শিক্ষার্থীদের কোটাবিরোধী আন্দোলনের প্রধান দাবি ছিল সরকারী চাকরীতে মেধা কোটা বাড়ানো। যেসব সমন্বয়কারী নেতৃবৃন্দ কোমলমতি শিক্ষার্থীদের রাজপথে নামিয়েছেন তারা নিজেদের মেধার যথার্থ পরিচয় দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। নেতৃবৃন্দ হাইকোর্টের আদেশ না বুঝে, গুজব ছড়িয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করে একতাবদ্ধ করতে সক্ষম হয়েছেন। দাবি আদায়ের নামে ছাত্র নামধারী অছাত্রদের সহিংসতা ও ধ্বংসযজ্ঞ কোনক্রমেই কাঙ্ক্ষিত ছিল না।
প্রধান বিচারপতি তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেন, 'শিক্ষার্থীরা গত ১০ জুলাই আপিল বিভাগের দেওয়া আদেশের অর্থ সঠিকভাবে অনুধাবন করতে পারেনি। ফলে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে। এতে ঝরে গেছে অনেক প্রাণ, যা মোটেই কাম্য ছিল না।' সংবিধানের ১০৪ অনুচ্ছেদের প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সুপ্রিম কোর্টে রায় দিয়েছেন। প্রধান বিচারপতি তাঁর পর্যবেক্ষণে আরও বলেন, এ সিদ্ধান্ত নির্বাহী বিভাগ নিলে আইনের ব্যত্যয় ঘটতো না।
যারা প্রধানমন্ত্রীকে আইনের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে কোটা সংস্কারের সিদ্ধান্ত নিতে দেরী করিয়েছেন তারা মূলত উদ্ভুত পরিস্হিতির জন্য দায়ী। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে আইনের সঠিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি, এ ব্যাপারে অনেক আইন বিশেষজ্ঞগণ অভিমত ব্যক্ত করেছেন। হাইকোর্টের রায়ের পর সরকারের নির্বাহী বিভাগ কোটা সংস্কার করে প্রজ্ঞাপন জারি করে দিলে ছাত্র আন্দোলন ও ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে অনুপ্রবেশকারীদের সহিংসতা করার কোন প্রেক্ষাপট তৈরি হতো না। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী অশুভ শক্তি একটি অরাজনৈতিক আন্দোলনকে রাজনৈতিক রূপ দেওয়ার সুযোগ পেতো না।
আগেভাগে কী করলে কি হতো বা না হতো সে বিতর্কে যেতে চাই না। তবে অনেকে বলার চেষ্টা করছেন, প্রথমদিকে শিক্ষার্থীদের অহিংস আন্দোলনকে শান্তিপূর্ণভাবে মোকাবিলা করতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ব্যর্থ হয়েছে। রাজনীতির দুষ্টচক্র কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মাঝে সন্ত্রাসী ঢুকিয়ে যখন সহিংসতা ও তাণ্ডবলীলায় মেতে উঠে তখন মাঠে ছিলেন না আওয়ামী লীগের বেশিরভাগ মন্ত্রী, এমপি, নেতাকর্মীরা। পরিস্থিতি ঘোলাটে দেখে কেউ কেউ অসুস্থতার কথা বলে পাড়ি জমিয়েছেন বিদেশে, কেউ ছিলেন হাসপাতালে। দায়িত্বশীল অনেক নেতারাও গা ঢাকা দিয়েছিলেন। সংকটের সময়ে নিজেদের মধ্যে ঐক্যবদ্ধ থাকার বদলে ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে আওয়ামী লীগের বিশাল কর্মীবাহিনী। তাণ্ডবের সময়ে যদি মন্ত্রী, এমপি ও আওয়ামী লীগ নেতারা কর্মীবাহিনী নিয়ে মাঠে থাকতেন তাহলে সন্ত্রাসীদের প্রতিরোধ করা সহ রক্ষা করা যেতো রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ ও স্থাপনাগুলো।
সরকারের এতসব পদক্ষেপ নেওয়া সত্ত্বেও সাইবার গুজব কেন মোকাবেলা করা গেল না? সত্য কথা তুলে ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার-প্রচারণা চালাতে না পারলে গুজবের ডালপালা তো বিস্তার লাভ করবেই। গুজবের পিছনে অনেক ঘটনা থাকে, স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা থাকে। একটি গুজব বারবার চোখের সামনে ভেসে আসলেও বেশিরভাগ লোক বলতে থাকলে তা একসময় সত্য বলে মনে হয়। শুধু দেশবাসীই নয়, বিশ্ববাসী দেখলো গুজব ছড়িয়ে আন্দোলনের নামে নিষ্ঠুরতা, বর্বরতা, সহিংসতা, তাণ্ডবলীলা, ভাঙচুর, নারীর শ্লীলতাহানি, অগ্নিসংযোগ, জ্বালাওপোড়াও এর মত নারকীয় সব দুর্ঘটনা।
আইসিটি মন্ত্রণালয়ের অধীন পেইড একহাজার সাইবার যোদ্ধারা এখন কে কোথায়? সরকারের পক্ষে ডিজিটাল ইনফ্লুয়েন্সার যাদেরকে দিয়ে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের প্রচার-প্রচারণা করার কথা তাদের এখন আর যোগাযোগমাধ্যমে দেখা যায় না। দুই-একজনকে দেখা গেলেও এখন তারা আবার সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলছে, স্ট্যাটাস দিচ্ছে!
