হংকংয়ের প্রত্যর্পণ বিলের ‘মৃত্যু’ হয়েছে :ক্যারি লাম

আপডেট : ০৯ জুলাই ২০১৯, ২১:৪০

চীনের মূল ভূখণ্ডে প্রত্যর্পণের সুযোগ রেখে প্রস্তাব করা বিতর্কিত বিলটির ‘মৃত্যু’ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী ক্যারি লাম। মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এ বিল নিয়ে সরকারের কাজ ‘পুরোপুরি ব্যর্থতায়’ পর্যবসিত হয়েছে। তবে প্রতিবাদকারীদের দাবি অনুযায়ী বিলটি ‘পুরোপুরি প্রত্যাহার’ করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি কিছু বলেননি।

এ বিলকে কেন্দ্র করে হংকংয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে অস্থিরতা বিরাজ করছিল। অস্থিরতা চলার মধ্যেই সরকার বিলটি অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করে। সংবাদ সম্মেলনে লাম বলেন, ‘সরকারের আন্তরিকতা নিয়ে সন্দেহ এবং সরকার আইন পরিষদে প্রক্রিয়াটি আবার শুরু করবে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ এখনো রয়ে গেছে। তাই আমি এখানে আবার বলছি, এ ধরনের কোনো পরিকল্পনা নেই। বিলটি মৃত।’ এর আগে তিনি বলেছিলেন, ২০২০ সালে বর্তমান আইন পরিষদের মেয়াদ শেষে বিলটি ‘মারা যাবে’। 

এ বিলটি হংকংয়ের বিচার সংক্রান্ত স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করতে পারে এবং বেইজিংয়ের চীন সরকারের সমালোচকদের বিরুদ্ধে ব্যবহূত হতে পারে বলে বিরোধীরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। সাবেক ব্রিটিশ উপনিবেশ হংকং চীনের অংশ হলেও ‘এক দেশ, দুই পদ্ধতিতে’ পরিচালিত হয় এবং একটা পর্যায় পর্যন্ত স্বায়ত্তশাসন ভোগ করে। হংকংয়ের নিজস্ব বিচার ব্যবস্থা ও চীনের মূল ভূখণ্ড থেকে পৃথক আইনি ব্যবস্থা আছে।

২০১৮ সালের এক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিলটি তৈরি করা হয়। তাইওয়ানে ছুটি কাটানোর সময় অন্তঃসত্ত্বা বান্ধবীকে হত্যার অভিযোগ ওঠে হংকংয়ের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। কিন্তু তাইওয়ানের সঙ্গে হংকংয়ের বন্দি বিনিময়ের কোনো চুক্তি না থাকায় সেই ব্যক্তিকে এখন তাইপেতে বিচারের জন্য পাঠানো যাচ্ছে না। কিন্তু এখন তাইওয়ানও জানিয়েছে, সন্দেহভাজন সেই খুনের মামলার আসামিকে ফেরত নিতে চায় না তারা। কেন না এটি এমন এক উদাহরণ তৈরি করবে; যা চীন ভবিষ্যতে কাজে লাগাতে পারে।

হংকং সরকার মধ্য জুনে প্রস্তাবিত বিলটি স্থগিত করার পরও প্রতিবাদ বিক্ষোভ চলতে থাকে। প্রতিবাদ কখনো কখনো সহিংসও হয়ে ওঠে। ১ জুলাইয়ে প্রতিবাদকারীরা কয়েক ঘণ্টা ধরে হংকংয়ের পার্লামেন্ট অবরোধ করে রাখার একপর্যায়ে পার্লামেন্টের কেন্দ্রীয় চেম্বারে ঢুকে পড়ে ভাঙচুর চালায়। অনেক বিক্ষোভকারী লামের পদত্যাগও দাবি করেন। বিলটি নিয়ে তাদের উদ্বেগ তুলে ধরতে ৭ জুলাই মূল ভূখণ্ডের চীনা পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় হংকংয়ের এমন একটি এলাকায় কয়েক হাজার প্রতিবাদকারী সমাবেশ করেছিল।