সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেছেন, দেখামাত্র গুলির নির্দেশ দিয়ে, শত শত মানুষের জীবন নিয়ে রাষ্ট্র আবার শোক পালন করছে। দেশের মানুষ এধরনের রাষ্ট্রীয় শোক দেখতে চায় না। মানুষ চায় প্রতিটি হত্যার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সে অনুযায়ী বিচার। আমরা প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যেন এমনভাবে নির্বিচারে গুলি করে মানুষ হত্যা করা না হয় সেজন্য সরকারকে সতর্ক করেন তিনি। গতকাল মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি সরকারের উদ্দেশ্যে এই সতর্কতার কথা বলেন।
জি এম কাদের বলেন, ইন্টারনেট পরিষেবা পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করতে হবে। একই সঙ্গে মেট্রোরেলের ক্ষতিগ্রস্ত স্টেশন বন্ধ করে ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের টোল ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে আদায় করে হলেও জনগণের জন্য চালু করতে হবে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে প্রতিটি নিহতের ঘটনা নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে বিচারকার্য শুরু করতে হবে।
তিনি বলেন, ইন্টারনেট পরিষেবা পুরোপুরি চালু না হওয়ায় সাধারণ মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করতে পারছে না। এতে তথ্য আদান-প্রদান বিঘ্নিত হচ্ছে মারাত্মকভাবে। আবার, দেশের ভয়াবহ পরিস্থিতিতে প্রবাসীরা স্বজনদের খোঁজ নিতে পারছে না। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রবাসীরা ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসী আয় না পাঠানোর হুমকি দিচ্ছে। যা দেশের জন্য খুবই ভয়াবহ। অপরদিকে, উচ্চ শিক্ষার জন্য বিদেশ গমেনেচ্ছু ছাত্ররা যোগাযোগ করতে পারছে না বিদেশের সাথে। ইন্টারনেট পুরোপুরি চালু না হলে দেশের অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যাবে।
জাপা চেয়ারম্যান বিবৃতিতে আরো বলেন, সাম্প্রতিক আন্দোলনে মেট্রোরেলের দু-একটি স্টেশন ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের দু-একটি টোল প্লাজা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা যায়। মেট্রোরেলের ইঞ্জিন, বগিসমূহ ও লাইনের কোনো ক্ষতি হয়নি বলেই জানি। সেকারণে, ক্ষতিগ্রস্ত স্টেশনসমূহ বন্ধ রেখে, মেট্রোরেল অবিলম্বে চালু করা সম্ভব বলে মনে করছি। একইভাবে, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মূল অবকাঠামোর কোনো ধরনের ক্ষতি হয়েছে বলে জানা যায়নি। প্রয়োজনে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে টোল আদায়ের ব্যবস্থা করে যান চলাচল পুনরায় শুরু করা যেতে পারে।
