গাছের ডাক্তার রনি ও তাঁর গাছের হাসপাতাল

আপডেট : ০৯ জুলাই ২০১৯, ১৮:২৯

হয়তো সবাই অবাক হয়ে বলবেন, গাছের আবার হাসপাতাল আছে নাকি! হ্যাঁ, অবাক করে দেওয়া এমন কাণ্ডই করে বসেছেন জামালপুরের ছেলে আহসান রনি। ঢাকার আগারগাঁওয়ে পরিবেশ ভবনের পাশেই রীতিমতো সাইনবোর্ড টাঙিয়ে খুলে বসেছেন গাছের হাসপাতাল। শুধু এতেই থেমে থাকেননি, চালু করেছেন অ্যাম্বুলেন্স সেবাসহ বাসায় গিয়ে গাছের পরিচর্যা বা চিকিত্সা সেবা। ফলে কংক্রিটের এই নির্মম শহরে মানুষ নিশ্চিন্ত মনে ছাদে বাগান করতে আগ্রহী হচ্ছেন। তাঁদের এই পুরো কার্যক্রমের নাম দিয়েছেন ‘গ্রিন সেভারস’।

২০১০ সালে পথচলা শুরু করা এ হাসপাতালে বর্তমানে কাজ করছেন প্রায় ২৫ জন, যাঁদের বেশির ভাগই কৃষি ডিপ্লোমা করা। হাসপাতালে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সময় দিচ্ছেন একজন গাছের ডাক্তার। তাছাড়া, জরুরি হলে গ্রিন সেভারসের কর্মীরা বাসায় গিয়ে গাছের রোগ-ব্যাধির সমস্যার সমাধান দিয়ে আসেন এবং প্রয়োজনে অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের মাধ্যমে বেশি রোগাক্রান্ত গাছগুলোকে আগারগাঁওয়ে অবস্থিত তাঁদের গাছের হাসপাতালে পাঠিয়ে দিচ্ছেন। গাছ সুস্থ হলে আবার অ্যাম্বুলেন্সে করে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে বাগান মালিকের বাগানে। এদিকে মোবাইল ফোন বা Plants Doctor অ্যাপসের মাধ্যমে যে কেউ যেকোনো জায়গা থেকে তাঁদের গাছের রোগাক্রান্ত অংশের ছবি অ্যাপে শেয়ার করে ফ্রি সেবা পেতে পারেন।

কথা হয় ব্যতিক্রমী এই হাসপাতের উদ্যোক্তা আহসান রনির সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যানথ্রোপোলজি বিভাগের শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায় গাছ নিয়ে কাজ শুরু করি। তারপর ভাবলাম, এই ঢাকা শহরে প্রায় পাঁচ লাখ ভবন আছে। আমরা যদি এই পাঁচ লাখ ভবনের ছাদগুলোকে কাজে লাগাতে পারি ছাদ বাগান হিসেবে, তাহলে বাগান মালিক যেমন টাটকা কিছু শাকসবজি-ফলমূল পাবে, তেমনি ঢাকার বাতাস পাবে কিছু অক্সিজেন। কিন্তু, কয়েকজন ভবন মালিকের সঙ্গে কথা বলে কিছু সমস্যা দেখতে পেলাম। যেমন :ছাদ বাগানের ডিজাইন করা, গাছগুলোর ট্রান্সপোর্ট সমস্যা, গাছের রোগাক্রান্ত হওয়া, লম্বা ছুটিতে বাসার বাইরে ঘুরতে যাওয়ায় পরিচর্যার অভাবে গাছ মরে যাওয়া ইত্যাদি। যার ফলে তাঁদের মধ্যে একপ্রকার অনীহা সৃষ্টি হয়েছে বাগান করার বিষয়ে। এই বিষয়গুলো মাথায় নিয়েই আমি তাঁদের বাগান করতে আগ্রহী করতে বিকল্প অর্থাত্ কৌশলী পথ খুঁজে নিলাম। ঢাকার বিভিন্ন স্কুুলে গিয়ে বাগান করার বিষয়ে ফ্রি ক্যাম্পেইন করতাম এবং স্কুলগুলোতে বাগান করে দিতাম। ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা তাদের স্কুল বাগান করা দেখে এবং শিখে বাসায় গিয়ে বাগান করার বিষয়ে বাবা-মার কাছে আগ্রহ দেখালে অনেকের বাসা থেকে আমাদের ফোন দিতে শুরু করে। আমরা বিভিন্ন বাসায় গিয়ে ছাদের সাইজ হিসেবে বাগানের ডিজাইনসহ বাগানের সকল কাজ করে দিতাম। এরপর সেই বাগানগুলো থেকে যখন গাছপালার বিভিন্ন রোগ-ব্যাধির বিষয়ে ফোন আসা শুরু করে, তখন আমরা হাসপাতাল সেবা এবং বাসায় গিয়ে গিয়ে গাছের চিকিত্সা সেবা শুরু করি। এছাড়াও কেউ যখন লম্বা ছুটিতে বাসার বাইরে যাচ্ছেন, তাঁদের গাছের দায়িত্ব প্রয়োজনে আমাদের দিয়ে যেতে পারছেন। এজন্য প্রতিদিন তাঁকে গুনতে হচ্ছে মাত্র এক টাকা। এতে তাঁদের গাছের কোনো প্রকার ক্ষতি বা সমস্যাও হচ্ছে না।’

আহসান রনি তাঁর স্বপ্ন নিয়ে বলতে গিয়ে আরো বলেন, ‘আমাদের রেগুলার সেবা নেওয়া বাগান মালিকের সংখ্যা প্রায় তিনশ। তবে ঢাকার প্রায় সবগুলো ভবনের ছাদ বাগানে বাগানে ভরে তুলতে চাই গাছের হাসপাতাল এবং গাছের ডাক্তারের সেবা দিয়ে।’