বিশ্বকাপে দলের পারফরম্যান্সে হতাশ যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাংলাদেশিরা। বিশেষ করে ভারত ও পাকিস্তানের সঙ্গে শেষ দুই ম্যাচে পরাজয় মেনে নিতে পারছেন না তারা। বিরাট কোহলি ও সরফরাজ আহমেদদের হারাতে পারলে সেমিফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা টিকে থাকত মাশরাফিদের। তাছাড়া ভারত, পাকিস্তানের সঙ্গে খেলাকে সবসময় মর্যাদার লড়াই হিসেবে দেখা হয়। সবদিক থেকেই শেষ দুই ম্যাচ ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। মর্যাদার লড়াইয়ে হেরে সেমিফাইনালের রেস থেকে সরে দাঁড়াতে হয়েছে। এক রাশ হতাশা নিয়ে টিম ফিরে গেছে দেশে।
ইংল্যান্ডের কেন্ট এলাকায় বেশ কয়েকজন প্রবাসী বাংলাদেশির সঙ্গে কথা হয় এ ব্যাপারে। গত দেড় মাস ধরে বিশ্বকাপ নিয়েই সময় কেটেছে তাদের। বাংলাদেশের সবগুলো ম্যাচই তারা সরাসরি মাঠে গিয়ে কিংবা টেলিভিশনের সামনে বসে দেখেছেন।
বিক্রমপুরের এহসান আহমেদ মিষ্টি জানালেন, দল সেমিফাইনালে উঠতে না পারায় তিনি খুবই হতাশ। লর্ডসে পাকিস্তানের সঙ্গে শেষ ম্যাচটি তাই রাগ করে দেখতে যাননি। টিকিট বিক্রি করে ফেলেছিলেন। পরিবার নিয়ে লন্ডনের ওভাল এলাকায় থাকেন সিলেটের জিলান। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের খেলায় কোনো ধারাবাহিকতা ছিল না। একটা ম্যাচে জিতলে পরেরটায় আবার হেরেছে।’ চট্টগ্রামের রানা বলেন, ‘বাংলাদেশ সাকিব নির্ভর দলে পরিণত হয়েছে। সাকিব ভালো না খেললে এই বিশ্বকাপে আমাদেরকে আরো লজ্জায় ডুবতে হতো।’
অনেক অতৃপ্তির মাঝেও বাংলাদেশের সামগ্রিক পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট রফিকুল আজগর লস্কর নামে জিলিংহাম এলাকার এক ব্যবসায়ী। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের খেলা অনেক এন্টারটেইনিং। সাকিব, মোস্তাফিজ, মুশফিকের খেলা আমাদের মন ভরিয়ে দিয়েছে।’
রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী জহির কোনোমতেই প্রিয় মাশরাফির বিশ্বকাপ ক্রিকেট থেকে অবসর দেখতে চান না। তার ধারণা, রাজনীতিতে বেশি সময় দিতে চান বলেই মাশরাফি খেলা থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিতে চান। কিন্তু মাশরাফিকে আমরা আরো অনেক বছর বাংলাদেশ টিমে দেখতে চাই।
লর্ডসে পাকিস্তানের সঙ্গে শেষ ম্যাচ চলাকালে আশপাশের ফুটপাতে পতাকা, জার্সি, টুপিসহ অনেক ধরনের পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসা কয়েকজন বিক্রেতার সঙ্গে এই প্রতিবেদকের কথা হয়। বাংলাদেশের বিদায়ে তারাও অনেকটাই হতাশ। নীনা নামে এক মেক্সিকান দোকানি বলেন, ‘বাংলাদেশের সমর্থকরা খুব মজা করে ক্রিকেট খেলা দেখে। তাই আজ অনেক পতাকা, জার্সি নিয়ে এসেছিলাম ভালো বিক্রির আশায়। কিন্তু আজ মাঠে আশানুরূপ দর্শক আসেননি।’
বার্মিংহামের হ্যাগলি রোডের একটি আবাসিক হোটেলের মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘যুক্তরাজ্যে ভারত ও পাকিস্তানিরা সবক্ষেত্রেই বেশি দাপট দেখাতে চায়। তাদেরকে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠতে পারলে প্রবাসী বাংলাদেশিদের গর্বের সীমা থাকত না।’
