নাশকতাকারীদের মূল উদ্দেশ্য ছিল গণভবন দখল করা। গোয়েন্দাদের সতর্কতা না থাকলে হামলাকারীরা গণভবন দখল করে ফেলতো। এই ঘটনা ঘটলে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মতো আরেকটি ভয়াবহ ঘটনার সাক্ষী হতো জাতি। ২১ আগস্টের মতো আরেকটি ষড়যন্ত্র শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বাস্তবায়িত হতো। গোয়েন্দা নজরদারির ফলে এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় গণভবন, সংসদ ভবনসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।
সোমবার (২৯ জুলাই) সকালে মাদারীপুরে মুক্তিযোদ্ধা অডিটোরিয়াম, তেলের পাম্প, পুলিশ ফাঁড়ি, বাসে অগ্নিসংযোগ এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি ক্ষতিগ্রস্ত, স্থাপনা পরিদর্শনের পর জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূর-ই আলম চৌধুরী লিটন এমপি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, সবার দৃষ্টি ছিল ছাত্র আন্দোলনের দিকে, কিন্তু একদল ষড়যন্ত্রকারী সুযোগ বুঝে তাদের ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করেছে। মূলত জামায়াত-বিএনপি এই নাশকতার নেতৃত্ব দিয়েছে। মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে নাশকতাকারীরা। প্রভাবশালী নেতা ও প্রভাবশালী এলাকা থেকে পরিকল্পনা করে দুষ্কৃতিকারীরা এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছে। তাদের বিশেষ ট্রাইব্যুনালে জরুরিভিত্তিতে বিচার করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন ষড়যন্ত্র করার সাহস না পায়।
মাদারীপুর-১ আসনের এই সংসদ সদস্য আরও বলেন, ভোটের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে পরাজিত করার ক্ষমতা বিএনপি-জামায়াতের নেই। স্বাধীনতার পরে বঙ্গবন্ধুকে নির্বাচনের মাধ্যমে পরাজিত করার শক্তি কারোরই ছিল না। এজন্য বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হয়েছিল।
বর্তমানে আওয়ামী লীগকে ভোটের মাধ্যমে পরাজিত করার শক্তি না থাকায় দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথ বেছে নেয় বিএনপি-জামায়াত। মূলত জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার ক্ষোভে সারাদেশে এই আগুন-সন্ত্রাস চালিয়েছে তারা।
উল্লেখ্য, এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য শাজাহান খান, মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মারুফুর রশিদ খান, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুনির চৌধুরী, পুলিশ সুপার মো. শফিউর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাহাবুদ্দিন আহম্মেদ মোল্লাসহ আরও অনেকেই।

