উত্পাদন, বিশেষ করে উদ্যান ফসল ও বাহারি ফুলের গাছের সমন্বয়ে তৈরি করা হচ্ছে সবুজ নগরায়ণ। বাংলাদেশেও ছাদবাগানের মাধ্যমে ব্যক্তি পর্যায়ে শহরে সবুজায়ন শুরু হয়েছে। কিন্তু এই বাগান করতে গিয়ে অনেকেই আবার বেশ কিছু কৃষি সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। যেমন গাছের পাতা কুঁকড়ে যাওয়া, পোকামাকড়ের আক্রমণ, প্রতিকার, গাছ মরে যাওয়া, আশানুরূপ উত্পাদন না হওয়া, গাছের চারা লাগানোর সময় ইত্যাদি।

এসব সমস্যার সমাধানে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. এ এফ এম জামাল উদ্দিনের উদ্যোগে চালু করা হয়েছে ‘৯০ মিনিট স্কুল’ নামে বিশেষ কৃষিসেবা। এই সেবার আওতায় বিশেষ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের গ্রাফটিং বা কলমের চারা তৈরি করা হাতে কলমে শেখানো হচ্ছে। বাণিজ্যিকভাবে ভাসমান সবজি চাষ, গোলাপ চাষ, পাল্ট নিউট্রিউশন, দেওয়াল কার্পেট গাছ, মাটি ও মাটি তৈরি নিয়ে কথা, ক্যাকটাস চাষ, টবে কীভাবে গাছ লাগাতে হয় প্রভৃতি বিষয় সম্পর্কে ক্লাস নেওয়া হয়েছে। এই কার্যক্রমের মাধ্যমে কৃষিবিষয়ক বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে আয়োজন করা হয় প্রশ্ন ও উত্তর পর্বের।

প্রতি শুক্রবার শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদে সকাল ১০টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ৯০ মিনিট চলে এই প্রশ্ন ও উত্তর পর্ব। এ সময় বাগানের মালিকেরা তাদের সমস্যার কথা জানান এবং অধ্যাপক ড. এ এফ এম জামাল উদ্দিন সেই সব সমস্যার সমাধানে পরামর্শ দেন। এই সেবা ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে দেওয়া হচ্ছে। ভিডিওগুলো পরবর্তী সময়ে আর্কাইভে থাকছে। ২০১৭ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে চালু হওয়া এই স্কুলের কর্মসূচি ক্রমেই জনপ্রিয়তা লাভ করছে। প্রতি শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দুই শতাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘৯০ মিনিট স্কুলিং’-এর প্রধান উদ্যোক্তা অধ্যাপক ড. আ ফ ম জামাল উদ্দিন বলেন, ‘ইন্টারনেটের মাধ্যমে আমরা ‘গ্রিন বাংলাদেশ’ নামে একটি ফেসবুক গ্রুপেও সেবা দেওয়ার চেষ্টা করে আসছি। ঢাকা ও ঢাকার বাইরে থেকে আসা মানুষ কৃষি বিষয়ে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য আসেন আমাদের এই ‘৯০ মিনিট স্কুলিং’ কর্মসূচিতে। সরাসরি প্রশ্নোত্তর পর্বে আমরা তাদের কৃষিবিষয়ক সব সমস্যার সমাধান দিয়ে থাকি।’