গোলাপগঞ্জে গুলিতে দুইজন নিহত, লাশ নিয়ে বিক্ষোভ

আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০২৪, ১৭:৩২

সিলেটের গোলাপগঞ্জে গুলিতে দুইজন নিহত হয়েছেন। দুই জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গোলাপগঞ্জ উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. শাহিন আহমদ।  রোববার (৪ আগস্ট) বেলা আড়াইটার দিকে গোলাপগঞ্জ পৌর এলাকার ধারাবহরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন ধারাবহর গ্রামের মো. মকবুল আলীর ছেলে ব্যবসায়ী তাজ উদ্দিন (৪৩) ও উপজেলার শিলঘাটের বাসিন্দা সানি আহমদ (১৮)।

এদিকে তাজ উদ্দিনের লাশ নিয়ে পৌরশহরে এসে ধারাবহর এলাকাবাসী বিক্ষোভ মিছিল করেন। বিকাল সাড়ে ৪টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত গোলাপগঞ্জ পৌরশহরসহ বিভিন্ন এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

দুপুরে গোলাপগঞ্জের ঢাকা দক্ষিণ ডিগ্রি কলেজের সামনে থেকে ছাত্র-জনতা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করলে তাদের সরিয়ে দিতে চায় পুলিশ। এক পর্যায়ে পুলিশ ও বিজিবির সঙ্গে ছাত্র-জনতার সংঘর্ষ বাধে। এ সময়  বিভিন্ন মসজিদে ঘোষণা দিয়ে এলাকাবাসী জড়ো হয়।

প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে পুলিশ-বিজিবি গুলি, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করতে থাকে এবং ছাত্র-জনতা ও এলাকাবাসী পুলিশ-বিজির দিকে ইট-পাটকেল ছোড়ে। এক পর্যায়ে সংঘর্ষ গোলাপগঞ্জ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। বেলা ২টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে কিছু মানুষ জড়ো হলে সেখানে উত্তেজনা দেখা দেয়। এ সময় গুলি বিদ্ধ হন তাজউদ্দিন ও সানি আহমদ। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

সরকার পতনের একদফা দাবিতে রোববার থেকে অনির্দিষ্টকালের সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলন কর্মসূচি পালনে বেলা সাড়ে ১১টা থেকে সড়কে নেমেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। দুপুর ১২টার দিকে সিলেট মহানগরের কোর্ট পয়েন্টে পুলিশ-আন্দোলনকারী পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার পর সংঘর্ষ হয়। দুপুর ১টা থেকে জিন্দাবাজার, চৌহাট্টা, বারুতখানা, জেলরোড, হাওয়াপাড়া, মিরবক্সটুলা, নয়াসড়ক ও আম্বরখানাসহ বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেয় আন্দোলনকারীরা। সড়ক ব্যারিকেড দিয়ে তারা যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। অপরদিকে, বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা সশস্ত্র অবস্থান নেন।

ইত্তেফাক/এসকে