‘খালি কান্দে আর কয় বাবা চকলেট আনতে গেছে, বাবা আইলেই সে ভাত খাইবো’

আপডেট : ৩০ জুলাই ২০২৪, ১৫:২৪

বাবা নেই কয়েকদিন হলো, অথচ শিশুটি জানে তার বাবা চকোলেট নিয়ে ঘরে ফিরবেন। কান্না করতে করতে তিন বছরের শিশু ইব্রাহিম বলেই যাচ্ছে- বাবা আমার জন্য চকলেট আনতে গেছে, বাবা আসলেই আমি খাবো। 

কোটা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গত শনিবার (২০ জুলাই) গাজীপুরে সংঘর্ষের সময় বোর্ড বাজার এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান আরিফ হোসেন রাজিবের (২৬)। তারই একমাত্র সন্তান তিন বছরের শিশু ইব্রাহিম।    

নিহত আরিফ হোসেন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার গজরা ইউনিয়নের টরকী এওয়াজ গ্রামের রজ্জব প্রধানের ছেলে।

গত ২০ জুলাই ভাঙ্গারি দোকানে কাজে যাওয়ার সময় গাজীপুর বোর্ড বাজার এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন তিনি। পরে গাজীপুর সদর মেডিকেলে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। 

মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) সকালে আরিফ হোসেনের স্ত্রী শরীফা বেগমের সঙ্গে কথা হয় ইত্তেফাক প্রতিনিধির। 

বাবার কোলে শিশু ইব্রাহিম। ছবি: সংগৃহীত

তিনি কান্না করতে করতে বলেন, ‘আমার স্বামী (আরিফ) শনিবার বিকাল ৩টায় ভাঙ্গারি দোকানের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বাইর হয়। কিছুক্ষণ পরই জানতে পারি ওনি গুলিতে আহত হন। পরে তারে হাসপাতাল নিলে ডাক্তার জানায় আমার স্বামী মইরা গেছে।’

শরিফা আকুতি জানিয়ে বলেন, ‘আমার স্বামীর রাইখা যাওয়া এই ৩ বছরের শিশু সন্তানরে লইয়া অহন আমি কেমনে বাঁচুম? খাওন-পরণ আইবো ক্যামনে? চোখে মুখে আমি অহন শুধু অন্ধকারই দেখতাছি। পোলাডা কিছু খায় না। খালি কান্দে আর কয় বাবা তার লাইগা চকলেট আনতে গেছে। বাবা আইলেই সে ভাত খাইবো। এমন পরিস্থিতিতে কন (বলেন) আমি অহন কি করুম!’  

স্ত্রী সন্তান নিয়ে গাজীপুর বোর্ড বাজার এলাকায় থাকতেন আরিফ। গত ২১ জুলাই মতলব উত্তর উপজেলার রাঢ়ীকান্দি কবরস্থানে দাফন করা হয়। 

এদিকে গজরা ইউপি চেয়ারম্যান শহীদ উল্লাহ প্রধানে বলেন, আমার জানামতে আরিফ খুবই গরীব পরিবারের সন্তান। সে পরিবারসহ গাজীপুর থাকতো। তার একটি শিশু সন্তান রয়েছে। তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলছি, নিহত আরিফের পরিবারকে সাহায্য সহযোগিতা কামনা করছি।

 

 

 

 

 

ইত্তেফাক/এসজেড