উত্তাল ভেনেজুয়েলা, নিহত ১১ 

আপডেট : ৩১ জুলাই ২০২৪, ১৯:১২

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগে বিক্ষোভে উত্তাল ভেনেজুয়েলা। বিক্ষোভে পুলিশ ও প্রতিবাদকারীদের সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত ১১ জন নিহত হয়েছে। খবর ডয়চে ভেলের। 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহতের মধ্যে দুইজন কিশোরও আছে। দেশটির পুলিশ সাত শতাধিক বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে। ভেনেজুয়েলার বিরোধী দল ভোলানটাড পপুলার জানিয়েছে, তাদের জাতীয় আহ্বায়ক ফ্রেডি সুপারলানোকে আটক করা হয়েছে। ভেনটে ভেনেজুয়েলার প্রবীণ নেতা রিকার্ডো এস্তেভেজকেও আটক করা হয়েছে বলের দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। 

ভেনেজুয়েলার অ্যাটর্নি জেনারেল তারেক উইলিয়াম সাব জানান, অন্ততপক্ষে দুইজন নিরাপত্তারক্ষী নিহত হয়েছে। সেইসঙ্গে ৪৮ জন পুলিশ ও সেনা অফিসার আহত হয়েছেন। যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসে লিপ্ত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। 

ভেনেজুয়েলার জাতীয় নির্বাচন কাউন্সিল(সিএনই) গত রোববার ঘোষণা করে, প্রেসিডেন্ট মাদুরো ৫১ শতাংশ ভোট পেয়ে জিতেছেন। তিনি তৃতীয়বারের জন্য প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচিত হয়েছেন। এরপরই বিক্ষোভ শুরু হয়।

বিরোধীদের দাবি, তাদের প্রার্থী এডমুন্ডো গঞ্জালভেস উরুতিয়া যে জিতেছেন তার প্রমাণ আছে। ৭৩ শতাংশ ভোট যখন গণনা হয়েছিল, তখন বিরোধী প্রার্থী প্রচুর ভোটের ব্যবধানে জিতছিলেন বলে তাদের দাবি।

গঞ্জালভেস বলেছেন, আমাদের কাছে ভোটের যে রিপোর্ট আছে, তা দেখাচ্ছে যে আমিই জিতেছি।

এরপর বিরোধী সমর্থক ও সদস্যরা রাস্তায় নেমে আসেন। কিছু বিরোধী কর্মী রাস্তা অবরোধ করেন। পুলিশকে লক্ষ্য করে পেট্রোল বোমা ছোড়া হয়। বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্টের প্রাসাদের কাছেও জমায়েত হন।

পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গের চেষ্টা চালায়। মাদুরোর পূর্বসূরি ও তার মেন্টর হুগোর একটি মূর্তি ভেঙে রাস্তায় নিয়ে এসে তাতে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা। 

একজন বিক্ষোভকারী বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে বলেন, আমরা পরিবর্তন চাই। এই সরকারকে নিয়ে আমরা পরিশ্রান্ত। আমরা স্বাধীন ভেনেজুয়েলা চাই। আমরা চাই, আমাদের পরিবার এখানে ফিরে আসুক। 

আরেকজন বিক্ষোভকারী বলেন, আমরা দেশের গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করব। আমাদের কাছ থেকে ভোট চুরি করা হয়েছে।

সংবাদপত্রের রিপোর্ট বলছে. পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনী কড়া হাতে বিক্ষোভের মোকাবিলা করার চেষ্টা করেছে। এদিকে প্রেসিডেন্ট মাদুরো বলেছেন, আমরা এই চিত্রনাট্য আগেও দেখেছি। নিরাপত্তা বাহিনী শান্তিরক্ষা করবে অতি-বামেরা যে সহিংসতা করছে তার উপর নজর রাখা হচ্ছে। 

 

ইত্তেফাক/এসআর