শিক্ষার্থীদের মাঝে আন্দোলন দানা বাঁধার শুরুতেই হাইকোর্টের রায়ের সহজ-সরল ব্যখ্যা ছাত্রসমাজের মধ্যে বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া দরকার ছিল। সমন্বয়কারী ছাত্র নেতৃবৃন্দের সাথে সরকারের পক্ষ থেকে আলোচনার টেবিলে বসলে বিষয়টি সহসাই সমাধান হয়ে যেতো বলে মনে করেন ৯০ দশকে দলের দুঃসময়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে রাজপথে আন্দোলন সংগ্রামে থাকা অনেক নেতৃবৃন্দ ।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ৭৫ বছরের পুরানো একটি জনপ্রিয় রাজনৈতিক সংগঠন। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে কত বড়বড় আন্দোলন সংগ্রাম মোকাবেলা করে আসছে এ দলটি, আর সামান্য একটি অরাজনৈতিক ছাত্র আন্দোলন মোকাবিলা করতে হিমশিম খাচ্ছে ।
সেনাবাহিনী নামাতে হয়েছে, কারফিউ দিতে হয়েছে, অফিস, আদালত, স্কুল, কলেজ,বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করতে হয়েছে। আসলে বিষয়টা মোটেও সামান্য কোন ঘটনা নয়। আন্দোলনের প্রথম দিকে সামান্য মনে হলেও পরবর্তীতে ছাত্রদের পুঁজি করে দেশবিরোধী চক্র সহিংসতা ও তাণ্ডব চালিয়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চেয়েছে। সরকারের উন্নয়নও অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করতে চেয়েছে, দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করতে চেয়েছে, দেশের মধ্যে একটা অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করে বর্তমান সরকারকে উৎখাত করার অপচেষ্টা চালিয়েছে। সর্বোপরি মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ভুলণ্ঠিত করতে চেয়েছে।
যত ঘটনাই ঘটেছে সবই আইনের ভুল ব্যাখ্যা ও গুজবকে কেন্দ্র করে। 'Law is a strong common sense', সামান্য আইন বুঝতে আইনের ডিগ্রী নেওয়ার প্রয়োজন নেই। একটু পেছনে দৃষ্টি ফেরাতে চাই। ঘটনার প্রেক্ষাপট দিবালোকের মতো পরিষ্কার। ২০১৮ সালে পরিপত্র জারি করে সরকার কোটাপ্রথা বতিল করে দেয়। মুক্তিযোদ্ধার কয়েকজন সন্তান কোটা বাতিলের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট করেন। হাইকোর্ট কোটা রাখার পক্ষে রায় দেন। সরকার সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেন। আপিল করার অর্থ সরকার এ রায়ে সন্তুুষ্ট নয়। সরকার চায় ২০১৮ সালে তার জারিকৃত পরিপত্র অনুসারে কোটা বাতিল অথবা সংস্কার।
সরকারের পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টে আপিল ও বৈষম্য বিরোধী ছাত্রছাত্রীদের দাবি তো একই। সুপ্রিম কোর্টের ফুল বেঞ্চে শুনানীর আগ পযন্ত চেম্বার জজ স্হিতিবস্হা দেন। এর অর্থ হাইকোর্ট কোটার পক্ষে যে রায় দিয়েছেন তার কোন কার্যকারিতা নেই। শুধুমাত্র একমাসেরও কম সময় অপেক্ষার পালা ছিল সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানি ও আদেশের জন্য। এই অবস্থায় ছাত্রদের কোটা নিয়ে আন্দোলন করার কোনো যৌক্তিক কারণ ছিল না।
কারণ একটা থাকতে পারে। তা হলো সুপ্রিম কোর্টকে প্রভাবিত করা। কোটা নিয়ে বিশেষ করে মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়ে সুস্পষ্ট ধারণার অভাবে বেশিরভাগ শিক্ষার্থীরা রাজপথে নেমেছেন। বিসিএস প্রিলিমিনারি ও লিখিত পরীক্ষায় কোটা নেই। সবাইকে মেধার ভিত্তিতে পাশ করে ভাইবা বোর্ডে আসতে হয়। এখানে কে সাধারণ, কে মুক্তিযোদ্ধাসন্তান, কে কোন জেলার, কে মহিলা, কে পুরুষ, এর কোন মূল্য নেই। কোটাধারীরা যদি অ-মেধাবী হয় তাহলে তারা ভাইবা পর্যন্ত আসবে কীভাবে?
মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ৩০ শতাংশ কোটা থাকলেও প্রার্থী সংকট ও মেধা সংকটের কারণে তারা ৮ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশের বেশি নিয়োগ পান না। কোটা থাকার অর্থ এই নয় যে কোটায় নির্বাচিত প্রার্থী মেধাবী নয়। সরকারি চাকরিতে কোটা ইস্যু সামনে এনে মুক্তিযোদ্ধাদের পরিকল্পিতভাবে হেয় প্রতিপন্ন এবং মুক্তিযোদ্ধা ও তার সন্তানদের সাধারণ ছাত্রদের মুখোমুখি করা হয়েছে।
কোটা নিয়ে হাইকোর্টে দায়ের করা রিটের রায় গত ২১ জুলাই বাতিল করে দেন সুপ্রিম কোর্ট। পূর্বে কোটার হিসাব ও সুপ্রিম কোর্টের আদেশে কোটার হিসাবে অনেক সংস্কার ও পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। পূর্বে কোটা ছিল ৫৬ শতাংশ, বর্তমানে কোটা ৭ শতাংশ। পূর্বে মেধা কোটা ছিল ৪৪ শতাংশ, বর্তমানে মেধা কোটা ৯৩ শতাংশ,
পূর্বে মুক্তিযোদ্ধা কোটা ছিল ৩০ শতাংশ বর্তমানে মুক্তিযোদ্ধা কোটা ৫ শতাংশ। পূর্বে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য ৫ শতাংশ কোটা থাকলেও এখন তাদের জন্য কোটা
১ শতাংশ, প্রতিবন্ধীদের ও তৃতীয় লিঙ্গের জন্য পূর্বের কোটা ১ শতাংশই বহাল আাছে। পূর্বের জেলা কোটা ১০ শতাংশ ও নারী কোটা ১০ শতাংশ বাতিল করা হয়। সর্বোচ্চ আদালতের কোটা সংস্কার করে আদেশ প্রমাণ করে শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কারের দাবী কতোটা যৌক্তিক ছিল।
কোটা সংস্কার নিয়ে দেশের সর্বোচ্চ আদালত থেকে ছাত্ররা তাদের প্রত্যাশিত একটি রায় পেয়েছেন। সরকার প্রজ্ঞাপন জারি করেছেন ইতোমধ্যে। কোটা আন্দোলনের এখানেই যবনিকাপাত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আবার ছাত্রদের উপর ভর করতে চাচ্ছে একটি অশুভ শক্তি যারা সরকার পতন আন্দোলনের ডাক দিচ্ছে। সমন্বয়কারী নেতৃবৃন্দ বারবার বলার চেষ্টা করেছেন কোটা বিরোধী আন্দোলনের সাথে সহিংসতা ও সরকার পতন আন্দোলনের কোন সম্পর্ক নেই।
কোটা আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের মাঝে সন্ত্রাসী ঢুকিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী অপশক্তি লাশের রাজনীতি শুরু করে দিয়েছে। মানুষ মেরে ঝুলিয়ে রাখার মত নিষ্ঠুরতা। মেট্রোরেলের স্টেশন, বিটিভি ভবন, ত্রাণ অধিদপ্তর, সেতু ভবন, পুলিশ বক্সসহ ছোট বড় প্রায় সহস্রাধিক ভবন ও স্থাপনায় অগ্নিসংযোগের মত নারকীয় তাণ্ডবলীলা ঘটাানো হয়েছে। শুধুমাত্র গার্মেন্টস সেক্টরে দেশের ক্ষতি হয়েছে ৭৪০০ কোটি টাকা। দেশের সার্বিক আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ যে কত হবে তা এখনো নিরুপণ করা সম্ভব হয়নি। তারা শুধু রাষ্ট্রের ক্ষতি করেনি তারা নিজেদেরও ক্ষতি করেছে। কারন এসব রাষ্ট্রীয় সম্পদে প্রতিটা নাগরিকের অংশীদারিত্ব রয়েছে।
সরকারি হিসেবে সারাদেশে বিভিন্ন পেশার ১৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে। বেসরকারি হিসেবে এই সংখ্যা আরও বেশি হবে। শুধু পুলিশ বাহিনীর ১১৩১ জন আহত হয়েছেন ও ৩ জন নিহত হয়েছেন। সারাদেশে বিভিন্ন শ্রেণীপেশার চার সহস্রাধিক আহত হয়েছেন।
