পটুয়াখালীতে বাস-অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৪, আহত অন্তত ১০

আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৫৬

পটুয়াখালীতে অটোরিকশার সঙ্গে সংঘর্ষের পর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঢাকাগামী একটি বাস খাদে পড়ে চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে পটুয়াখালী সদর উপজেলার বসাক বাজারসংলগ্ন ধলু গাজীর মোড় এলাকায় ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কে এ ঘটনা ঘটে।

এদিন দিবাগত রাতে নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

নিহতরা হলেন— গলাচিপা উপজেলার আমখোলা গ্রামের রাজ্জাক প্যাদার ছেলে কাইউম প্যাদা (৫০), একই উপজেলার চার আনি বাউরিয়া গ্রামের অনিল হাওলাদারের মেয়ে শিল্পী রানী (৪০) ও বদরপুর গ্রামের আব্দুস সালাম হাওলাদারের ছেলে জাহাঙ্গীর হাওলাদার (৩৫) এবং বাউফল উপজেলার বিলবিলাস গ্রামের ধীরেন মিস্ত্রীর মেয়ে তিথী (২৩)। 

নিহতদের মরদেহ বর্তমানে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বরগুনার তালতলী থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসা ইমরান ট্রাভেলসের এক বাস ধলু গাজীর মোড় এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি অটোরিকশার সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে বাস ও অটোরিকশাটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার শব্দ শুনে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধারকাজ শুরু করেন। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। 

এদিকে নিহত চারজনই অটোরিকশাটির যাত্রী ছিলেন বলে দাবি করে স্থানীয়রা।

স্থানীয়রা জানান, দুর্ঘটনার পর বাসটি পানিতে পড়ে যায়। বাসটিতে প্রায় ৩৫ যাত্রী ছিলেন বলে জানা গেছে। তবে বাসের যাত্রীদের মধ্যে বড় ধরনের হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। বর্তমানে পুলিশের রেকার ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের সহায়তায় উদ্ধার অভিযান চলছে। দুর্ঘটনার পর বাসের চালক ও সুপারভাইজার ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছেন বলে জানা গেছে।

বাসের যাত্রী সালমান বলেন, বাসটি শুরু থেকেই খুব রাফ চালাচ্ছিল। তারপর কীভাবে কি হলো কিছুই বুঝতে পারলাম না। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে বাঁচিয়েছেন।

আরেক যাত্রী আবির ইসলাম বলেন, আমরা ঢাকাতে তাবলীগ জামাতে যাচ্ছিলাম। সঙ্গে ঢাকায় বেড়াতে যাওয়ার জন্য পরিবারের সদস্যরাও ছিল। বাসটি এখানে এসে খাদে পড়ে যায়। আমরা ভিতরে বসে ভাবছিলাম এই মনে হয় জীবনের শেষ। আমার নাতিটাকে কোলে নিয়ে আমি অনেক দূরে ছিটকে যাই, ওর মা ভাবছিল নাতি আর নেই। পরে আমি চিৎকার করে জানাই আমি ও নাতি বেঁচে আছি। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে হেফাজত করেছেন।

পটুয়াখালী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো. রেজোয়ান বলেন, বর্তমানে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট কাজ করছে। বাসের ভিতরে কেউ আটকে পড়েছেন কিনা অথবা পানির ভেতরে আর কোনো মরদেহ আছে কিনা এজন্য উদ্ধার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

পটুয়াখালী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান, এখন পর্যন্ত চার জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো উদ্ধার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। উদ্ধার কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পরে বলা যাবে আর কেউ নিহত হয়েছেন কিনা। পরবর্তীতে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

 

ইত্তেফাক/এনটিএম