খুলনায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশ কনস্টেবল হত্যা, সরকারি কাজে বাধা প্রদান এবং নাশকতার ঘটনায় প্রায় ৭ হাজার জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত শুক্রবার রাতে নগরীর খুলনা সদর থানা, হরিণটানা থানা ও লবণচরা থানায় পৃথকভাবে এ মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় হরিণটানা থানায় সর্বোচ্চ ৪ হাজার জন থেকে ৫ হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত শুক্রবার থেকে রাত প্রায় ১০টা পর্যন্ত খুলনা মহানগরীর গল্লামারী ও জিরো পয়েন্টসহ বিভিন্ন জায়গায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে পুলিশ কনস্টেবল সুমন কুমার ঘরামি নিহত এবং আরও ২০-৩০ জন আহত হয়। এছাড়া তারা পুলিশের গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়াসহ সরকারি কাজে বাধা প্রদান ও নাশকতার ঘটনা ঘটায়। এ ঘটনায় নগরীর লবণচরা থানার সহকারী পরিদর্শক (এসআই) মোস্তফা সাকলাইন বাদী হয়ে অজ্ঞাত ১ হাজার ২০০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
লবণচরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমতাজুল হক বলেন, গতকাল শনিবার পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেফতার করা হয়নি।
খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন খান বলেন, পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা প্রদান ও নাশকতার অভিযোগে অজ্ঞাত ৫০০ জন থেকে ৬০০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
কনস্টেবল সুমনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত পুলিশ কনস্টেবল সুমন কুমার ঘরামির মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। গতকাল শনিবার খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে সুমন কুমার ঘরামির মরদেহ কেএমপির পুলিশ লাইনে নেওয়া হয়। সেখানে গার্ড অব অনার শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এ সময় কেএমপি কমিশনার মো. মোজাম্মেল হক, অতিরিক্ত কমিশনার সরদার রকিবুল ইসলাম ও তাসলিমা খাতুনসহ পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