অশুভ শক্তিকে প্রতিরোধ করতে এগিয়ে এসেছেন দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাব, বিজেপিসহ প্রায় সকল আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। সন্ত্রাসীদের প্রতিরোধ করা শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীরই দায়িত্ব না প্রতিটি দেশপ্রেমিক নাগরিকের দায়িত্ব ও কর্তব্য। এসব দুষ্কৃতকারী ও নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীদের খুঁজে খুঁজে বের করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সোপর্দ করতে আমাদের সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসা উচিত বলে মনে করি। গুটি কয়েকজন সন্ত্রাসীর জন্য দেশের উন্নয়ন-অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হতে পারে না, দেশ ও জাতি ধ্বংস হতে পারে না। এদের কঠিন শাস্তি সুনিশ্চিত করা না গেলে এ ধরনের নৈরাজ্য বারবার ফিরে আসবে।
এ দেশ আমাদের, সম্পদ আমাদের। এ সম্পদ রক্ষা করার দায়িত্বও আমাদের।
রাজনীতির প্রধান লক্ষ্য জনসেবা। যেসব রাজনীতিবিদদের ইন্ধনে ও মদদে এ ধরনের সহিংসতা ঘটেছে, নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তারা দেশের মানুষের কী জনসেবা করবেন তা সহজেই অনুমেয়। বিদেশে বসে যারা দেশের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণা করেন, সহিংসতা করার ফরমান জারি করেন, দেশের মধ্যে অরাজকতা সৃষ্টি করার মদদ দেন তাদেরকে ধরে নিয়ে বিচারের সম্মুখীন করা সময়ের অনিবার্য দাবী। দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রকারী অশুভ চক্রের ডালপালা অনেক গভীরে। দেশের উন্নয়ন অগ্রগতি ও নিরাপত্তার স্বার্থে এর মূল উৎপাটন করা এখন সবার আগে প্রয়োজন।
সামরিক স্বৈরাচারী সরকারের বুটের তলায় পদপিষ্ট বাংলাদেশে নতুন করে রেনেসাঁর সূত্রপাত করেছিলেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। স্বজন হারানোর হাহাকার আর জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রাণপ্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশে ফিরে এসে হাল ধরেছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের, নতুন করে সূচনা করেন বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণের। অনেক ঘাম, শ্রম আর রক্তের বিনিময়ে আজ বাংলাদেশ অপার সম্ভাবনাময় দেশ এবং সমগ্র পৃথিবীব্যাপী উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত হয়েছে। কতিপয় সুযোগ সন্ধানী, সুবিধাবাদী, দুশ্চরিত্র, দুর্বৃত্তের জন্য যুগ যুগ ধরে তিল তিল করে অর্জিত বাংলাদেশের অর্জনকে কিছুতেই ভূলন্ঠিত হতে দেয়া যায় না।
বঙ্গবন্ধুর রক্ত এবং আদর্শের সুযোগ্য উত্তরাধিকার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আরও কঠোর হস্তে নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীদের মূল উৎপাটন করবেন ও সর্বাত্মক সংস্কার করে দুর্বৃত্তায়নের রাহুগ্রাস থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করবেন। বাংলাদেশের রাজনীতিকে করবেন পরিচ্ছন্ন ও পরিশুদ্ধ। বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা বঙ্গবন্ধুকন্যার হাতেই বাংলাদেশ আজ যে নিরাপদ তা বারেবারে প্রমাণিত। জননেত্রী শেখ হাসিনার সুনিপুণ নেতৃত্বে আগামীতে বাংলাদেশ হবে সন্ত্রাসমুক্ত, দুর্নীতিবাজমুক্ত, রাজাকারমুক্ত ও জঙ্গিমুক্ত। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ বাংলাদেশ দেখতে চায় তরুণ প্রজন্ম।
প্রধানমন্ত্রীর সুযোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ হবে বিশ্বের বুকে উন্নয়নের অগ্রপথিক এবং পৃথিবীর কল্যাণ রাষ্ট্রের এক অনুকরণীয় উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, এই প্রত্যাশা আজ আমাদের সবার। রক্তের দামে কেনা বাংলাদেশের অগ্রগতি ও উন্নয়নকে অশুভ শক্তি থামাতে পারেনি, কখনো পারবেও না।
লেখক: ফিকামলি তত্ত্বের জনক; গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক; প্রেসিডিয়াম সদস্য, বঙ্গবন্ধু পরিষদ

