পারসোনাল স্টেটমেন্ট রাইটিং প্রতিযোগিতা শুরু

আপডেট : ০৯ জুলাই ২০১৯, ১৮:০৯

 

ছেলেবেলায় বিশেষ করে স্কুলে পড়াকালীন সময়ে ‘মাইসেলফ’ বা নিজের সম্পর্কে কয়েক লাইন লেখার অভিজ্ঞতা কমবেশি সবারই রয়েছে। সেটা শুধু পরীক্ষায় ভালো নাম্বার পাওয়ার জন্যই লিখে আসা যেন। খুব চমত্কারভাবে উপস্থাপনের বিষয়টি নিয়ে তখন মাথা ঘামাতো খুব কম সংখ্যক ছেলেমেয়েই। মজার বিষয় হচ্ছে একই অভিজ্ঞতা পুনরায় হয়ে থাকে অন্য কোন দেশে উচ্চ শিক্ষা নিতে যাওয়ার ক্ষেত্রে। খানিকটা খোলাসা করা যাক, ভীনদেশে পড়াশোনার জন্য যেতে চাইলে সবাইকেই বেশ কয়েকটি ধাপ অতিক্রম করে যেতে হয়। যার একটি হচ্ছে পারসোনাল স্টেটমেন্ট রাইটিং বা নিজের সম্পর্কে লেখা। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায় নিজের সম্পর্কে লিখতে গিয়ে অর্থাত্ পারসোনাল স্টেটমেন্ট রাইটিংয়ের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের দূর্বলতা। ঠিক যতটা আকর্ষনীয় হওয়ার কথা ঠিক ততটা আকর্ষনীয় উপস্থাপন অনুপস্থিত থাকে সেসব লেখায়। অন্যদিকে এ ধাপটি অতিক্রম করে যেতে হলে ঠিক যা যা অনুসরণ করা উচিত্ সেসব সম্পর্কেও ঠিক ততটা ধারণা থাকে না শিক্ষার্থীদের। সবমিলিয়ে দেশের বাইরে পড়তে যাওয়ার স্বপ্নে খানিকটা ব্যাঘাত ঘটেই।

শিক্ষার্থীরা যখন দেশের বাইরের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করে তখন তাঁদের মুখোমুখি হতে হয় পারসোনাল স্টেটমেন্ট রাইটিং বিষয়টির সঙ্গে। এটা নিজের সম্পর্কে লেখা একটা রচনার মতো। খুব সাধারণ বিষয় তবে সেটিকে কে কতটা চমত্কারভাবে উপস্থাপন করতে পেরেছে সেটার উপর অনেকাংশেই নির্ভর করে বিশ্ববিদ্যালয় তাকে নিজেদের শিক্ষার্থী হওয়ার জন্য গ্রহণ করবে কি করবে না। এমনকি বৃত্তি পাওয়ার ক্ষেত্রেও বেশ সহযোগিতা করে প্রাথমিক পর্যায়ে লেখা এ রচনা।

যারা দেশের বাইরে পড়াশোনা করতে আগ্রহী তাদের জন্য প্রতি বছর বিশেষ এক প্রতিযোগিতার আয়োজন করে এডুকেশন কনসালট্যান্সি প্রতিষ্ঠান মেইসেস। মূলত ভীনদেশে পড়তে যেতে আগ্রহী এমন শিক্ষার্থীদের জন্য পরামর্শক হিসেবে কাজ করছে তারা। সেসঙ্গে বেশ কিছু উদ্যোগও রয়েছে তাদের। যার মধ্যে একটি হচ্ছে পারসোনাল স্টেটমেন্ট রাইটিং প্রতিযোগিতা। এ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ঠিকঠাক বুঝতে পারে নিজের সম্পর্কে লেখা রচনার ধরণ কেমন হওয়া উচিত কিংবা আকর্ষণী উপস্থাপনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের কৌশল অবলম্বন করা উচিত। সবমিলিয়ে পূর্ণাঙ্গ একটি ধারনা পেতে সহায়ক ভূমিকা রাখে এ প্রতিযোগিতা। চতুর্থবারের মতো এ বছর পুনরায় এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হচ্ছে। 

এবার নজর দেয়া যাক প্রতিযোগিতার পুরো প্রক্রিয়া কেমন হয় সে বিষয়ের প্রতি। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহনের জন্য নাম নিবন্ধনের পর আগ্রহী শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি কর্মশালার আয়োজন করা হয়। যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন নামি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত থাকেন। এ বছরের কর্মশালায় অংশগ্রহণের জন্য ক্যামব্রিজ, যুক্তরাজ্যের ক্যাটস (CATS) এডুকেশনের একাডেমিক ডিরেক্টর জর্জ ক্যাসলিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে প্রতিযোগিতার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করার জন্য। এছাড়া শিক্ষার্থীদের লেখা রচনাগুলো মূল্যায়ণ করার জন্য ইউনিভার্সিটি অব গ্লাসগো, ইউনিভার্সিটি অব বার্মিংহাম, সিটি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনসহ বিশ্বের বিখ্যাত আটটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বিচারকের দায়িত্ব পালন করবেন।  এ ধরনের আয়োজনের কারণ জানতে চাইলে আয়োজক প্রতিষ্ঠান মেইসেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক  রোহাম মঞ্জুর জানান-  মেইসেস প্রতিবছর এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে থাকে। এ আয়োজনের মূল লক্ষ্যই হচ্ছে এ দেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে সম্ভাবনা রয়েছে তা উন্মোচন করা। উল্লেখ্য, চতুর্থবারের মতো এ প্রতিযোগিতা শুরু হতে যাচ্ছে। অংশগ্রহণের জন্য অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন শুরু হয়েছে। সেক্ষেত্রে মেইসেসের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট অথবা http://bit.ly/PSWC2019_ Registration  লিংকে রেজিস্ট্রেশন করা যাবে।